child theft

কলকাতা: দিনভর উত্তেজনা বিক্ষোভের পর মেডিক্যাল কলেজ থেকে চুরি যাওয়া শিশু ৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার হল বাগমারি এলাকা থেকে। সিসিটিভি-র ছবি থেকে এলাকার বাসিন্দারা মহিলা-সহ ওই শিশুটিকে শনাক্ত করে। পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ সন্দেহভাজন মহিলাটিকে আটক করে এবং শিশুটিকে ফের মেডিক্যাল কলেজে পাঠায়। জানা গিয়েছে, বাবা-মা শিশুটিকে শনাক্ত করেন। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে, হবে ডিএনএ পরীক্ষাও। শিশুচুরির অভিযোগে পুলিশ আরও একজনকে আটক করেছে।        

সরস্বতী নস্কর নামে এক মহিলা সন্তান প্রসবের জন্য শুক্রবার মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন। ওই দিন রাতেই একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন তিনি। পারিবারিক সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সকাল সাতটা নাগাদ তাঁর ওয়ার্ডে একজন আয়া ঢোকেন। পরীক্ষা করানোর নাম করে সরস্বতীদেবীর সন্তানকে নিয়ে যান। কিন্তু অনেকক্ষণ পেরিয়ে যাওয়ার পরেও ওই মহিলা না ফেরায় সন্দেহ হয় সরস্বতী দেবীর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত জানান তিনি। খবর দেন নিজের পরিবারের বাকি সদস্যদের।

সরস্বতীদেবীর পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে এলে বচসা শুরু হয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। সুপারকে ঘিরে বিক্ষোভও দেখান তাঁরা। হাসপাতালে সিসিটিভি থাকলেও, ইচ্ছা করে সেটি দেখানো হচ্ছে না এমনও অভিযোগ করেন তাঁরা। শিশুটির পিসির অভিযোগ, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে সিসিটিভি খারাপ। আমাদের মনে হচ্ছে ইচ্ছে করে সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের দেখানো হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষের সবাই জড়িয়ে আছে এই চুরির সঙ্গে।”

খবর পেয়ে হাসপাতালে আসে পুলিশ। তাদের ঘিরেও বিক্ষোভ দেখায় পরিবারটি। মেডিক্যাল চত্বরে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি নেতৃত্ব। সুপারের সঙ্গে দেখা করে শিশুচুরির ব্যাপারে যথাযথ তদন্তের দাবি জানায় তারা।  

সন্ধের দিকে সেন্ট্রাল মেট্রো স্টেশনের তরফ থেকে প্রকাশিত একটি সিসিটিভি ফুটেজে চিহ্নিত হয় শিশুচুরির অভিযোগে অভিযুক্ত ওই মহিলা। মহিলাকে ধরে দিতে পারলে এক লক্ষ টাকা পুরস্কারের কথা ঘোষণা করে কলকাতা পুলিশ। শেষ পর্যন্ত সেই সিসিটিভি ফুটেজের ছবি দেখেই বাগমারির মানুষজন শিশু-সহ মহিলাকে ধরে ফেলে। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত মহিলা কাছাকাছি ফুলবাগানের বাসিন্দা।   

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here