নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান : ২০১২ সালে পানাগড়ে বাইপাসের ধারে একটি মাঠে শুরু হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাটি তীর্থ মেলা। পরে তা সরে আসে বর্ধমানের কৃষিখামারে, মাটি উৎসব নামে। সোমবার প্রদীপ জ্বালিয়ে ষষ্ঠ মাটি উৎসবের শুভ সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, একই সঙ্গে ১৩০টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন।

উদ্বোধন হল ৬৫টি প্রকল্পের এবং শিলান্যাস হল বাকি ৬৫টি প্রকল্পের। যে প্রকল্পগুলো উদ্বোধন হল সেগুলো রূপায়িত করতে খরচ হয়েছে ৬৯ কোটি ৮৬ লক্ষ ৩৯ হাজার টাকা। আর যে প্রকল্পগুলোর শিলান্যাস করা হল সেগুলোর জন্য খরচ ধরা হয়েছে ৩১৬ কোটি ৬০ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা। আসানসোল থেকে দেবীপুর এবং রায়না থেকে কালনা-কাটোয়া পর্যন্ত গোটা জেলা জুড়ে এই সব প্রকল্প রয়েছে। এই প্রকল্পগুলি ছাড়াও রয়েছে সবুজ সাথী, কন্যাশ্রী, গীতাঞ্জলী, জমির পাট্টা প্রদান, আমার ফসল আমার গোলা ইত্যাদি প্রকল্প। মুখ্যমন্ত্রী উদ্বোধন করেন কয়েকটি ব্রিজ, জল প্রকল্প, নতুন রাস্তা, নতুন স্কুলভবন, ছাত্রাবাস, কর্মতীর্থ, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্প। শিলান্যাস করা হয় নতুন প্রশাসনিক ভবন, যুব কল্যাণ, মাদ্রাসা শিক্ষা, কৃষি বিপণন, আদিবাসী উন্নয়ন দফতর এবং বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থার নানা প্রকল্পের।

মাটি উৎসবের উদ্বোধনী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক, মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, দুই সাংসদ ও  বর্ধমানের সমস্ত বিধায়ক-সহ রাজ্য জেলা স্তরের প্রশাসনিক আধিকারিকরা। প্রথমে মেলা চলার কথা ছিল ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রথমে পাঁচ দিন ব্যাপী এই মেলার উদ্যোগ নেওয়া হলেও মেলাপ্রাঙ্গণকে যে ভাবে বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান সাজিয়ে তুলেছে সেগুলিকে দেখলে মনে হবে স্থায়ী রূপ দেওয়া হয়েছে। তাই ঠিক হয়েছে, আরও দু’দিন বাড়িয়ে সাত দিন মেলা চালানো হবে।

এ বার মোট স্টল থাকছে ১১৬টি। চাষের ক্ষেত্রে কৃষকদের সহযোগিতার জন্য বীজ, সার থেকে শুরু করে ফল-ফুল, সমস্ত ধরনের কৃষি বিপণন ব্যবস্থা এখানে রাখা হয়েছে। এই উৎসব চলার পাশাপাশি মূল মঞ্চ-সহ আরও দু’টি মঞ্চে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়াও এই সাত দিন সকাল থেকে সন্ধে পর্যন্ত রয়েছে চাষিদের জন্য কৃষিসংক্রান্ত বিভিন্ন আলোচনাসভা, কর্মশালা।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘণ্টা খানেক এই মাটি মঞ্চে থাকেন। আড়াইটে নাগাদ চপারেই উড়ে যান বোলপুরে। সেখানে মঙ্গলবার কেঁদুলিতে জয়দেব মেলার উদ্বোধন করবেন। এর পর নানা কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে আগামী বুধবার কলকাতায় ফিরে যাবেন। 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here