নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : জলপাইগুড়ি শিশুপাচার কাণ্ডে স্বামীর পর এ বার গ্রেফতার স্ত্রীও। সোমবার সন্ধ্যায় জলপাইগুড়ির শিশু সুরক্ষা আধিকারিক সাস্মিতা ঘোষকে গ্রেফতার করে সিআইডি। তাঁর স্বামী দার্জিলিং জেলার শিশু সুরক্ষা আধিকারিক মৃণাল ঘোষকে শুক্রবারই গ্রেফতার করেছিল সিআইডি। তিনি এই মুহূর্তে জলপাইগুড়ি আদালতের নির্দেশে সিআইডি হেফাজতে রয়েছেন।

শুক্রবার শিলিগুড়ির পিনটেল ভিলেজে স্বামী-স্ত্রীকে ডেকে পাঠিয়েছিল সিআইডি। সে দিন রাতে কয়েক দফা জেরার পর গ্রেফতার করা হয় মৃণাল ঘোষকে। সাস্মিতা ঘোষকে ছেড়ে দেওয়া হলেও তাঁকে নজরে রেখেছিল সিআইডি। প্রতি দিনই তাঁকে পিনটেল ভিলেজে ডেকে জেরা করা হচ্ছিল। সোমবার সকালে ধৃত মৃণাল ঘোষকে সঙ্গে নিয়ে তাঁদের শিলিগুড়ির সুভাষপল্লির ফ্ল্যাটে গিয়ে তল্লাশি চালান তদন্তকারী আধিকারিকরা। সেখানে ‘বিমলা শিশুগৃহ’ থেকে দত্তক দেওয়া সম্পর্কিত বহু নথি উদ্ধার করেন তাঁরা। ফের বিকেলে পিনটেল ভিলেজে ডেকে পাঠানো হয় সাস্মিতাকে। ঘণ্টা তিনেক টানা জেরার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার তাঁকে জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে চাইবে সিআইডি।

শিশুপাচার কাণ্ড সামনে আসার পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছিল। সাস্মিতা ঘোষকে এই কারণে জেলা প্রশাসনের তরফে শো-কজও করা হয়। সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ায় শনিবারই তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়। সোমবার তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জলপাইগুড়ির জেলাশাসক রচনা ভগত। 

সিআইডির জেরায় উঠে এসেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। বছর কয়েক আগে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে কাজ করার সুবাদে সাস্মিতা-মৃণালের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল শিশুপাচার কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত চন্দনা চক্রবর্তীর। জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং জেলার শিশু সুরক্ষা আধিকারিক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর এই দম্পতি বেআইনি ভাবে শিশু দত্তক দেওয়ার ক্ষেত্রে চন্দনা চক্রবর্তীকে সাহায্য করতেন নিজেদের পদের অপব্যবহার করে। বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা ও গাড়ি এবং অন্যান্য সুযোগসুবিধা নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত বছর জুন মাসে যখন জলপাইগুড়ি শিশু সুরক্ষা সমিতি এই শিশুপাচার নিয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে প্রথম অভিযোগ জানায়, সেখানে সাস্মিতা ঘোষের বিরুদ্ধেও অভিযোগ ছিল বলে জানিয়েছেন সমিতির চেয়ারপার্সন বেবি উপাধ্যায়। গ্রেফতার হওয়ার পর হোমের কর্ণধার চন্দনা চক্রবর্তী ও অন্য অভিযুক্তদের জেরার সময়ও সাস্মিতার নাম উঠে এসেছে।

আগামীকাল মঙ্গলবার সাস্মিতা ঘোষকে আদালতে তুলে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে নিজেদের হেফাজতে তাঁকে চাওয়া হবে বলে খবর সিআইডি সূত্রে।

এ দিকে জুহি চৌধুরী ও চিকিৎসক দেবাশিস চন্দকে সোমবার পিনটেল ভিলেজে জেরা করা হয়।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন