অটল পেনশন যোজনা: টাকা রাখার আগে জেনে নিন ৭টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

0
Currency

ওয়েবডেস্ক: ভারত সরকারের একটি গ্যারান্টিযুক্ত পেনশন স্কিম অটল পেনশন যোজনা (এপিওয়াই)। বিশেষত অবসরকালীন সময়ে একটি নির্দিষ্ট পেনশন পাওয়ার লক্ষ্যে সাধারণ মানুষ বেছে নেন এই প্রকল্প। পেনশন তহবিল নিয়ন্ত্রক ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (পিএফআরডিএ) এপিওয়াই পেনশন প্রকল্পের তত্ত্বাবধান করে। অসংগঠিত ক্ষেত্রের মানুষকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণের আগে সঞ্চয়ে উৎসাহিত করতেই এই প্রকল্পটি নিয়ে আসা হয়েছিল। অল্প বয়সে এই প্রকল্পে বিনিয়োগ শুরু করলে সর্বাধিক সুবিধা পাওয়া সম্ভব।

অটল পেনশন স্কিমের জন্য আবেদনের জন্য বিনিয়োগকারীরা যে কোনো ব্যাঙ্কে যেতে পারেন। কারণ প্রায় সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এই প্রকল্পের পরিষেবা দিয়ে থাকে। বিনিয়োগকারীরা এটি এনডিএলএসের সরকারি ওয়েবসাইট থেকেও অনলাইনে এই প্রকল্পের আবেদনপত্র ডাউনলোড করতে পারেন। তবে আবেদনপত্রটি পূরণ করার পর ব্যাঙ্কে যেতে হয়।

দেখে নেওয়া যাক এই প্রকল্পে বিনিয়োগ সংক্রান্ত ৭টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়-

১. অটল পেনশন যোজনা শুধুমাত্র ১৮-৪০ বছর বয়সের মধ্যেই শুরু করা যায়। অন্য দিকে প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য বিনিয়োগকারীর একটি ব্যাঙ্ক বা একটি পোস্ট অফিসে সেভিংস অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।

২. এই প্রকল্পে পেনশনের পরিমাণ নির্ধারিত হয় বিনিয়োগকারীর বয়সের ভিত্তিতে এবং যে পরিমাণ টাকা জমা রাখা হয় তার উপর ভিত্তি করে। ৬০ বছর বয়সে পৌঁছে যাওয়ার পরে মাসে এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত বেছে নেওয়া যায়।

৩. বিনিয়োগকারীকে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত নিয়মিত টাকা জমা রাখতে হবে। নইলে এটিকে পিছিয়ে দেওয়ার পদ্ধতি রয়েছে। ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত নিয়মিত টাকা জমা রাখার পরে মাসিক পেনশনের পরিমাণ নির্দিষ্ট হয়।

৪. ৬০ বছর বয়সের আগে বিনিয়োগকারী পেনশন অ্যাকাউন্ট থেকে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বেরিয়ে যেতে পারেন, তবে সম্ভব কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতি। যেমন, পিএফআরডিএ-এর নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রান্তিক রোগ বা মৃত্যু ঘটলে।

৫. যে ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী মারা যান, তাঁর বিধবা স্ত্রী ওই পেনশন দাবি করতে পারেন। অন্য দিকে বিনিয়োগকারী এবং তাঁর স্ত্রীর উভয়ের মৃত্যুর ক্ষেত্রে মনোনীত ব্যক্তি জমা হওয়া টাকা পাবেন। আবার যদি ৬০ বছরের বয়সের পরে বিনিয়োগকারী মারা যান, তবে তাঁর বিধবা স্ত্রী প্রকল্পটি থেকে বেরিয়ে এসে জমা টাকা দাবি করতে পারেন অথবা প্রকল্পটির নির্ধারিত সময় শেষ হওয়া না পর্যন্ত তা চালিয়ে যাওয়ার বিকল্প সুবিধা পান।

৬. বিনিয়োগকারী টাকা জমা বন্ধ করে দিলেও অ্যাকাউন্টটি নিষ্ক্রিয় হয় না। ফের টাকা জমা করলে বন্ধ হয়ে যাওয়া অ্যাকাউন্টটি চালু হবে। নিয়ম অনুসারে, অ্যাকাউন্টটি শুধু মাত্র তখনই নিষ্ক্রিয় হবে যখন কোনো অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স শূন্য হয়ে যাবে। স্ব-অবদান বা সরকারি সহ-অবদানের সমস্ত টাকাই তখন অ্যাকাউন্ট রক্ষণাবেক্ষণের চার্জ এবং ফি বাদ কেটে নেওয়ার কারণে শূন্য হয়ে যেতে পারে।

[ আরও পড়ুন: প্রিমিয়ামের টাকা দিতে না পারায় অচল হয়েছে এলআইসি পলিসি? ফের চালু করা যাবে ]

৭. অটল পেনশন প্রকল্পটিকে সরকার পেনশন স্কিম হিসাবে বিজ্ঞপ্তি বিবেচনা করে থাকে। ফলে বিনিয়োগকারী আয়কর আইন, ১৯৬১-এর অধীনে ৮০ সিসিডি (১) ধারায় কর ছাড়ের সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন। তবে, একজন ব্যক্তির মো‌ট পেনশন গ্রহণবাবদ আয়ের নিরিখে নির্দিষ্ট সীমা পার হওয়ার পর কর দিতে হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here