করোনায় প্রভাবিত পোশাক শিল্প, হাতে কাজ নেই সেলাই দিদিমণিদের

0

ওয়েবডেস্ক: উত্তর কলকাতার বাসিন্দা শ্যামলী জানা। স্বামী দৈনিক চুক্তিতে অন্য একজনের অটো রিকশা চালাতেন। নিজে সেলাই করতেন চুড়িদার-ব্লাউজ, ইত্যাদি। করোনার থাবায় দু’টোকেই গ্রাস করেছে অস্বাভাবিকত্ব। শুধু শ্যামলী নন, তারই মতো পোশাক শিল্পে জড়িত ভারতের প্রায় ১.২ কোটি মানুষ প্রতিনিয়ত সংকট কাটিয়ে ওঠার

শ্যামলী সোদপুরের এক পোশাক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চুড়িদার অথবা ব্লাউজের কাপড় (কাটিং করা) বাড়িতে নিয়ে এসে সেলাই করতেন। হপ্তায় পেমেন্ট। পাড়ার লোকের ছোটোখাটো প্রয়োজন মিটিয়েও খুচরো কিছু আয় হতো। বাজারে এখন নতুন পোশাকের চাহিদা ততটা নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য়ের চাহিদা কিছুটা থাকলেও পোশাক-আশাক নিয়ে ততটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না কেউ। ফলে পুরনো স্টকেই কোনো রকম কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন পোশাক বিক্রেতারা।

১২ সপ্তাহ আগেই পোশাক শিল্পের জন্য করোনাভাইরাস লকডাউনের নিয়ম শিথিল করেছে সরকার। তবুও ছোটো-বড়ো পোশাক শিল্পগুলো এখনও সে ভাবে আগের অবস্থায় ফিরে আসেনি। কারণ এই একটাই। চাহিদা নেই। সে ক্ষেত্রে কারখানায় গিয়ে পোশাক শিল্পের কর্মীদের (বেশির ভাগই মহিলা) মতোই সংকটে পড়েছেন শ্যামলীর মতো বাড়িতে বসে সেলাইয়ের কাজ করা মহিলারাও।

শ্যামলী বলেন, “এখন কাজ নেই, সেটা যেমন সমস্যা, তেমনই আগামী দিনেও কী যে হবে, তা বুঝতে পারছি না। অন্য বছর এই সময়টা রাত ২-৩টে পর্যন্ত কাজ করি। পুজোর বাজারের জন্য হাতে প্রচুর চাপ থাকে। এ বার সে সবের বালাই নেই”।

বৃহৎ শিল্পেও বড়ো সংকট!

ভারতের কয়েক কোটি টাকার পোশাক শিল্প হাতে কাজ জোগায় কমপক্ষে ১.২ কোটি মানুষের। এই কাজে তুলনামূলক ভাবে কাজে দক্ষতা, একাগ্রতা এবং ধৈর্য্যের কারণে মহিলাদের অংশগ্রহণই অধিক। বাড়ির কাজ সামলেও একটা বড়ো অংশের মহিলা এই ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু মহামারির প্রভাবে বিশ্বমানের ব্র্যান্ডের পোশাকের বিক্রি প্রায় বন্ধ। আর্থিক সংকটে পড়ে বাতিল হয়েছে আগের অর্ডার। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা খোলার অনুমতি মিললেও পুরোদমে কাজ শুরু করতে পারছেন না কর্তৃপক্ষ।

ভারত-সহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশেই পোশাক শিল্পে একটা বড়ো অংশের অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মী জড়িত। মহামারির সংকটে পড়ে নিয়োগকারীরাও এখন শ্রম আইনের ততটা ধার ধারতে চাইছেন না কোথাও কোথাও। কাজ থেকে ছাঁটাই অথবা পুরনো বকেয়া বেতন না মেটানোর ঘটনাও ঘটছে।

অন্য দিকে বাড়িতে শিশুসন্তান থাকায় অনেক মহিলা কাজে যোগ দিতে পারছেন না। আবার স্কুল বন্ধ থাকায় বাড়িতে থাকা সন্তানকে সময় দিতে হচ্ছে সর্বক্ষণ। অন্য দিকে শিল্পোদ্যোগীরাও বলছেন, যাঁরা কমপক্ষে তিন দশক এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন, এমন দুর্ভাগ্যজনক সময় তাঁরা একটি বারের জন্যও দেখেননি। অনেকে তো পরিস্থিতির চাপে পড়ে ব্যবসায় ঝাঁপ ফেলে দেওয়ার কথা ভাবছেন!

সামগ্রিক ক্ষেত্র

এশিয়ার মধ্যে পোশাক শিল্পে সব থেকে বেশি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম এবং মায়ানমারের মতো দেশগুলিতে। কারণ, শেষ কয়েক মাসে মহামারি সংকটে পড়ে শ্রমিকরা নিজেদের গ্রামে ফিরে গিয়েছেন, খাদ্যের সন্ধানে হন্যে হয়ে দৌড়চ্ছেন তাঁরা। কাজ হারিয়ে বেঁচে থাকার জন্য টাকাও ধার করেছেন।

তবে অতি মন্থরগতিতে হলেও হাল কিছুটা ফিরছে। করোনার প্রাদুর্ভাব কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে পোশাক শিল্প। ধাক্কা কাটিয়ে আশায় বুক বাঁধছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফিরে আসা যাক শ্যামলীর কথায়। স্বামী অটো চালাতেন সিঁথি মোড় থেকে। মালিককে দেওয়ার মতোই ভাড়া রোজগার হয় না। অন্য দিকে রয়েছে করোনার আতঙ্ক। ফলে চাকা বন্ধ। আর শ্যামলী? স্বপ্ন দেখছেন, এ বারের পুজোর ‘ইনকাম’ মাটি হলেও শীত এলে অন্তত হাল কিছুটা ফিরবে!

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন