গুজরাত: ১৮৩-৪ [রায়না ৬৮ নটআউট (৫১), কার্তিক ৪৭ (২৫), কুলদীপ ২-২৫]

কলকাতা: ১৮৪-০ [ লিন ৯৩ নটআউট (৪১), গম্ভীর ৭৬ নটআউট (৪৮)]

রাজকোট: অস্ট্রেলীয় সার্কিটে তাঁর খুব নাম। শুধু তা-ই নয়, মারকুটে টি ২০ ব্যাটসম্যান হিসেবে নাম কুড়িয়েছেন বিশ্বব্যাপী চলতে থাকা বিভিন্ন টি ২০ টুর্নামেন্টে। শুধু বাকি ছিল আইপিএলে নিজের ছাপ রেখে যাওয়া। সেটাও হয়ে গেল এ বার। একার হাতেই গুজরাতকে গুঁড়িয়ে দিলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিস লিন। সেই সঙ্গে তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দিয়ে গেলেন গম্ভীর। আইপিএলের ইতিহাসে একাধিক রেকর্ড ভেঙে দিয়ে প্রথম ম্যাচেই জয়ের স্বাদ পেল কলকাতা। 

অথচ ম্যাচের প্রথম ইনিংস কিন্তু অন্য ইঙ্গিত দিয়েছিল। শুক্রবার লড়াইটা ছিল এমন দু’জন অধিনায়কের মধ্যে যাঁদের মধ্যে অমিলের থেকে মিলই বেশি। প্রথম মিল, দু’জনেই বাঁ-হাতি, দ্বিতীয় মিল দু’জনেই তাঁদের নিজের দলের প্রধান ব্যাটসম্যান আর তৃতীয় মিল, দু’জনেই জাতীয় দলের বাইরে এবং প্রত্যাবর্তন ঘটানোর জন্য পাখির চোখ করেছেন আইপিএলকেই। সর্বোপরি, দু’জনেই এই ম্যাচে রান পেয়েছেন।

টসে হেরে প্রথমে বোলিং-এর সিদ্ধান্ত নেন গম্ভীর। কিন্তু পিচে সবুজ আভা থাকলেও ট্রেন্ট বোল্টকে প্রথম ওভারটা দিয়েই স্পিনের আশ্রয় নেন গম্ভীর এবং সাফল্যও পান। জেসন রয়ের উইকেট তুলে নেন পীযূষ চাওলা। দ্বিতীয় উইকেটে ভালো পার্টনারশিপ তৈরি হয় সুরেশ রায়না এবং ব্রেন্ডন ম্যাককালামের মধ্যে। সদ্য জাতীয় দলে অভিষেক ঘটিয়ে সাড়া ফেলে দেওয়া কুলদীপ যাদবের শিকার হন ম্যাককালাম। এতেই থেমে থাকেননি কুলদীপ, তুলে নেন অ্যারন ফিঞ্চের উইকেটও। কিন্তু অন্য দিকে তখন সাবলীল ভাবেই ব্যাট করে যাচ্ছিলেন রায়না। তবে ধুমধাড়াক্কা চালানোর বদলে কিছুটা ধরে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। তবে মারমুখী মেজাজে ব্যাট করে দলকে ১৮০-এর গণ্ডী পার করে দেন দীনেশ কার্তিক।

দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য একটা ‘লিন-গম্ভীর শো’। গত তিন বছরের মতো এ দিন গম্ভীরের সঙ্গে ওপেন করেননি উথাপ্পা। তাঁর বদলে নামেন লিন। এই সিদ্ধান্তই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায়। শুরুর কয়েক ওভারেই চার-ছক্কার জোরে গুজরাতের কবল থেকে ম্যাচ বার করে নেন লিন। তাঁর অর্ধশতরান আসে ১৯ বলে। অন্য দিকে লিনকে ও রকম ভাবে তাণ্ডব চালাতে দেখে নিজের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন গম্ভীরও। ৩৩ বলে তাঁর অর্ধশতরান আসে। জয়ের পথে কিছু রেকর্ডও করে এই জুটি, যার মধ্যে অন্যতম যে কোনো উইকেটে কেকেআরের সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ। সেই সঙ্গে আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপও করে ফেলেন এই জুটি। 

৩১ বল বাকি থাকতে জয়ের টার্গেটে পৌঁছোয় কেকেআর। বিশাল জয়ের ফলে এই মুহূর্তে লিগের এক্কেবারে মগডালে উঠে পড়ল কলকাতা। 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here