এই কঠিন সময়ে এলআইসি পলিসি কতটা জরুরি?

0

ওয়েবডেস্ক: সময়ের থেকেও দ্রুত গতিতে বদলে যাচ্ছে জীবনযাপনের পদ্ধতি। করোনাভাইরাস মহামারি (Coronavirus pandemic) আর্থ-সামাজিক অবস্থানকে এক ঝটকায় আমূল বদলে দিয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই উঠে আসছে এলআইসির মতো জীবন বিমা পলিসির (Life insurance policy) প্রয়োজনীয়তা।

স্বাভাবিক জীবনে সাধারণ মানুষের জীবনের লক্ষ্য বা চাহিদা বলতে যা বোঝায়, সেগুলি পূরণেরও ফুরসত মিলছে না এই ‘নিউ নর্মাল লাইফে’-এ। এখন সম্পদবৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষার থেকে অনেক বেশি বড়ো হয়ে উঠেছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ চাহিদাগুলো। কিন্তু পরিবারের নির্ভরশীল ব্যক্তির যদি তেমন কিছু হয়ে যায়?

স্বাভাবিক জীবনের চাহিদা

এমনিতে যে কোনো মানুষেরই দীর্ঘমেয়াদি চাহিদার তালিকায় থাকে সময় মতো বিয়ে, একটা বাড়ি, গাড়ি কেনা, সন্তানসন্ততির পড়াশোনা ইত্যাদি। কিন্তু এই বিষয়গুলিকে যতটা অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, ততটা বোধহয় গুরুত্ব পায় না জীবনের জন্য নিরাপত্তা বা জীবনবিমা করানোর প্রবণতা।

সাধারণ কথায়, জীবনবিমা এমন একটি বিনিয়োগ পদ্ধতি, যা আর্থিক ভাবে আপনার এবং আপনার পরিবারকে অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে সুরক্ষিত করে। এটি এমন একটি সুরক্ষা বলয়, যা আপনার উপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের আর্থিক চাহিদাগুলির যত্ন নেয়, ভবিষ্যতে যদি তেমন কিছু ঘটে যায়।

জীবন বিমা কেন?

জীবন বিমা আদতে একটি বিনিয়োগের মৌলিক মাধ্যম। যেটির মালিক বিনিয়োগকারী নিজেই। তবে মেয়াদ পূরণের টাকা ব্যক্তিগত ভাবে ভোগ করার নিশ্চয়তা অনেক ক্ষেত্রেই না মিললেও নির্ভরশীলদের জন্য তা যথেষ্ট সহায়ক। যদিও বিমায় বিনিয়োগ করে বিশাল অঙ্কের নগদ টাকা ফেরত পাওয়ার তেমন কোনো সম্ভাবনা কম। কিন্তু বিমায় বিনিয়োগ করেও সম্পদশালী হয়ে ওঠার নজির অংসখ্য রয়েছে।

ফলে এক দিকে নিরাপত্তা অন্য দিকে সম্পদশালী হয়ে ওঠার উভয় সুযোগই রয়েছে জীবন বিমায়। মৃত্যু নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ দেখে আসে না। আবার কোনো দুর্ঘটনাজনিত পলিসির মেয়াদ পূরণের পর, সেই টাকায় নতুন করে কোনো ব্যবসা শুরু করছেন কোনো পলিসি হোল্ডার, এমন নজিরও কম নয়। সেটা সম্ভব না হলেও নিজের অবর্তমানে পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের জন্য জীবন বিমার মতো ভবিষ্যৎ নিশ্চয়তা আর কোথায় আছে?

এলআইসি কেন?

