নয়াদিল্লি: আবার পাল্টি খেল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। সোমবার নির্দেশিকা জারি করে আরবিআই জানায় ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাত্র একবারই ৫০০০ টাকা পর্যন্ত নিজের অ্যাকাউন্টে জমা করতে পারবেন গ্রাহকরা, এবং সে ক্ষেত্রেও ব্যাঙ্কের আধিকারিকদের কাছে জবাবদিহি করতে হবে কেন এতদিন পাওয়া সত্ত্বেও তাঁরা ব্যাঙ্কের এসে টাকা জমা করেননি।

বুধবার নতুন নির্দেশিকায় আরবিআই জানায়, সোমবারের জারি করার নির্দেশিকা থেকে প্রথম দুটি অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, নতুন নির্দেশিকা মেনে চললে গ্রাহকরা ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত যত টাকাই জমা করুন না কেন, কোনো জবাবদিহি তো করতে হবেই না, পাশাপাশি এক বারের বেশি জমা করার ক্ষেত্রেও কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।

এখানেই সৃষ্টি হচ্ছে বিভ্রান্তি। মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি জানান, একজন গ্রাহক একবারই টাকা জমা করবেন ব্যাঙ্কে। এই ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই তার বক্তব্যের সম্পূর্ণ উল্টোপথে হাঁটল আরবিআই। এই বিভ্রান্তি দূর করতে পারে একমাত্র আরবিআই থেকে জারি করা টাকা জমা সংক্রান্ত স্পষ্ট নির্দেশিকা।

এই বিভ্রান্তি কিন্তু নতুন নয়। নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি বেড়েছে বই কমেনি।  আরবিআই কখনও বলেছে পোস্ট অফিসে টাকা বদল করা যাবে তো তার কয়েকদিন পরেই টাকা বদলের স্থান হিসেবে তারা বাদ দিয়েছে পোস্ট অফিসকে। একবার বলেছে টাকা বদলের ঊর্ধ্বসীমা ৪৫০০ টাকা, কয়েকদিন পর সেটা কমিয়ে ২০০০ করে, তার কয়েকদিন পরে টাকা বদল করার সিদ্ধান্তই বাতিল করে আরবিআই। পুরনো ৫০০ আর ১০০০ টাকার নোট কোথায় ব্যবহার করা যাবে সে ব্যাপারেও অনবরত ভোল বদলেছে আরবিআই। ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুরোনো নোট পেট্রোল পাম্পে ব্যবহার করার নির্দেশ দিলেও, হঠাৎ করে সেটা কমিয়ে ২ ডিসেম্বর করা হয়।

শুধু কী আরবিআই, বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রী আর অর্থমন্ত্রীর পরস্পরবিরোধী মন্তব্যেও। নোট বাতিল ঘোষণা করার পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, দু’দিনের মধ্যেই সমস্যা মিটে যাবে, ব্যাঙ্কে চলে আসবে নতুন নোট। এর কয়েক দিন পর মোদী বলেন, “দুর্নীতিমুক্ত ভারত গড়ার স্বার্থে অন্তত ৫০ দিন কষ্ট করুন ভারতবাসী”। অর্থমন্ত্রী তো আরও এক ধাপ এগিয়ে কার্যত বুঝিয়ে দেন যে ২০১৭-র মাঝামাঝির আগে নোট সমস্যা মিটবে না। নগদহীন অর্থনীতি নিয়ে দু’জনের মন্তব্য বিভ্রান্তিকর। এক দিকে সম্পূর্ণ নগদহীন অর্থনীতির সওয়াল করছেন মোদী। সবাইকে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নগদহীন লেনেদেনে সিদ্ধহস্ত হওয়ার আহবান জানাচ্ছেন, অন্য দিকে অরুণ জেটলি বলছেন, অর্থনীতি কখনোই সম্পূর্ণ ভাবে নগদহীন হতে পারে না। নগদ লেনদেনের বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে চলবে নগদহীন অর্থনীতি।

এই বিভ্রান্তকর পরিস্থিতির মধ্যে নতুন সংযোজন বুধবার আরবিআইয়ের বদলি নির্দেশিকা। এর পরিপ্রেক্ষিতেই হরিয়ানার কংগ্রেস নেতা রণদীপ সুরজওয়ালা আরবিআইয়ের সমালোচনা করে বলেন “আরবিআই এখন রিভার্স ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের পর তারা খালি নিজেদের অবস্থান বদল করে যাচ্ছে। এই নিয়ে ১২৬ বার নির্দেশ পালটাল আরবিআই।” অন্য দিকে রাহুল গান্ধী টুইটে একটি ছবির মাধ্যমে বারবার ভোলবদলে আরবিআইয়ের দিশাহীন দশা ব্যক্ত করেন। ওই ছবিতে ছিল একটি ট্র্যাফিক সিগন্যালে অনেকগুলো স্তম্ভ। সেখানে জ্বলছে বিভিন্ন রকম আলো, বিভিন্ন দিকে। অর্থাৎ গাড়ি কোন দিকে যাবে সেটাই বোঝা যাচ্ছে না।

বুধবার নতুন নির্দেশিকা জারির পরও কিন্তু বলা যাচ্ছে না, ৩০ ডিসেম্বরের আগে ফের কোনো নির্দেশিকা জারি করবে না আরবিআই। এই অবস্থায় কবে এই বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি শেষ হবে তাঁর কোনো আন্দাজ এখনও পাওয়া যাচ্ছে না।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here