খবর অনলাইন: ‘উড়তা পঞ্জাব’ নিয়ে তাদের সিদ্ধান্ত যে সঠিক তা বৃহস্পতিবার বোম্বে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চকে বোঝানোর চেষ্টা করেন সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্‌ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি) তথা সেন্সর বোর্ডের কৌঁসুলি। কৌঁসুলি বলেন, ওই ফিল্‌মে যে অংশগুলি বাদ দিতে বলা হয়েছে তা যথার্থ এবং আইনগত ভাবে বৈধ। কিন্তু সেন্সর বোর্ডের যুক্তিবাণ ডিভিশন বেঞ্চের উপর তেমন ছাপ ফেলেছে বলে মনে হয় না।

“ব্যাপারটা নিয়ে এত শোরগোল কেন হচ্ছে ? খুব ন্যক্কারজনক ঘটনা। আমরা দায়িত্ববান মানুষ। আমাদের এই সব এড়িয়ে চলা উচিত। বর্তমান প্রজন্ম এমন জিনিস চায় যা অনেক বেশি পরিপক্ক। কিন্তু আপনারা ‘না’ বলছেন” – সেন্সর বোর্ডের কৌঁসুলির উদ্দেশে এই মন্তব্য করে বিচারপতি এস সি ধর্মাধিকারী এবং বিচারপতি শালিনী ফানসলকর জোশীকে নিয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ।

ফিল্‌মে ‘কাট’-এ আপত্তি জানিয়ে প্রযোজক ফ্যান্টম ফিল্‌ম্‌স বোম্বে হাইকোর্টে মামলা করেছিল। ফিল্‌মে ৮৯টি ‘কাট’-এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে যেখানে যেখানে পঞ্জাবের ৮টি শহরের নাম রয়েছে এবং যেখানে যেখানে ‘এমএলএ’, ‘এমপি’, ‘ইলেকশন’, ‘পার্লামেন্ট’ শব্দগুলি ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলি বাদ দিতে বলেছে সেন্সর বোর্ড।

ডিভিশন বেঞ্চ ব্যাখ্যা করে বলে, “ছবিটির নামে রাজ্যের নামটি রয়েছে। কাহিনির ঘটনাস্থল তো ওই রাজ্য। এবং ওই রাজ্যের মানুষদেরই তো ছবিতে দেখানো হয়েছে।” বেঞ্চের এই কথায় সেন্সর বোর্ডের কৌঁসুলি বলেন, রাজ্যকে সঠিক ভাবে তুলে ধরা উচিত।

বিচারপতিরা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “পঞ্জাব কি শুধু মাদকের জন্যই পরিচিত?” তাঁদের মন্তব্য, এই ছবি থেকে সেন্সর বোর্ড যে সব শহরের নাম বাদ দিতে বলেছে তার একটি হল মোগা। এই তো কিছু দিন আগে মোগা নিয়ে একটা ফিল্‌ম হয়েছে, যাতে শহরটিকে ক্যানসারের শহর হিসাবে দেখানো হয়েছে। “তাতে তো ওই শহরের কোনও দুর্নাম হয়নি বা শহরকে অসম্মান করা হয়নি” – বিচারপতিরা মন্তব্য করেন। পরোক্ষে সেন্সর বোর্ডের দ্বিচারিতার দিকে ইঙ্গিত করে আদালত বলে, গোয়াতেও তো মাদক সমস্যা আছে। তা সত্ত্বেও সেন্সর বোর্ড ‘গো, গোয়া গন’ ছবিটিকে ছাড়পত্র দেয়। অথচ ওই ছবিটি দেখলে মনে হয় শুধু মদ আর মেয়েমানুষ নিয়েই গোয়া।

শুক্রবারেও এই মামলার শুনানি চলবে।

এ দিকে ‘উড়তা পঞ্জাব’-এর সমর্থনে অভিনেত্রী প্রিয়ঙ্কা চোপড়া বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষরা অনেক লড়াই করে বাক স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন। কখনওই সৃজনশীলতার গলা টিপে ধরা উচিত নয়। বিজেপি অনুগত বলে খ্যাত অভিনেতা অনুপম খেরও ‘উড়তা পঞ্জাব’-এর সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন। বলেছেন, “উড়তা পঞ্জাব’-এর ক্ষেত্রে সিবিএফসি-র ভূমিকা দুঃখজনক। সিনেমা হল সমাজের প্রতিফলন। অনেক সময় সমস্যা তুলে ধরা হলে পরিবর্তন আনা যায়।” ও দিকে সিবিএফসি রিভ্যাম্প কমিটির প্রধান বিখ্যাত পরিচালক শ্যাম বেনেগাল  এনডিটিভি-কে বলেছেন, ছবিটি খুব সুন্দর ভাবে তৈরি করা হয়েছে। এবং এটা পঞ্জাব-বিরোধী নয়। “ফিল্‌মটি নিয়ে কী সমস্যা আছে তা ঠিকঠাক বোঝার জন্য আমি ছবিটি দেখতে চেয়েছিলাম। ছবিটায় পঞ্জাবের সমালোচনা করা হয়েছে বলে একটা ধারণার সৃষ্টি হয়েছে। আমি কিন্তু তা মনে করি না।”

ছবি: সৌজন্যে দ্য হিন্দু

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here