এ প্রশ্নের উত্তর দীর্ঘায়িত। তবে সংক্ষেপে বলা যায়, বিশ্বাস, আস্থা, ভরসা যাই বলা হোক না কেন, লাইফ ইন্সুরেন্স কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (Life Insurance Corporation of India) বা এলআইসি (LICIndia)-র একমাত্র বিকল্প এই সংস্থা নিজেই।

অন্য দিকে রয়েছে ক্লেম সেটলমেন্টের ইতিবাচর অনুপাত। বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্সুরেন্স রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া (IRDAI)-এর ২০১৮-১৯ সালে প্রতিবেদন অনুযায়ী, এলআইসিতে ডেথ ক্লেম সেটলমেন্ট রেশিও ৯৭.৭৯ শতাংশ। যা চমকে দেয় অন্য়ান্য সরকারি-বেসরকারি বিমা সংস্থার সেটলমেন্ট রেশিও-কে।

করোনায় এলআইসির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

করোনা সংকটে সমস্ত সংস্থায় নিজের মতো করে এগিয়ে এসেছে দুর্গতদের সাহায্যে। তবে এলআইসি যখন জীবন বিমা সংস্থা, সে ক্ষেত্রে সমাজের প্রতি তাদের দায়িত্ব থেকেই যায়।

এলআইসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর টিসি সুশীল কুমার সম্প্রতি জানান, “কোভিড-১৯ (Covid-19) মৃত পলিসি হোল্ডারের পরিবার ক্লেম করার আগেই আমরা স্বত:প্রণোদিত হয়ে সেটলমেন্টের উদ্যোগ নিচ্ছি। সরকারি উৎস থেকে আমরা করোনায় মৃতদের তালিকা পেয়েছি। যখন দেখছি, এই রোগে কোনো মৃত ব্যক্তির এলআইসি পলিসি রয়েছে, তখন আমরা তাঁদের শনাক্ত করার পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমাদের তথ্য যাচাই করতে মৃত ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে দেখা করছি। আমরা এখনও পর্যন্ত কয়েক হাজার পরিবারের সঙ্গে এ ভাবেই যোগাযোগ করে দাবিগুলি নিষ্পত্তি করছি”।

শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখেই কাজ চলছে এলআইসির সমস্ত অফিসে। একই সঙ্গে প্রিমিয়াম জমা নেওয়ার জন্য স্থায়ী ক্যাশ কাউন্টার ছাড়াও প্রিমিয়াম পয়েন্ট খোলা হয়েছে।

সংস্থার একটি পরিসংখ্যান বলছে, চলতি ২০২০-২১ আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে অনলাইন লেনদেন বেড়েছে ৫০ শতাংশ। অন্য দিকে সংস্থার ৭০ শতাংশের বেশি প্রিমিয়াম জমা নেওয়া হয়েছে ব্রাঞ্চের বাইরে ওই প্রিমিয়াম পয়েন্টের মাধ্যমে।

সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সংস্থার তরফে ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে, ‘সবসে পহলে লাইফ ইন্সুরেন্স প্রচার অভিযান’। অন্য দিকে উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রটিকেও প্রসারিত করা হয়েছে। একাধিক পলিসি বিক্রি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে অনলাইনে। ব্যবহৃত হচ্ছে ভিডিও কল এবং ভিডিও কনফারেন্সিং।

হতে পারে কেরিয়ার

বর্তমান পরিস্থিতিতে যখন কর্মীছাঁটাই প্রকট হয়ে উঠেছে, তখন তরুণ সম্প্রদায়ের কাছে আশার আলো দেখাচ্ছে এলআইসি।

গত এপ্রিল-মে মাসে দেশ ব্যাপী লকডাউনের সময়েও এলআইসিতে যুক্ত করা হয়েছে ১৩,৭৪০ জন এজেন্ট। ঠিক একই সময়ে বেসরকারি বিমা সংস্থা থেকে ৬,৩১৬ জন এজেন্টকে বসিয়ে দেওয়া হয়।

একই সঙ্গে চলতি বছরের শেষ ত্রৈমাসিকে ৩০ হাজারের বেশি এজেন্ট নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা রেখেছিল সংস্থা। তরুণরা এই কঠিন সময়ে নিজেদের কেরিয়ার হিসাবে এলআইসিকেও যাতে বেছে নিতে পারেন, সেই সুযোগ ব্যতিক্রমী ভাবে দিচ্ছে এই রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থা।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন