খরচ কমাতে বড়ো শহরগুলিতে এটিএম এবং শাখা কমাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক

১০টি মধ্যে ৯টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এটিএমের সংখ্যা কমিয়েছে, সেখানে ১০টির মধ্যে ৬টি ব্যাঙ্ক শাখার সংখ্যাও হ্রাস করেছে

0
ATM

ওয়েবডেস্ক: ব্যয় হ্রাস করার জন্য বড়ো শহরগুলিতে নিজেদের এটিএম এবং শাখা বন্ধ করে দিচ্ছে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি। যেহেতু নগর এলাকার গ্রাহকরা তাঁদের ব্যাঙ্কিং প্রয়োজনে ডিজিটাল পদ্ধতিগুলি বেশি ব্যবহার করছেন, এটিএম এবং শাখা বন্ধ করে দেওয়ার একটি অন্যতম কারণ সেটিও। এক দিকে ব্যাঙ্কের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় সংকোচন অন্য দিকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ব্যাঙ্ক লেনদেনের উপর নির্ভরশীলতাকে প্রকট করতেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে।

ব্যাঙ্ক সংগঠনগুলির একটি পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, বিগত এক বছরে সারা দেশে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার এটিএম বন্ধ করে দিয়েছে বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি। একই সঙ্গে দেশ থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে ছ’শোর বেশি শাখা। এ ধরনের সিদ্ধান্তগুলি এমন একটি সময়ে নেওয়া হয়েছে যখন সরকারি ব্যাঙ্কগুলির আয়-ব্যয়ের রিপোর্টে ক্রেডিট গ্রোথ হ্রাস এবং ক্রমবর্ধমান নন-পারফর্মিং অ্যাসেট (এনপিএ) -এর কারণে মুনাফা লাভ কঠিন থেকে কঠিনতম হয়ে উঠেছে। এই পরিবেশ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া চেষ্টাতেই খরচে লাগাম টানার উদ্দেশ্য নিয়ে এগোচ্ছে তারা।

দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া গত জুন ২০১৮ থেকে ২০১৯-এর মধ্যে ৪২০ টি শাখা এবং ৭৮৬টি এটিএম বন্ধ করেছে এবং ব্যাঙ্ক অব বরোদা, বিজয়া এবং দেনা ব্যাঙ্ক সম্মিলিত ভাবে এই সময়ের মধ্যে ৪০ টি শাখা এবং ২৭৪টি এটিএম বন্ধ করেছে। অন্যান্য যে ব্যাঙ্কগুলি তাদের শাখা বা এটিএম-এর সংখ্যা সংকুচিত করেছে, তাদের মধ্যে রয়েছে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক, সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া, ক্যানাড়া ব্যাঙ্ক, ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্ক, ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক এবং এলাহাবাদ ব্যাঙ্ক।

একটি পরিসংখ্য়ান থেকে জানা গিয়েছে, এই সময়কালে একমাত্র ইন্ডিয়ান ব্য়াঙ্ক নিজেদের শাখা এবং এটিএমের সংখ্য়া বৃদ্ধি করেছে। ১০টি মধ্যে ৯টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এটিএমের সংখ্যা কমিয়েছে, সেখানে ১০টির মধ্যে ৬টি ব্যাঙ্ক শাখার সংখ্যাও হ্রাস করেছে।

ওই পরিসংখ্যান থেকেই জানা গিয়েছে, মূলত এমন বড়ো শহরগুলিতেই এটিএম এবং শাখা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাঙ্কগুলি। ওই সমস্ত এলাকার গ্রাহকরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেনদেনে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার কারণেই সেখানে সংখ্যা হ্রাস করছে বলে মত অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here