কলকাতা : বিদেশি ছাত্রছাত্রীরা যাতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারেন তার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাঁরা যাতে সহজে ভর্তি হতে পারেন এবং কলকাতা শহরে থাকার সুবিধা ভোগ করতে পারেন তার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ জানিয়েছেন, কোনো পরীক্ষা না দিয়ে অনলাইনে পেমেন্টের মাধ্যমে তাঁরা যাতে সরাসরি ভর্তি হতে পারেন তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এরই পাশাপাশি কলকাতায় থেকে যাতে তাঁরা পড়াশোনা বা গবেষণা চালাতে পারেন তার জন্য আন্তর্জাতিক ও আধুনিক মানের হস্টেল গড়তে চলেছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। 

বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা বিদেশি ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১০০-রও কম। তার প্রধান কারণ ভর্তির অসুবিধা এবং থাকার উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকা। তাই বিদেশ থেকে ছাত্রছাত্রীরা পড়তে আসতে চাইলেও ভর্তি নেওয়া যায় না। ভর্তির ক্ষেত্রে কিছু পরিকাঠামোগত ত্রুটিও রয়েছে বলে জানান আশুতোষবাবু। 

প্রত্যেক বছর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চেয়ে বিদেশ থেকে প্রচুর মেল আসে।  কিন্তু দু’টো মূল কারণের জন্য এঁরা ভর্তি হতে পারেন না। 

প্রথমত, স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে পড়তে গেলে বা পিএইচডি করতে গেলে এঁদের এন্ট্রান্স টেস্ট দিতে হয় এবং প্রয়োজনীয় ফি জমা দিতে  হয়।  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এত দিন অনলাইন ফি নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। পাশাপাশি পরীক্ষাও অনলাইনে নেওয়া হত না। শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে এসেই পরীক্ষা দিতে হত। এই অসুবিধা দূর করতে এ বার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ফি নেওয়া চালু করেছে। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষায় সমস্ত বিষয়ে বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের জন্য ৫% আসন বরাদ্দ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 

কিন্তু তাতেও সমস্যার সমাধান পুরোপুরি হয়নি।  তাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনুমানিক ৫ কোটি টাকা খরচ করে বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের জন্য কলকাতায় আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক হস্টেল গড়তে চলেছে। উপাচার্য বলেন, এই হস্টেলে খাওয়াদাওয়ার সব রকম ব্যবস্থা থাকবে। তা ছাড়া ছাত্রছাত্রীরা চাইলে যাতে নিজেরা রান্না করে খেতে পারেন তার জন্য ঘরের সঙ্গে থাকবে কিচেনের  ব্যবস্থা। সেখানে থাকবে মাইক্রোওভেন, গ্যাস ইত্যাদি।    

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সোমা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,  ফ্রান্স, জার্মান ও চিন থেকে প্রচুর ছাত্রছাত্রী ই-মেল করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট কোর্সে পড়াশোনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, বিশেষ করে হিন্দি, উর্দু, বাংলার মতো ভার্নাকুলার ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়ে। তাঁরা ভারতীয় ভাষা ও সাহিত্য অনুবাদ করতে চান নিজেদের ভাষায়। বিষয়টি নিয়ে রেজিস্ট্রার উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলে সিন্ডিকেটে এই সংক্রান্ত প্রস্তাব পেশ করেন।  সেখানে এই প্রস্তাব অনুমোদন পায়। কিন্তু এই বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের এখানে ভর্তি হতে গেলে প্রবেশিকা পরীক্ষা দিতে হত। তার জন্য তাঁদের বিদেশ থেকে এখানে আসতে হত।  কিন্তু এ ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীরা স্টুডেন্ট ভিসা পান না। কেননা, ভিসার জন্য নিয়ম অনুযায়ী অ্যাডমিশন লেটার দেখাতে হয়। ভারতবর্ষের দু’টি বিশ্ববিদ্যালয় এলাহাবাদ ও বেনারসে পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি ভাবে ভর্তির বিশেষ ব্যবস্থা আছে। ভিসার সমস্যা এড়াতে এ বার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ও একই পথে হাঁটল।  

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here