২৩ আগস্ট গয়না ব্যবসায়ী সংগঠনের দেশজোড়া প্রতীকী ধর্মঘট

0

খবর অনলাইন ডেস্ক: গ্রাহকদের জন্য সোনার বিশুদ্ধতা এবং মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সম্প্রতি সোনার গয়নায় হলমার্কিং বাধ্যতামূলক করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। অল ইন্ডিয়া জেম অ্যান্ড জুয়েলারি ডোমেস্টিক কাউন্সিল (GJC) শুক্রবার জানিয়েছে, স্বর্ণালঙ্কারে বাধ্যতামূলক হলমার্কিংয়ের “যথেচ্ছ বাস্তবায়নের” বিরুদ্ধে ২৩ আগস্ট প্রতীকী ধর্মঘট পালন করবেন সারা দেশে গয়না ব্যবসায়ীরা।

সংগঠন দাবি করেছে, রত্ন ও গয়না শিল্পের চারটি অঞ্চলের ৩৫০টি সমিতি এবং ফেডারেশন এই ধর্মঘট সমর্থন করবে।

গত ১৬ জুন থেকে দেশের ২৮টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ২৫৬টি জেলায় সোনার গয়নায় হলমার্কিং বাধ্যতামূলক হয়েছে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমিক ভাবে তা দেশের সর্বত্র চালু করার চিন্তাভাবনা নিয়ে এগোচ্ছে কেন্দ্র।

সোনার হলমার্কিং একটি বিশুদ্ধতা শংসাপত্র। তবে এটা ছিল স্বেচ্ছাভিত্তিক। অর্থাৎ, কোনো বিক্রেতা চাইলে সোনার গয়নায় হলমার্কিং করাতে পারতেন। তবে এখন তা বাধ্যতামূলক হয়েছে। সরকারের দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্রেতারা খাঁটি সোনা হাতে পাবেন। ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমবে।

কেন ধর্মঘট?

সংগঠনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অশোক মিনওয়ালা এক বিবৃতিতে বলেছেন, “হলমার্ক ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন (HUID) নম্বর নির্বিচারে বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে একদিনের প্রতীকী ধর্মঘটের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানাব আমরা। এ ধরনের পদক্ষেপ অবাস্তব এবং অসম্ভব”।

তিনি বলেন, সোনার বিশুদ্ধতার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই বলেই এটা গ্রহণযোগ্য নয়। ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড (BIS) মনে করে নতুন এইচইউআইডি সোনার বিশুদ্ধতা উন্নত করবে, কিন্তু ব্যবসায়ীরা মনে করেন, এটা শুধুমাত্র একটা ট্র্যাকিং প্রক্রিয়া।

সংগঠনের দাবি, যে সব ব্যবসায়ীরা গয়নায় হলমার্কিং না করেই বিক্রি করছেন, তাঁরা শেষ পর্যন্ত ‘ইন্সপেক্টর রাজ’-এর শিকার হওয়ার ভয়ে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন, যা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।

কেন হলমার্কিং?

নিয়ন্ত্রক সংস্থার দাবি, সোনার গয়নায় হলমার্ক থাকার অর্থ, ক্রেতা প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাবেন এবং বিশুদ্ধতা নিয়েও আশ্বস্ত হতে পারবেন। উলটো দিকে কোনো ক্রেতা বিক্রি করার সময় সঠিক হারে সোনার দাম পাবেন।

১৬ জুন থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা ১৪, ১৮ এবং ২২ ক্যারেট সোনার গয়না বিক্রি করার অনুমতি পেয়েছেন। ২০, ২৩ এবং ২৪ ক্যারেটের সোনাকেও হলমার্কিংয়ের জন্য অনুমতি দেওয়া হবে। তবে যে সব ব্যবসায়ী বা সংস্থার বার্ষিক ব্যবসা ৪০ লক্ষের কম, তাঁদের ক্ষেত্রে হলমার্ক বাধ্যতামূলক নয় বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।

হল মার্ক কী?

২০০০ সাল থেকে সোনার গয়নার জন্য হলমার্কিং উদ্যোগ চালিয়ে আসছে বিআইএস। ভারতে প্রায় ৪ লক্ষ জুয়েলার্স রয়েছে, এর মধ্যে মাত্র ৩৫,৮৭৯টি বিআইএস শংসাপত্র নিয়েছে।

সোনার গয়নার বিশুদ্ধতা বিচার করার জন্য সাংকেতিক সংখ্যা উল্লেখ করা হয়। যেমন ২২ ক্যারেটের জন্য ৯১৬, ২৩ ক্যারেটের জন্য ৯৫৮ ইত্যাদি স্ট্যাম্প লাগানো হয়। যা দেখে ক্রেতা সহজেই বুঝে নিতে পারেন, কোনটা কী ধরনের পণ্য। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ভারত বছরে ৭০০-৮০০ টন সোনা আমদানি করে।

খবর অনলাইন-এর আরও খবর পড়তে পারেন এখানে:

সুন্দরবনের কুলতলিতে এই প্রথম নতুন পদ্ধতিতে মাচায় মরশুমি সবজির চাষ

সংগীত শিল্পী পিলু ভট্টাচার্য প্রয়াত

হাইকোর্টের নির্দেশ পেয়েই ‘ভোট পরবর্তী হিংসা’ মামলার তদন্তভার নিল সিবিআই

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন