যে ৫টি কারণে ভারতের শেয়ার বাজারের সূচকগুলি এখন সর্বকালীন সেরা অবস্থানে

0
Sensex nifty Stock market

ওয়েবডেস্ক: শেয়ার বাজারের বেঞ্চমার্ক ইক্যুইটি সূচকগুলি প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে গত মঙ্গলবার। এমনকী বিশ্ববাজার ওই দিন সীমিত পরিসরে ব্যবসা করলেও ভারতের সেনসেক্স অথবা নিফটির এই উত্তরোত্তর বৃদ্ধি নজর কাড়ে বইকি! মূলত পাঁচটি বিষয়কেই এই সর্বকালীন রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলার মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এমনিতে নতুন আর্থিক বছর (এপ্রিল-মার্চ) শুরুর মুখে বিনিয়োগের একটা বাড়তি প্রবণতা থাকেই। তার উপর রয়েছে আশানুরূপ বর্ষার সম্ভাবনা, দৃঢ় বৈদেশিক লগ্নির প্রবাহ, ইতিবাচক বাণিজ্য তথ্য এবং প্রযুক্তিগত সূচকগুলি নিয়ে উদ্বেগ হ্রাসের লক্ষণগুলি বিনিয়োগের ব্যাপারে অনুভূতি বাড়াতে সাহায্য করেছে।

বুধবার মহাবীর জয়ন্তীর জন্য শেয়ার বাজার বন্ধ। যে কারণে মঙ্গলবারের ধারাবাহিকতার রেশ কটতা বজায় রইল, তা দেখার জন্য আরও একটা দিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে মঙ্গলবার সেনসেক্স এবং নিফটি- এ দেশের ইক্যুইটি মার্কেটের দুই মূল সূচকই সর্বকালীন সেরা অবস্থানে থিতু হয়েছে। সেনসেক্স ৩৭০ পয়েন্ট বা ০.৯৫ শতাংশ বেড়েছে ৩৯,২৭৬ পয়েন্টে। সেশনের একটা সময় যা ৩৯,৩৬৪ পয়েন্টের রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে যায়। অন্য দিকে নিফটিও প্রথমবারের মতো ১১,৮০০ পয়েন্টের হার্ডলস টপকে ওই দিন বন্ধ হয়েছে ১১,৭৮৭ পয়েন্টে। আগের দিনের ১১,৭৬১-র রেকর্ডের মাথায় চড়ে বসেছে নিফটি। পৌঁছেছে ১১,৮১০ পয়েন্টে। ঠিক কী কারণে এই জোড়া সূচকের ঐতিহাসিক ভাঙা-গড়া?

১. বর্ষা

কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের ঘোষণা চাঙ্গা করেছে শেয়ার বাজারকে। দফতর গত সোমবারই জানিয়েছে, এ বছর বর্ষা মোটামুটি স্বাভাবিকই হবে, অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রেস বিজ্ঞপ্তির মধ্যে দিয়ে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে এ বার বর্ষা স্বাভাবিকের ৯৬ শতাংশ হবে। অর্থাৎ স্বাভাবিক মাত্রার থেকে মাত্র চার শতাংশ কম হতে পারে বর্ষা। এর আগে অন্য একটি বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থার ঘোষণায় শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্কের সষ্টি হয়েছিল। তারা বলেছিল এ বার খরা হতে পারে। ফলে কষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও গ্রাস করেছিল শেয়ার বাজারকে।

২. বৈদেশিক লগ্নি

সামনে এ দেশের সাধারণ নির্বাচন। শেয়ার বাজারেও টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যে কোনো সংবেদনশীল ঘটনাকে সামনে রেখে। তবে সে সবকে তোয়াক্কা না-করেই বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রবাহ ক্রমশ জোরালো হচ্ছে বলেই বিশ্লেষকরা তুলে ধরছেন। তথ্য বলছে, বৈদেশিক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (এফআইআই) স্থায়ী প্রবাহ বাজারের গতিবৃদ্ধিকে অবিরাম সমর্থন জানিয়ে চলেছে। এ বছর ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশীয় ইক্যুইটি বাজারে এফআইআই মারফত ৬৫,০০০ কোটি টাকা ঢুকেছে।

৩. বাণিজ্য তথ্য

সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, গত মার্চ মাসে রফতানি খাতে বৃদ্ধি ১১ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। গত বছরের একই মাসে (মার্চ) ২৯.৩২ বিলিয়ন ডলারের জায়গায় এ বারের মার্চে রফতানি বেড়েছে ৩২.৫৫ বিলিয়ন ডলার।
২০১৮ সালের অক্টোবরের পর থেকে রপ্তান রফতানিতে এটিই সর্বোত্তম বৃদ্ধির হার। সব মিলিয়ে বাণিজ্য ঘাটতির সমতা নিয়ে আসতে এই বৃদ্ধি যথেষ্ট সহায়ক হয়ে উঠেছে।

৪. সূচকের প্রযুক্তিগত নির্দেশক

প্রযুক্তিগত নির্দেশক বা টেকনিক্যাল ইন্ডিকেটরের চার্টগুলিতে নিফটি একটি “গোল্ডেন ক্রস” গঠন করেছে, যা বাজারে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে শক্তিশালী করে।বিভিন্ন বিশ্লেষক সংস্থার মতে, নিফটির এখন ১১ হাজার ভেঙে দেওয়ার পর নিফটির নতুন লক্ষ্য এখন ১২ হাজার। একটি স্টক বা সূচকের ৫০ দিনের স্বল্পমেয়াদী মুভিং গড় ২০০ দিনের চলমান গড়ের উপরে অতিক্রম করলে চার্টগুলিতে একটি “গোল্ডেন ক্রস” গঠিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। “গোল্ডেন ক্রস” একটি অতিশক্তিশালী বাজারকে নির্দেশ করে, যখন ক্রসওভার উঁচু ট্রেডিং ভলিউমের সঙ্গে থাকে। গত ১৫ মার্চ নিফটির ৫০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজ ছিল ১০.৮৯০।

[ আরও পড়ুন: বন্ধু অথবা সহকর্মী টাকা ধার নিয়ে ফেরত দিচ্ছে না? কী করবেন ]

৫. বিশ্ববাজার

গত সপ্তাহ থেকেই বিশ্ববাজারের বেশ কয়েকটি ইতিবাচক ইঙ্গিত ভারতের বাজারকে চাঙ্গা হতে সহায়তা জুগিয়ে চলেছে।
বিশেষ করে চিনের শক্তিশালী রফতানি ও ব্যাঙ্কিংয়ের তথ্য বেশিরভাগ এশিয়ান বাজারকে সাহস জুগিয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির স্বাস্থ্য সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ হালকা হওয়ায় শেয়ার বাজারের সূচকগুলির ঊর্ধ্বগমনকেও সহজতর করেছে।

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here