ঘোষণা করতে হবে সম্পদ, মানতে হবে নয়া নিয়ম, ক্রিপ্টোকারেন্সি মালিকদের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার চিন্তা করছে কেন্দ্র

0

নয়াদিল্লি: এ বার সম্পদ ঘোষণা করতে হবে ভারতীয় ক্রিপ্টোকারেন্সি মালিকদের। পাশাপাশি মেনে চলতে হবে আসন্ন নতুন নিয়ম। এ সবের জন্য একটা সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। সংশ্লিষ্ট মহলের মন্তব্য উদ্ধৃত করে এমনটাই বলা হয়েছে ব্লুমবার্গের রিপোর্টে। উল্লেখযোগ্য ভাবে, ক্রিপ্টোকারেন্সি তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ করার জন্য দায়িত্ব বর্তাতে পারে ভারতীয় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড (SEBI)-এর উপর। ক্রিপ্টোকারেন্সিকেও সম্ভাব্য ভাবে একটি আর্থিক সম্পদ হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়েই এই পরিকল্পনা।

সম্প্রতি ক্রিপ্টো সম্পদ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বৈঠকে বসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা। জানা যায়, ওই বৈঠকে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যেমন, ডিজিট্যাল মুদ্রার ক্ষেত্রে ক্রিপ্টোকারেন্সির পরিবর্তে ‘ক্রিপ্টো অ্যাসেট’ শব্দটি ব্যবহার করা হবে। সেই সঙ্গে সরকার এবং আরবিআই-এর সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক ডিজিটাল কারেন্সি (CBDC)-র সঙ্গে যে ক্রিপ্টোর স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে, সেটাও নির্দিষ্ট করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বছরের শুরুতে এর পাইলট প্রকল্প চালু হবে।

আইন লঙ্ঘনে শাস্তি

ব্লুমবার্গ আরও জানিয়েছে, কোনো নিয়ম লঙ্ঘনের শাস্তি হিসাবে, ২০ কোটি টাকা বা প্রায় ২.৭ মিলিয়ন ডলার আর্থিক জরিমানা বা দেড় বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব রাখা হতে পারে। ছোটো বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার জন্য ক্রিপ্টো সম্পদগুলিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি ন্যূনতম প্রান্তিক বা সীমা নির্ধারণের কাজও চলছে।

এমনিতে সরকারের মতোই মুকেশ অম্বানি-সহ অনেক বিখ্যাত শিল্পপতি ক্রিপ্টোকারেন্সি অর্থাৎ ব্লকচেনের অন্তর্নিহিত প্রযুক্তির উপর অত্যন্ত উৎসাহী। তবে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, দেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করার কোনো সক্রিয় পরিকল্পনা নেই সরকারের। এমনকী, আইন নিয়ে এসে এটাকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথাও প্রাথমিক পরিকল্পনার অঙ্গ নয়, শুধুমাত্র নিয়ন্ত্রণের কৌশল নিয়েই এগোচ্ছে সরকার।

একটি বেসরকারি সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজার দ্রুতগতিতে বাড়ছে। ২০২১ সালে যা ৬৪১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই সংস্থার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২১ সালের গ্লোবাল ক্রিপ্টো অ্যাডপশন ইনডেক্স অনুসারে সবচেয়ে ‘ক্রিপ্টো-সচেতন’ দেশ হিসেবে ভারত বিশ্বের সপ্তম স্থানে রয়েছে। ১৫৪টি দেশের মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সি মালিকের সংখ্যার দিক থেকেও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত।

বলে রাখা ভালো, সংসদের চলমান শীতকালীন অধিবেশনে সরকারি প্রস্তাবনার অংশ হিসাবে ‘দ্য ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যান্ড রেগুলেশন অব অফিশিয়াল ডিজিটাল কারেন্সি বিল, ২০২১’ আনছে কেন্দ্র। বর্তমানে, ক্রিপ্টোকারেন্সির উপর দেশে কোনো নিয়ন্ত্রণ বা নিষেধাজ্ঞা নেই। সাম্প্রতিক কালে হইহই করে ভারতের বাজারে ঢুকে পড়েছে এই ডিজিট্যাল মুদ্রা। কোনো রকম সরকারি বিধিনিষেধ না থাকায় বিজ্ঞাপনে আকাশছোঁয়া মুনাফার ঘনঘটা। বিশেষজ্ঞরা বার বার সতর্ক করছেন, এর ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত হতে পারেন মানুষ। বিল এনে সেটাই নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে কেন্দ্র।

আয়কর আইনে সংশোধনীর প্রস্তাব

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভারতের ভিতরে এবং বাইরে ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে আয় এবং বিনিয়োগ নজরে রাখতে চায় কেন্দ্র। আয়কর আইনের ২৬এ ধারা এবং বার্ষিক তথ্য বিধি (এআইআর) সংশোধন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যা একজন করদাতার সমস্ত বিনিয়োগের তথ্য তুলে ধরে, যেটিকে ‘ট্যাক্স পাসবুক’ বলা হয়।

বিষয়টির সঙ্গে সম্পর্কিত এক ব্যক্তির মন্তব্য উদ্ধৃত করে ইকনোমিক্স টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “আয়কর আইনের কিছু অংশে ক্রিপ্টোকারেন্সি, ক্রিপ্টো অ্যাসেট বা ডিজিট্যল কারেন্সি শব্দগুলি যোগ করার একটি প্রস্তাব রয়েছে। অর্থাৎ, যাঁরা আয়কর রিটার্ন দাখিল করছেন, তাঁদের বিশেষ ভাবে ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগ বা ট্রেডিং থেকে নিজের আয়ের হিসেবেও জানাতে হবে”।

বিস্তারিত পড়ুন এখানে: ক্রিপ্টোকারেন্সিতে জুড়ছে আয়কর আইন, তোড়জোড় কেন্দ্রের

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন