চেন্নাই: ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১২০ কিমি হাওয়ার গতি বেগ নিয়ে বিকেল ৩টে নাগাদ চেন্নাইয়ে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় বর্ধা। বর্ধার ফলে ইতিমধ্যেই তামিলনাড়ুতে চার জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। গাছ পড়ার পাশাপাশি, চাষাবাদেও বিপুল ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বর্ধার প্রভাবে রবিবার রাত থেকে বৃষ্টি শুরু হয় চেন্নাই-সহ উত্তর তামিলনাড়ুর কাঞ্চিপুরম, তিরুভাল্লুর জেলা এবং দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশের নেলোর আর প্রকাশম জেলায়। বর্ধা যত এগিয়ে এসেছে তত বেড়েছে বৃষ্টির দাপট, সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। বর্ধা আছড়ে পড়ার আগেই চেন্নাই শহর জুড়ে এক হাজারের ওপর গাছে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। চেন্নাই-সহ উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতে প্রায় দু’মিটার পর্যন্ত সামুদ্রিক ঢেউয় আছড়ে পড়েছে।  মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটা থেকে দুপুর আড়াইটে পর্যন্ত প্রায় দুশো মিলিমিটারের কাছাকাছি বৃষ্টি হয়েছে চেন্নাইয়ে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বৃষ্টি চলছে।

বিগত কয়েক বছরের ঘূর্ণিঝড়ের থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্ধার জন্য তৈরি ছিল তামিলনাড়ু আর অন্ধ্রপ্রদেশের প্রশাসন। তামিলনাড়ুর উপকূলবর্তী অঞ্চল থেকে প্রায় সাত হাজার আর অন্ধ্র উপকূলবর্তী অঞ্চল থেকে প্রায় ন’হাজার মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চেন্নাই, তিরুভাল্লুর আর কাঞ্চিপুরম জেলায় স্কুল আর কলেজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চেন্নাই শহরে ১৭৪টি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের জন্য জামাকাপড় আর শুকনো খাবার নিয়ে তাদের দু’টি জাহাজ তৈরি আছে বলে জানিয়েছে নৌসেনা। জাতীয় বিপর্যয়য় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) প্রায় পনেরোটি দল মোতায়েন করা হয়েছে। সমস্ত রকম পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য তৈরি তাম্বারামের বায়ুসেনা ঘাঁটিও।

vardah

আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্ধে ছ’টার পর চেন্নাইয়ে ঝড়ের দাপট কমবে। ক্রমশ দুর্বল হবে বর্ধাও। তবে আরও আগামী ২৪ ঘণ্টা প্রবল বৃষ্টি চলবে উপকূলবর্তী অংশে। মঙ্গলবার থেকে উত্তর তামিলনাড়ুর ভেতরের জেলাগুলিতে বৃষ্টি বাড়বে। বৃষ্টি হবে দক্ষিণ কর্নাটকেও। বুধবার নাগাদ বর্ধার প্রভাব পুরোপুরি ভাবে কেটে যাবে বলে জানানো হয়েছে। তবে চেন্নাই শহরের জন্য অনেক সুখবর নিয়ে এনেছে বর্ধা। এ বারের ফিরতি বর্ষায় চেন্নাইয়ে প্রায় ৬২ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি ছিল। এই বৃষ্টির ঘাটতি এ বার অনেকটাই কমে যাবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here