ইস্পাত শিল্পের ঘুরে দাঁড়ানোর দাওয়াই আছে সরকারের হাতেই

অন্যান্য দেশে এই শিল্পের গতি স্লথ হয়েছে। নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। সেখানে ভারতে ইস্পাত শিল্পের বিকাশে সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

0
The Bengal Chamber organizes its 7th Metals Conclave 2019

চিরঞ্জীব পাল: ভারতে শহুরে মানসিকতা যত বাড়ছে, ইস্পাত শিল্পের বাজার বিস্তৃতির সুযোগও তত বাড়ছে।

অন্যান্য দেশে এই শিল্পের গতি শ্লথ হয়েছে। নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতে কিন্তু ইস্পাত শিল্পের বিকাশের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। পরিকাঠামোগত সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারলেই ইস্পাত শিল্পের গতি আরও বৃদ্ধি পাবে বলেই মনে করছেন এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সংস্থার শীর্ষকর্তারা।

মঙ্গলবার পার্ক হোটেলে, বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (BCCI) আয়োজিত ‘ভারতে ধাতব শিল্প : মিশন ২০৩০’ শীর্ষক বার্ষিক আলোচনাসভায় বক্তারা ভারতে ইস্পাত শিল্পের সম্ভাবনা, সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করলেন।

কী কী সমস্যা রয়েছে?

ভারতে ইস্পাত শিল্পে বৃদ্ধির হার ৭.৫ শতাংশ। এই হার বজায় রাখতে গেলে আরও উন্নত পরিকাঠামো দরকার বলেই জানালেন বিসিসিআই মেটাল কমিটির চেয়ারম্যান সুসীম বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এই শিল্প বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে ক্ষুদ্র সংস্থাগুলি।

সমস্যা রয়েছে ইস্পাত পরিবহণের ক্ষেত্রেও। পরিবহণকারী ট্রাকগুলির ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ চালক একে আংশিক সময়ের কাজ হিসাবে নেয়। অর্থাৎ সে অন্য কোনো কাজ মাঝে অবসর পেলে ট্রাক চালায়। ফলে সেই চালকের দায়বদ্ধতাও কম থাকে বলে জানালেন জেএসডব্লু স্টিল লিমিটেডের লজিস্টিক হেড সঞ্জয় রথ।

পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে রাস্তাঘাটেরও বলে তিনি জানালেন। জাতীয় সড়ক বা অন্য কোনো বড় রাস্তা ভালো হলেও, গ্রামাঞ্চলে ভেতরের দিকের রাস্তা ততটা ভালো নয়। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইস্পাত পরিবহনে বেশ বেগ পেতে হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সদ্য নির্বাচিত কেন্দ্রীয় সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।

প্রসঙ্গ গুণমান

ভারতে ৬০ শতাংশ স্টেনলেস স্ট্রিল খুবই নিম্নমানের। নিয়মিত মান পরীক্ষা হয় না। সচেতনতার অভাবের ফলে সাধারণ মানুষ এই নিম্নমানের স্টেনলেস স্ট্রিল ব্যবহার করছেন, বলে মন্তব্য কিউটোকুম্পু ইন্ডিয়ার এমডি ওয়াই পি সুরি।

সমাধান কোন পথে

সুরির মতে ইস্পাত শিল্পের অগ্রগতিতে বজায় রাখতে গেলে সরকারকে আরও সক্রিয় ভুমিকা নিতে হবে। ইলেকট্রো গ্যালভানাজিং স্টিলের আমদানির বদলে দেশের ইস্পাত শিল্পের উন্নয়ন এবং মানের উপর নজরদারিতে জোর দিতে হবে।

সুসীম বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, স্টেনলেস স্টিলের গুণমান নিয়ে মানুষকে সচেতন করতে নিয়মিত প্রচার চালাতে হবে। একটা ‘আন্দোলন’ গড়ে তুলতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here