কী এই আরসিইপি বাণিজ্য চুক্তি, যেখান থেকে বেরিয়ে এলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী?

rcep
ছবি: পিটিআই সৌজন্যে

ওয়েবডেস্ক: রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকনমিক পার্টনারশিপ বা আরসিইপি-তে যোগ দেবে না ভারত। গত সোমবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়ে দিয়েছেন আরসিইপি নিয়ে ভারতের সিদ্ধান্তের কথা।

এশিয়ার ১৬টি দেশের প্রস্তাবিত এই আরসিইপি চুক্তি কী?

আঞ্চলিক বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ১৬টি দেশের প্রস্তাবিত একটি বাণিজ্য চুক্তি হল আরসিইপি। দক্ষিণ এশিয়ার আসিয়ান অন্তর্ভুক্ত ১০টি দেশ এবং তাদের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে আবদ্ধ ছ’টি দেশকে নিয়ে একটি “সংহত বাজার” তৈরি করার প্রস্তাব করা হয়েছিল ওই চুক্তিতে। এর মধ্যে থাকার কথা ছিল ভারত, চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। আরসিইপি এই অঞ্চল জুড়ে স্বাক্ষরকারী দেশগুলির পণ্য ও পরিষেবাদিগুলির ব্যবসা-বাণিজ্য সহজতর করে তোলার কথা বলা হয়েছিল। তবে ভারত এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়।

কী কারণে চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে না ভারত?

এটি ভারতের বেশ কিছু শিল্পের কাছেই একটি সুসংবাদ হতে পারত। কিন্তু দুগ্ধ খামার থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসা, ক্ষুদ্র ও ছোটো উদ্যোক্তা থেকে তামা উৎপাদক অথবা সাইকেল প্রস্তুতকারী, ই-কমার্স বিপণকারী থেকে ডেটা সার্ভিস প্রোভাইডারকে ভবিষ্যতে এই জাতীয় ‘মেগা প্যাক্ট’ থেকে সুবিধা দিতে জন্য দেশে আগে সংস্কারের প্রয়োজন। তবে চুক্তিতে স্বাক্ষর না করার কারণ হিসাবে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, “দেশের মানুষের কথা ভেবেই এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করার কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু কোনো সদর্থক উত্তর আমি পাইনি”।

একই সঙ্গে মোদী বলেন, “আরসিইপি আলোচনার সাত বছরের সময় কালে আজ আমরা যখন চারপাশ ঘুরে দেখি, তখন দেখতে পাই বিশ্ব অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য পরিস্থিতি-সহ অনেক কিছুই বদলেছে”।

আরসিইপির সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আশঙ্কা

অনেকের মতে, আরসিইপি গ্লোবাল ভ্যালু চেইন (জিভিসি)-এ উৎপাদন করতে কিছু সুযোগ এনে দিতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটিও পরিকাঠামোগত অভাবের কারণে একবগ্গা হয়ে উঠত। জিভিসি উৎপাদন বড়ো সংস্থাগুলিকে স্বল্প দামে শ্রম প্রাপ্তির সুবিধার সঙ্গে একাধিক দেশে এটিকে বিস্তৃত করার অনুমতি দেয়। চিনে শ্রমের ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই সংস্থাগুলি পণ্য তৈরিতে ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড এবং ভারতের মতো নতুন অঞ্চলের দিকে তাকাচ্ছে।

[ আরও পড়ুন: প্রিমিয়ামের টাকা দিতে না পারায় অচল হয়েছে এলআইসি পলিসি? ফের চালু করা যাবে ]

তবে ভারতে এমনও আশঙ্কা ছিল যে, চিনা সংস্থাগুলি তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার ধরতে এ দেশকেই ব্যবহার করবে।। গত তিন বছরে, চিনা কোম্পানির বিরুদ্ধে ভারতের অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক যে কোনও দেশের বিরুদ্ধে সর্বাধিক ছিল।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.