souryaশৌর্য মেউর :

জমে উঠেছে বইমেলা। বই কেনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছে জোর কদমে। আর খাওয়া ছাড়া কোনো অনুষ্ঠানই সম্পূর্ণ হয় না। তাই ‘প্রধান অতিথি দেশ’ কোস্তা রিকা থেকে আগত অতিথিদের জন্য কোস্তা রিকান বিভিন্ন খাবার নিয়ে বইমেলার প্রাঙ্গণে হাজির হয়েছিল কোষে কষা। সেই সব খাবার পরখ করে দেখলেন দুই কোস্তা রিকান। সাইকেলে কোস্তা রিকা থেকে ভারতে আসা আয়ান কাসকান্তে বেখারানো এবং বাঙালির ঘরণী কোস্তা রিকান মহিলা কোনস্তানজা কারাসকো।

খাদ্য তালিকায় ছিল ‘গায়ো পিনতো’ যেটি কোস্তা রিকার এক বহুল প্রচলিত প্রাতরাশ। ভাতের সঙ্গে ব্ল্যাক বিনস্‌, সবুজ ও লাল ক্যাপসিকাম আর পিঁয়াজ দিয়ে বানানো এই পদটি কোস্তা রিকানদের  দৈনন্দিন জীবনের খাবার। তার সঙ্গে ছিল ‘পিকাদিয়ো’, একটি ঐতিহ্যমণ্ডিত স্প্যানিশ খাবার। আয়ান বলেন, চিকেন দিয়ে বানানো এই পদটি আদতে বানানো হয় গোমাংস অথবা শুকরের মাংস দিয়ে এবং এটি পরম উপাদেয়। অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘বেক্‌ড ভেটকি উইথ কোকোনাট-সিলান্ত্রো সস’ যে পদটি সকলেরই বাহবা পেলয়। কোনস্তানজা এই পদটিতে খুঁজে পেলেন ক্যারিবিয়ান স্বাদ। এ ছাড়াও ছিল জিভে জল আনা ‘সোপা নেগ্রা’। এটি একটি স্যুপ, যার মূল উপাদান ব্ল্যাক বিনস্‌।

mela-14-costarica-khabarদুই কোস্তা রিকান দেশের বাইরে কলকাতায় বসে নিজের দেশের খাবার পেয়ে যারপরনাই আহ্লাদিত। আয়েশ করে আস্বাদন করে দেখলেন সেই সব খাবার। রসনা তৃপ্ত করে গুণগান করলেন সবক’টি পদের। তাঁরা জানান, সবক’টি পদই অত্যন্ত সুস্বাদু এবং কোস্তা রিকার খাবার হলেও রসনাপ্রিয় বাঙালির জিভের জন্যও যথাযথ এই খাবার। কোস্তা রিকার সঙ্গে বাঙালিদের খাদ্যাভাসের মিল যে আছে তা স্পষ্ট বোঝা গেল ওই খাবারগুলো চেখে।

কোষে কষার মালিক অরুণাভ দাসশর্মা জানালেন, খাবার তাঁর কাছে একটি প্যাশনের বিষয়। বইমেলায় ‘খাবই’ অর্থাৎ খাবার ও বই, দু’টির স্বাদ মেলে। আসলে বাঙালির কাছে বইমেলা দ্বিতীয় দুর্গাপুজোর মতন। সেই উপলক্ষে যেমন কোষে কষা যেমন কোস্তা রিকান খাবার বাঙালির নাগালে নিয়ে এসেছে তেমনই বাংলার খাবারদাবার সারা ভারত তথা গোটা বিশ্বের সামনে তুলে ধরার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি সকলকে আমন্ত্রণ করলেন কোস্তা রিকান ফুড ফেস্টিভ্যালে যোগ দিতে। ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে এই ফেস্টিভ্যাল, চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি অবধি। কোস্তা রিকান খাবার পাওয়া যাবে কোষেকষার কলকাতার নয়টি শাখায়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here