নয়াদিল্লি: সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয় অ্যাপ টিকটিক ভারতে নিষিদ্ধ হয়েছে আরও ৫৮টি অ্যাপের সঙ্গেই। রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই বেজিংয়ের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছে টিকটক (TikTok)।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ জুন টিকটকের চিফ এগজিকিউটিভ এবং বাইট ডান্সের (ByteDance) চিফ অপারেশন ম্যানেজার কেভিন মায়ার (Kevin Mayer) এ ব্যাপারে ভারত সরকারকে একটি চিঠি দেন। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, চিনা সরকার কখনোই ব্যবহারকারীদের তথ্য চেয়ে পাঠায়নি। অথবা সংস্থাও কখনও চিনা সরকারকে ব্যবহারকারীদের তথ্য দেয়নি।

শুধু তাই নয়, মায়ার আরও লিখেছেন, “ভবিষ্যতে আমরা যদি কখনও এ জাতীয় অনুরোধ পাই, তবে আমরা তা মেনে চলব না।” সূত্রটি আরও জানিয়েছে, সংস্থা ও সরকারের মধ্যে আগামী সপ্তাহে সম্ভাব্য বৈঠকের আগে এই চিঠিটি পাঠানো হয়েছিল

টিকটক চিনে পাওয়া যায় না। কিন্তু চিনা সংস্থার এই সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ ভারত, আমেরিকা-সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে যথেষ্ট জনপ্রিয়। শুধু ভারতেই এই অ্য়াপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০ কোটি। স্বাভাবিক ভাবে ভারতে এই অ্যাপ নিষিদ্ধ হওয়ার ফলে বড়োসড়ো আর্থিক লোকসানের মুখোমুখি সংস্থা। সূত্রের খবর, সেই বিষয়টিকে মাথায় রেখেই মূল (চিন) থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে টিকটক।

লোকসানের বহর

টিকটকের মূল সংস্থা বাইটডান্স কর্তৃপক্ষ নিজেরাই জানিয়েছেন, ভারতে এই অ্যাপ নিষিদ্ধ হওয়ার ফলে তাঁরা প্রায় ৪৫,০০০ কোটি টাকা লোকসানের মুখোমুখি হতে চলেছেন। এই সংস্থার সব মিলিয়ে তিনটি অ্যাপ চলত ভারতে।

চিনা সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাকি যে অ্য়াপগুলি নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেগুলির সম্মিলিত লোকসানের থেকেও বেশি বাইটডান্সের লোকসানের পরিমাণ।

কেন নিষিদ্ধ?

গত সোমবার রাতে চিনা মোবাইল অ্যাপ নিষিদ্ধ করে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বলা হয়েছে, “ভারতের সার্বভৌমত্ব ও সংহতি, প্রতিরক্ষা, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং জনশৃঙ্খলার পক্ষে ক্ষতিকর” ৫৯টি অ্যাপ নিষিদ্ধ করা হল।” তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ প্রকাশ্যেই বলেছেন, “আমরা চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করে দেশের মানুষের তথ্য সুরক্ষিত করেছি। এটা ছিল ডিজিটাল স্ট্রাইক (digital strike)”।

তবে শুধু চিনা অ্যাপ নয়, রেল, বিএসএনএল, জাতীয় সড়ক-সহ বিভিন্ন প্রকল্পে চিনা সংস্থাগুলির বিনিয়োগ এবং পণ্য বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।

নিষিদ্ধ অ্যাপগুলির মধ্যে অন্যতম টিকটক (TikTok), ইউসি ব্রাউজার (UC Browser), হ্যালো (Helo), লাইকি (Likee), ক্যাম স্ক্যানার (Cam Scanner), শেয়ারইট (SHAREit), উইচ্যাট (WeChat), ক্লাব ফ্যাক্টরি (Club Factory) ইত্যাদি।

ভারতের সিদ্ধান্তে আমেরিকার প্রতিক্রিয়া

বুধবার মার্কিন বিদেশসচিব মাইক পম্পেয়ো (Mike Pompeo) একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “চিনা কমিউনিস্ট পার্টির নজরদারি রুখতে এটি সংযোজন হিসাবে কাজ করতে পারে”।

তিনি বলেন, “অ্যাপগুলিকে মুছে ফেলার এই সিদ্ধান্ত ভারতের সার্বভৌমত্বকে শক্তিশালী করে তুলবে এবং অখণ্ডতা এবং জাতীয় সুরক্ষাকে নিশ্চিত করবে”।

ছবি:প্রতিনিধিত্বমূলক

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন