নয়াদিল্লি: বুধবার মার্কিন ডলারের দাম নতুন উচ্চতায়। উলটো দিকে, ভারতীয় টাকার দামও একটি নতুন খাদে নেমে এসেছে। ডলারকে দুর্বল হতে পারে, এমন একটি মুদ্রা চুক্তির সম্ভাবনাকে হ্রাস করেছে হোয়াইট হাউস। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ফেডারেল রিজার্ভের পদক্ষেপ। সব মিলিয়ে সর্বকালীন সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে ডলার প্রতি টাকার দাম।

৮২ হওয়ার দিকে!

এ দিন ডলার প্রতি টাকার মূল্য ৮২ হওয়ার দিকে এগনোর জোরালো আভাস দিল। সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, প্রাথমিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের বিপরীতে দেশীয় মুদ্রা ৪০ পয়সা কমে সর্বকালের সর্বনিম্ন ৮১.৯৩-এ দাঁড়িয়েছে। অবশ্য ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৮১.৯৩৫০ ছুঁয়ে আসার পর রুপি প্রতি ডলারে ৮১.৯০৫-এ থিতু হয়েছে। যা আগের ৮১.৫৭৮৮-তে বন্ধ হওয়ার তুলনায় এটাই এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে দুর্বল স্তর।

আগের সেশনে, রেকর্ড পতন থেকে পরিমিত লাভের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত কিছুটা পুনরুদ্ধার করতে পেরেছিল ভারতীয় টাকা। ডলার প্রতি টাকার দামে ফের একবার সর্বকালীন পতন ঘটল বুধবার। এ ভাবেই যত দিন যাচ্ছে, নামতে নামতে তলানিতে গিয়ে পৌঁছচ্ছে ভারতীয় মুদ্রা। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, দ্রুতগতিতে ডলার প্রতি টাকার মূল্য ৮২ হওয়ার দিকে এগোচ্ছে।

ডলার কেন বাড়ছে

শেষ কয়েক মাস ধরে পতনের একটার পর একটা মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলছে ডলারের সাপেক্ষে টাকার দাম। বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সুদের হার বৃদ্ধি। ক্রমশ বেড়ে চলা মুদ্রাস্ফীতি। যার থেকে বিশ্বমন্দার জোরালো আশংকা। সবমিলিয়ে কার্যত আতংকের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যতক্ষণ না মুদ্রাস্ফীতির ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলছে, এ ভাবেই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাবে ভারতীয় মুদ্রায়। ক’দিনের মধ্যেই বৈঠকে বসছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মুদ্রানীতি কমিটি। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের আসন্ন নীতি রুপির পরিসীমাকে ৮০.৫০ থেকে ৮১.৫৫-র মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে পারে।

কেন্দ্রের আশ্বাস

তবে এই প্রেক্ষিতেও ‘পরিস্থিতি যথেষ্ট ভালো’ বলে সওয়াল করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী শনিবার বলেন, মার্কিন ডলারের বিপরীতে অন্যান্য মুদ্রার তুলনায় রুপি “খুব ভালো অবস্থানে আটকে রয়েছে”। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবং অর্থমন্ত্রক ঘটনার উপর খুব নিবিড় ভাবে নজর রাখছে বলে জানান কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।

কী ভাবে মোকাবিলা

মুদ্রাস্ফীতি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। এর জেরে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ফেডারেল রিজার্ভ রেট বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে। তার পর থেকেই বিশ্বব্যাপী মুদ্রার দামে পতন আরও জোরালো। অর্থাৎ, ডলার ক্রমশ শক্তিশালী হওয়ার কারণে তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে অন্যান্য মুদ্রাগুলি। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদেশি মুদ্রা ভাণ্ডার ব্যবহার করছে আরবিআই।

খবর অনলাইনে আরও পড়ুন:

বিনামূল্যের রেশন নিয়ে বড়ো খবর! প্রকল্পের মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানোর সম্ভাবনা

উল্টো দিকে হ্রাস পাচ্ছে ভারতের বিদেশি মুদ্রা ভাণ্ডার। দুর্বল রুপিকে রক্ষা করতে হাত পড়ছে সেখানে। পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক মাস ধরে ভারতের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। ১৬ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশের বিদেশি মুদ্রা ভাণ্ডার থিতু হয়েছে ৫৪৫৬৫.২ কোটি ডলারে। রুপির পতনের আরেকটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হল এই অবক্ষয়।

ঝুঁকি বাড়াচ্ছে ইয়েন ও ইউয়ান

ডলারের উর্ধ্বগতিতে ভেঙে পড়েছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রাগুলি। এশিয়ার মধ্যে যার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ইয়েন ও ইউয়ানে। অর্থাৎ, ফেড যে গতিতে ডানা ঝাপটাচ্ছে, তাতে চিন এবং জাপানের মুদ্রা ততই দুর্বল হচ্ছে। এই দুই মুদ্রার দুর্বলতা বাজারকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে ডলারের প্রভাব থেকে অর্থনীতিকে রক্ষা করতে এশিয়ার অন্য দেশগুলিও বিদেশি মুদ্রা ভাণ্ডারের উপর খুব বেশি করে নির্ভর করছে।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন