নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সরকার তার ৫০ লক্ষ কর্মচারী এবং ৫৮ লক্ষ পেনশনভোগীর জন্য মহার্ঘ ভাতা ২ শতাংশ বাড়াতে পারে। এই বৃদ্ধি ২০১৭-এর জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

আয়ের ওপর মুদ্রাস্ফীতির যে প্রভাব পড়ে তা থেকে কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের কিছুটা স্বস্তি দিতেই মহার্ঘ ভাতা ও মহার্ঘ রিলিফের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত এই বৃদ্ধিতে শ্রমিক ইউনিয়নগুলি খুশি নয়। তাদের বক্তব্য, জিনিসপত্রের দাম যে ভাবে বাড়ছে, তাতে এই সামান্য বৃদ্ধিতে খুব একটা লাভ হবে না।

কনফেডারেশন অফ সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ-এর সভাপতি কে কে এন কুট্টি জানান, “কেন্দ্রের নির্ধারিত সর্বসম্মত সূত্র অনুসারে মহার্ঘ ভাতা ২ শতাংশ বাড়বে এবং তা গত ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।” তবে এই ‘সামান্য’ বৃদ্ধিতে কুট্টি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, এই মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির পরিমাণ নির্ধারণে যেটি মাপকাঠি হিসাবে ব্যবহৃত হয়, সেই ‘শিল্পশ্রমিকদের জন্য ক্রেতা মূল্যসূচকের’ (সিপিআই-আইডব্লিউ) সঙ্গে বাস্তবের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির যে পরিমাপ লেবার ব্যুরো আর কৃষি মন্ত্রক করে তার মধ্যে বিস্তর ফারাক থাকে। তাঁর দাবি, সিপিআই-আইডব্লিউ একটি কাল্পনিক সংখ্যা। লেবার ব্যুরো যে তথ্য জোগাড় করে তার মান খুবই খারাপ, বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। আর এই তথ্যের ভিত্তিতেই তৈরি হয় সিপিআই-আইডব্লিউ।

২০১৭-এর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর, এই সময়কালে মহার্ঘ ভাতা বাড়ানোর জন্য গড় সিপিআই-আইডব্লিউ ধরা হয়েছে ৪.৯৫%। যে হেতু সরকার ২০১৬-এর জুলাই থেকে মহার্ঘ ভাতা ২ শতাংশ বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন গত অক্টোবরে, তাই বাকি ২ শতাংশ বাড়বে এই জানুয়ারি থেকে।

কিন্তু বাড়ার কথা তো ২.৯৫%। তা হলে ২% বাড়বে কেন?

আসলে মহার্ঘ ভাতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকার ডেসিম্যাল পয়েন্টটা হিসেবে ধরে না। তাই মহার্ঘ ভাতা বাড়বে ২ শতাংশ।

কুট্টি জানান, মহার্ঘ ভাতা নির্ধারণ করার জন্য ডেসিম্যাল পয়েন্ট বা ভগ্নাংশকে হিসাবের মধ্যে আনতে জাতীয় পরিষদের পরবর্তী বৈঠকে কনফেডারেশন আবেদন জানাবে।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন