এ বারের দিওয়ালিতে কেনার মতো ৫টি স্টক

0
Diwali
প্রতীকী ছবি

ওয়েবডেস্ক: শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীরা দিওয়ালির সময় স্টক কেনাকাটাকে শুভ বলেই মনে করেন। বিশেষ করে দিওয়ালির সময় লক্ষ্মীপুজোয় স্টক কেনার আগ্রহ অনেক বেশি। ক্রেতার চাহিদা মেটাতে স্টক এক্সচেঞ্জ এই সময়েই পরবর্তী বছরের মহরত ট্রেডিংয়ের আয়োজন করে। আগামী ২৭ অক্টোবর সেই মহরত ট্রেডিং।

এখানে না চাইলেও যে প্রসঙ্গটি উঠে আসে তা হল ধর্মীয় বিশ্বাস। অর্থাৎ, ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে শেয়ার বাজারে স্টকের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না! কিন্তু বাজারের অধিকাংশ বিনিয়োগকারীর এই আবেগ এই বিশেষ দিনটিকে যে আকর্ষণীয় করে তুলেছে,তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কোনো স্টকেই বিনিয়োগে গ্যারান্টি নেই লক্ষ্মীলাভ হবেই, তবুও পরিসংখ্যান এবং বাজারের হালহকিকত থেকে বেছে নেওয়া হল তেমনই পাঁচটি স্টককে, যেগুলি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য লাভদায়ক হয়ে উঠতে পারে।

১. বার্জার পেন্টস

দেশের পেন্টস শিল্পগুলি গত কয়েক বছরে বেশ উন্নতিলাভ করেছে। আগামী দিনেও নির্মাণশিল্পের অগ্রগতি এবং নতুন নতুন শহর গড়ে ওঠা ও শহরের বিস্তৃতির ফলে রঙ শিল্পের প্রভূত উন্নতি ঘটার যাবতীয় উপকরণ মজুত রয়েছে।

নতুন বাড়ির পাশাপাশি পুরনো বাড়িতে ক্রেতার রঙের চাহিদা মেটাতে বার্জার দেশ জুড়ে ডিলার সম্প্রসারণ করছে। স্বাভাবিক ভাবে তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে বার্জারের বিক্রির শক্তি। অন্য দিকে স্টকের টেকনিক্যাল ফ্যাক্টরগুলিও যথেষ্ট ক্ষমতা প্রদর্শন করছে। গত ১১ মাস ধরে একত্রীকরণের পর বার্জারের স্টক এখন বুলিশ। যা বিনিয়োগকারীর প্রত্যাশা পূরণে সহায়ক হতে পারে।

২. এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক

শেয়ারের দামের সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগমনের অনুপাত বেড়ে যাওযা সত্ত্বেও, বিভিন্ন বিশ্লেষক সংস্থা এইচডিএফসির মধ্যে আগামী দিনের লাভদায়ক ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছে। এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের বেশ কিছু খুচরো ফোকাস, শক্ত অবস্থান, বৃহৎ শাখা নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যকর ব্যালেন্স শিট, উচ্চতর সম্পদের মান এবং দক্ষ পরিচালনার কারণে এর স্টকের উপর বাজি ধরার পরামর্শ দিচ্ছে।

তাদের মতে, এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের মতো শক্তিশালী খুচরো ব্যাঙ্কগুলিকে বিশেষ করে এনবিএফসির তৈরি করা শূন্যস্তান থেকে বাজারের আরও শেয়ার অর্জন করতে সক্ষম হওয়া উচিত। এই পরিস্থিতি থেকে উপকৃত হতে এবং ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি বাড়াতে, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক আমানত সংগ্রহের দিকে মনোনিবেশ করছে, এটি তার দীর্ঘমেয়াদী বৃদ্ধির জন্য বেশ কার্যকরী হতে পারে। এইচডিএফসির মার্জিন পরিচালনা এবং শক্তিশালী রিটার্ন অনুপাতের সঙ্গে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করতে পারে।

৩. লারসেন অ্যান্ড টুব্রো

চলমান সমষ্টিগত অর্থনৈতিক মন্দার কারণে নির্মাণ শিল্পে ছোটো পুঁজির পণ্য এখন তীব্র লড়াই করছে, উল্টো দিকে লারসেন অ্যান্ড টুব্রোর মতো শক্তিশালী সংস্থাগুলি এতে উপকৃতই হচ্ছে। এ রকম পরিবেশে শক্তিশালী সংস্থার সঙ্গে থাকাতেই গ্রাহকের বেশি পছন্দ। একই সঙ্গে বাজারের মাঝারি আকারের সংস্থার শূন্যস্থানে অংশটিও অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে লারসেন ও টুব্রো ।

এই সংস্থার প্রবৃদ্ধি থেকে বিশ্লেষকরা বলছেন, লারসেন এবং টুব্রো ২০১৯-২০ সালের জন্য ১০-১২% এর অর্ডার প্রবাহ অর্জন করতে সক্ষম হতে পারে। যে কারণে, আগামী বছরগুলিতে আয়ের জন্য সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। ব্যয় হ্রাস এবং কার্যনির্বাহী মূলধন পরিচালনার উপর পরিচালিত মনোযোগী পদক্ষেপের কারণে এর রিটার্নের অনুপাতও আগামী বছরগুলিতে উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেই নিরিখে এবং সংস্থার সাম্প্রতিক অতীতের পরিসংখ্যান থেকে এমনটাও ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ২০২০-২১ অর্থবর্ষে ইক্যুইটি রিটার্ন (আরওই) ১৮ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

৪. পিডিলাইট ইন্ডাস্ট্রিজ

ফেভিকলের নির্মাতা পিডিলাইট ইন্ডাস্ট্রিজ হল ভারতের বৃহত্তম আঠা উৎপাদক সংস্থা। ক্রেতার কাছে সংস্থার স্বীকৃত ব্র্যান্ডগুলির জনপ্রিয়তার কারণে, পিডিলাইট অতীতে শক্তিশালী লাভ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছিল। পিডিলাইটের বৃদ্ধির কৌশলটির ভিত্তি হল ডিলারের নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি এবং ছোটো শহরগুলিতে পৌঁছানো। এই কৌশলের উপর নির্ভর করেই নির্মাণশিল্পে চলমান মন্দা সত্ত্বেও পিডিলাইট তার রাজস্ব বৃদ্ধি বজায় রাখতে সক্ষম হয়।

পিডিলাইট গত ১০ বছরে তার অপারেটিং মার্জিন ৭০০ বিপিএস বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। সংস্থার সুদক্ষ ব্যবস্থাপক টিম শক্তিশালী ব্র্যান্ডের বাজারিকরণ, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, উৎপাদন ও বিপণনের দক্ষতা বৃদ্ধি ইত্যাদির উপর জোর দিয়ে পিডিলাইটকে এই উন্নতি অর্জনে সহায়তা করেছে। এমনটাও ধারণা করা হচ্ছে, কর্পোরেট করের হারের সাম্প্রতিক হ্রাস পিডিলাইটের মতো সংস্থাগুলিকেও উপকৃত করবে।

৫. আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক

আগ্রাসী ঋণ পুনরুদ্ধার কৌশল হিসাবে  স্ট্রেসড ঋণের ব্যাপারে কঠোর ব্যাবস্থা নিয়ে কর্পোরেট ভিত্তিক ব্যাঙ্কগুলির মধ্যে, স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া, আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক এবং অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক থেকে সর্বাধিক আয়ের টার্নরাউন্ড প্রত্যাশিত ছিলই। যেমন আইসিআইসিআইআই ব্যাঙ্কের নেট স্ট্রেসড ঋণ (এনপিএ বাদে) এখন কমে দাঁড়িয়েছে ২.৯%, উল্টো দিকে এর প্রভিশন কভারেজ রেশিও (পিসিআর) উন্নত হয়েছে ৭৪.১%। আগ্রাসী ঋণ পুনরুদ্ধার কৌশল এবং এর খুচরো ঋণ মিশ্রণের অংশীদারিত্বের কারণে সম্পদের গুণগতমানের উন্নতিও ঘটছে প্রায় ৬০%-এর উপরে রয়েছে।

সরকার এবং আরবিআইয়ের কিছু পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও, দ্বিতীয় পর্যায়ের এনবিএফসি এখনও লিক্যুইডিটি সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে এবং এটি আইসিসিআই ব্যাঙ্কের মতো বিস্তৃত শাখা নেটওয়ার্কগুলির সঙ্গে যুক্ত ব্যাঙ্কগুলির খুচরো ঋণের বাজার অংশীদারিত্ব বৃদ্ধিত সহায়তা করছে। সব মিলিয়ে সুদের হার এবং ক্রেডিট সংযোজন সামগ্রিকভাবে এই ধরনের ব্যাঙ্কগুলির পক্ষে ভালো এবং এটি আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের মতো শক্তিশালী ব্যাঙ্কের ইক্যুইটির উপর তাদের রিটার্নকে আরও উন্নত করতে সহায়তা করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here