নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : জলপাইগুড়ি শিশুপাচার কাণ্ডে যুক্ত কোনো আধিকারিককে আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফিরে গেলেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। দিল্লি ফিরে যাওয়ার আগে বুধবার জলপাইগুড়ি সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে সরব হন ন্যাশনাল কমিশন ফর প্রোটেকশন অফ চাইল্ড রাইটসের দুই সদস্য প্রিয়াংক কানুনগো ও যশবন্ত জৈন। প্রিয়াংক কানুনগো অভিযোগ করেন, শিশুপাচার কাণ্ডে প্রশাসনের গাফলতি স্পষ্ট। বেআইনি ভাবে ২০১৪-১৫ সালে নতুন শিশুসুরক্ষা কমিটি না তৈরি করে, অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে শিশু দত্তক দেওয়া হয়েছিল, যা সম্পুর্ণ অবৈধ। সেখানে পদাধিকার বলে জেলাশাসক থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসনের অনেকেই যুক্ত। জেলা শিশুসুরক্ষা আধিকারিক শাস্মিতা ঘোষকে ক্ষমতা অপব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। তাই নিজেদের সেই গাফিলতি ঢাকতে চন্দনা চক্রবর্তীর হোম সম্পর্কিত কোনো নথি এখনও তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। প্রশাসনকে সাত দিন সময় দেওয়া হয়েছে, এর মধ্যে নথি না পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কমিশনের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, গত ৩ মার্চ ফ্যাক্স মারফত তাঁদের আসার কথা এবং নথিপত্র দেওয়ার কথা আগেই জানানো হয়েছিল। যদিও এই ধরনের কোনো চিঠি পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেনে জেলাশাসক রচনা ভগত।

sanghamitraএ দিকে কমিশনের সদস্যরা মঙ্গলবার এবং বুধবার জলপাইগুড়ির বেশ কয়েকটি হোম পরিদর্শন করে হোমের অব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। দোমহনী এলাকায় রেলের পরিত্যক্ত আবাসনে বিনা অনুমতিতে একটি শিশু আশ্রম চালানো হচ্ছিল। বুধবার সকালে আচমকাই সেই সংঘমিত্র শিশু আশ্রমে যান কমিশনের সদস্য যশবন্ত জৈন। সেখাকার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে ক্ষুদ্ধ কমিশন সদস্য তৎক্ষণাৎ  সেটি বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। যদিও জলপাইগুড়ি শিশুপাচার কাণ্ড সামনে আসার পরই সেখান থেকে সমস্ত শিশুকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

জলপাইগুড়ির সরকারি ‘কোরক’ হোমেও কিছু অব্যবস্থার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। সেখানে কিশোর অপরাধে জড়িয়ে পড়া বিচারাধীন বা সাজাপ্রাপ্ত কিশোরদের সঙ্গে সাধারণ কিশোদেরও রাখা হয়। শিশু সুরক্ষা আইন অনুযায়ী তা নিয়মবিরুদ্ধ। এদের যাতে আলাদা ভাবে রাখা যায় তার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন কমিশনের সদস্য যশবন্ত জৈন। দিল্লি উড়ে যাওয়ার আগে তাঁরা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় যে ভাবে শিশুপাচার চক্র সামনে আসছে তা উদ্বেগের। ফিরে গিয়ে সমস্ত ঘটনা তাঁরা গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন কমিশনের সদস্যরা।

অন্য দিকে বুধবারও শিলিগুড়ি পিনটেল ভিলেজে শাস্মিতা ঘোষ ও জুহি চৌধুরীকে ফের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। চন্দনা চক্রবর্তীর জলপাইগুড়ির বাড়ি ও অফিসেও এ দিন এক দফা তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু নথিপত্র উদ্ধার করে নিয়ে যান সিআইডি আধিকরিকরা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন