নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : শিশুপাচার কাণ্ডে সিআইডির নজর এখন এই চক্রের রাঘববোয়ালদের দিকে। তাই শনিবার নতুন করে চন্দনা চক্রবর্তী বা সোনালি মণ্ডলকে হেফাজতে চাইলেন না তদন্তকারীরা। ধৃত মানস ভৌমিককেও হেফাজতের মেয়াদ শেষের আগেই পেশ করা হল আদালতে। এঁদের তিন জনকেই ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন জলপাইগুড়ি আদালতের বিচারক। ধৃত সরকারি আধিকারিক মৃণাল ঘোষ ও চিকিৎসক দেবাশিস চন্দকে ৬ দিনের সিআইডি হেফাজত দিলেন বিচারক।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতারের পর চন্দনা ও সোনালিকে ১৩ দিনের জন্য নিজদের হেফাজতে নিয়েছিল সিআইডি। ২৩ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতারের পর মানস ভৌমিককেও ১০ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে রেখেছিল তারা। কিন্তু এই মুহূর্তে তাঁদের আর জেরা করার প্রয়োজন নেই বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। সেই কারণেই এঁদের আর নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি তাঁরা। বরং এই তিন জনকে জেরা করে যে প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের নাম ও তথ্য পাওয়া গিয়েছে, এখন তা নিয়েই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন সিআইডি আধিকারিকরা। এখন এই চক্রের মূল শেকড় খুঁজে পেতে মরিয়া সিআইডি তদন্তের জাল গোটাতে ধৃত মৃণাল ঘোষ ও চিকিৎসক দেবাশিস চন্দকে নিজেদের হেফাজতে নিল।

শুক্রবার শিলিগুড়ি পিনটেল ভিলেজে ম্যারাথন জেরা পর রাতে গ্রেফতার করা হয় দার্জিলিং জেলা শিশু সুরক্ষা আধিকারিক মৃণাল ঘোষ ও দার্জিলিং জেলা শিশু সুরক্ষা সমিতির সদস্য চিকিৎসক শুভাশিস চন্দকে। জলপাইগুড়ি শিশুপাচার কাণ্ডে এই প্রথম এক জন সরকারি আধিকারিক গ্রেফতার হয়েছেন। স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনা ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের। তাঁদের সন্দেহ, শুধু এঁরাই নন, আরও বেশ কয়েক জন সরকারি আধিকারিক এই ঘটনায় জড়িত। জড়িত বেশ কয়েক জন চিকিৎসকও। কারণ, এত দিন ধরে শুধুমাত্র চন্দনা চক্রবর্তীর পক্ষে এই রকম একটা চক্র চলানো সম্ভব নয়। তাই তাঁর পেছনে কোন কোন প্রভাবশালীরা মদত দিয়েছিলেন, এখন সেই শেকড়ই খুঁজে বার করতে চাইছে সিআইডি। অবৈধ ভাবে শিশু দত্তক দেওয়ার ক্ষেত্রে মৃণাল ঘোষ ও দেবাশিস চন্দের পদ ব্যবহার করে চন্দনা চক্রবর্তী যে সুবিধে পেয়েছেন তা নিয়ে কোনো রকম সন্দেহ নেই তদন্তকারীদের। এবং তার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা লেনেদেন হয়েছে বলেই অভিযোগ সিআইডির। আরও কোন সরকারি আধিকারিক এবং প্রভাবশালীরা এই লেনদেনে যুক্ত তা জানতে চাইছেন তদন্তকারীরা। ধৃত মৃণাল ঘোষ ও দেবাশিস চন্দ সেই সূত্র দিতে পারেন বলে ধারণা তাঁদের। এই কারণ দেখিয়েই শনিবার আদালতে বিচারকের কাছে ধৃত মৃণাল ঘোষ ও দেবাশিস চন্দকে ১৪ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে চেয়েছিলেন তদন্তকারীরা। কিন্তু তার বিরোধিতা করেন অভিযুক্তদের আইনজীবী অলকেশ চক্রবর্তী ও শংকর দে। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক অভিযুক্তদের ৬ দিনের সিআইডি হেফাজত মঞ্জুর করেছেন বলে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী প্রদীপ চ্যাটার্জি। বিকেলেই তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় শিলিগুড়িতে। সেখানে পিনটেল ভিলেজে জেরা করা হবে তাঁদের। তবে আজ আদালতে পেশের সময় অন্য দিনের মতো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি চন্দনা চক্রবর্তী। কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি মৃণাল ঘোষ বা দেবাশিস চন্দও।

এ দিকে আজও প্রায় ৫ ঘণ্টা জেরার পর রাতে ছেড়ে দেওয়া হয় মৃণাল ঘোষের স্ত্রী, জলপাইগুড়ির জেলা শিশু সুরক্ষা আধিকারিক সাস্মিতা ঘোষকে। তবে তাঁর ওপর নজরদারি রাখা হয়েছে বলে খবর সিআইডি সূত্রে। পিনটেল ভিলেজে কয়েক দফা জেরা করা হয় জুহি চৌধুরীকেও।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন