RBI

নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ডিজিট্যাল মুদ্রা বা সিবিডিসি (CBDC) এবং প্রাইভেট ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) কেন্দ্রীয় বোর্ড। শুক্রবার একটি বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।

লখনউতে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় পরিচালনা পর্ষদের ৫৯২তম সভাটি গভর্নর শক্তিকান্ত দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সিবিডিসি বাজার আনার কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে আরবিআই। পাশাপাশি প্রাইভেট ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপের ব্যাপারেও আলোচনা চলছে।

সার্বিক অর্থনৈতিক এবং আর্থিক স্থিতিশীলতার দৃষ্টিকোণ থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সি (cryptocurrency) একটি গুরুতর উদ্বেগ বলে গত মাসে জানান আরবিআই গভর্নর। তবে সিবিডিসি-র চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সেগুলির থেকে পৃথক। যতটা জানা গিয়েছে, সিবিডিসি হতে চলেছে ইলেকট্রনিক আকারে একটি সার্বভৌম মুদ্রা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ব্যালেন্স শিটে তা দায় (কারেন্সি ইন সার্কুলেশন) হিসাবে দেখানো হবে।

আইন সংশোধনের প্রস্তাব রিজার্ভ ব্য়াঙ্কের

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন লোকসভার শীতকালীন অধিবেশনে বলেন, বিটকয়েনকে মুদ্রা হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার কোনো প্রস্তাব নেই সরকারের। ক্রিপ্টো নিয়ন্ত্রণে ‘দ্য ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যান্ড রেগুলেশন অব অফিশিয়াল ডিজিটাল কারেন্সি বিল, ২০২১’ আনছে কেন্দ্র। সীতারমন বলেন, “এই বিল, এক বার মন্ত্রীসভায় অনুমোদিত হয়ে গেলে, সংসদে আসবে”। অন্য দিকে, ডিজিট্যাল আকারের মুদ্রাকে ‘ব্যাঙ্ক নোট’-এর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করতে আরবিআই যে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া অ্যাক্ট, ১৯৩৪ সংশোধন করার জন্য একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে, সে কথা জানান অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরি।

উল্লেখ্য, লখনউয়ের সভায় আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পর্যালোচনা করে আরবিআই-এর কেন্দ্রীয় বোর্ড। বর্তমানে দেশ এবং বিশ্বের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ক্রমশ বেড়ে চলা চ্যালেঞ্জ এবং তার প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি, ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া অর্ধবার্ষিকীর আয় বিবরণীও পর্যালোচনা করা হয় ওই সভায়।

সিবিডিসি কী?

সিবিডিসি হবে এক ধরনের ভার্চুয়াল কারেন্সি। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নোটের মতোই সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক এই মুদ্রা জারি করবে। এক কথায়, কাগজের নোটের মুদ্রার ডিজিটাল সংস্করণ হবে এই সিবিডিসি।

সিবিডিসির এই ধারণা দিয়েছিলেন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ এবং নোবেল বিজয়ী জেমস তাসিন। তিনি গত শতাব্দীর আটের দশকেই লেনদেনের এই ডিজিটাল আকারের কথা বলেছিলেন।

ক্রিপ্টোকারেন্সির থেকে কতটা আলাদা?

ক্রিপ্টোকারেন্সিতে ভার্চুয়াল মুদ্রা এনক্রিপ্ট করা থাকে। এটি বিকেন্দ্রীভূত, যা সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। বিপরীতে, সিবিডিসি হল সরকার বা তার এজেন্সি দ্বারা জারি করা কাগজের মুদ্রার একটি ভার্চুয়াল রূপ। সিবিডিসির নিয়ন্ত্রণ থাকবে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের হাতে। এই আইনি টেন্ডার-সহ ই-কারেন্সি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রাখা হবে। অন্য দিকে, ক্রিপ্টোকারেন্সি ডিজিট্যাল ওয়ালেটে রাখা হয়।

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মতে, দেশে মুদ্রা এবং জিডিপির অনুপাত বেশি। এই অনুপাত বিবেচনায় রেখেই সিবিডিসি আনা যেতে পারে। বড়ো লেনদেনে নোটের জায়গায় সিবিডিসি-র ব্যবহার মুদ্রণ, পরিবহণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিতরণের খরচ কমিয়ে দেবে।

আরও পড়তে পারেন:

কমল নতুন করে আক্রান্ত, আরও নামল সক্রিয় রোগী

মদ-গাঁজার আসরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, ভরসন্ধেয় ডায়মন্ড হারবারে গুলিবিদ্ধ তৃণমূলকর্মী

ভারতের আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান উৎসবে প্রথম পুরস্কার জিতে নিল বাংলার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী

দৈনিক সংক্রমণের হার ফের অনেকটাই ধসল পশ্চিমবঙ্গে, বড়ো স্বস্তি দিল কলকাতা

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন