নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: স্বপ্ন ছুঁয়ে সঙ্গীরা ফিরে এসেছেন আজ অনেকদিন হল। ওঁদের আর ফেরা হয়নি। ওরা গৌতম ঘোষ এবং পরেশ নাথ। ২০১৬-র বাংলার এভারেস্ট অভিযানের দুই পর্বতারোহী।  গৌতম এবং পরেশের সঙ্গে ছিলেন সুনীতা হাজরা এবং সুভাষ পাল। মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ঘরে ফিরেছিলেন একমাত্র সুনীতা। আর ফিরেছিল সুভাষের দেহ। অভিযানের সময় শেষ হয়ে আসায়, উদ্ধারকাজ চালানো সম্ভব হয়নি গত বছর। সেই থেকে হিমালয়ের বুকেই ঘুমিয়ে আছেন ওরা দু’জন – গৌতম আর পরেশ। 

বছর গড়িয়ে আবার সেই সময়টা হাজির। এভারেস্ট অভিযানের প্রস্তুতি চলছে অন্যান্য বছরের মতোই। কেমন আছে গৌতম আর পরেশের পরিবার? আত্মীয়স্বজন, কাছের মানুষগুলো শেষবার ওদের দেখেছিলেন গত এপ্রিলের গোড়ায়, অভিযানে রওনা দেওয়ার আগে। পরেশ নাথের স্ত্রী সবিতা নাথ ছেলেকে নিয়ে থাকেন দুর্গাপুরে। বছর দশেকের ছেলে পড়ে ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে। সেলাই করে সবিতা দেবীর মাসে রোজগার হয় বড়ো জোর দেড় থেকে দু’ হাজার টাকা। স্কুলের মাসিক খরচও মেটানো যায় না তাতে। কথায় কথায় জানালেন, সরকারের কাছে শুধু একটা কাজ চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সে ব্যাপারে এখনও কোনো উত্তর আসেনি সরকারের তরফ থেকে। 

paresh,-goutam

ব্যারাকপুরের গৌতম ঘোষের দাদা দেবাশিসবাবু জানালেন, এখনও ভোর হলে গেটের কাছে এসে দাঁড়ান বৃদ্ধা মা – প্র্যাকটিস শেষে ওই সময়েই তো ঘরে ফিরত তাঁর ছেলে। বিমা সংস্থা থেকে দেবাশিসবাবুকে জানানো হয়েছে, ময়না তদন্তের রিপোর্ট আর ডেথ সার্টিফিকেট না দেখালে ৭ বছরের আগে পাওয়া যাবে না বিমার টাকা। এ দিকে দেহ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত দু’টোর কোনোটিই পাওয়া সম্ভব না। এ বছর সরকারের তরফ থেকে দেহ উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে কিনা, সে সম্পর্কে সঠিক তথ্য নেই গৌতমবাবুর পরিবারের কাছে। তবে তাঁরা এখনও আশাবাদী। পরেশবাবুর স্ত্রী অবশ্য ছোটো ছেলেটার কথা ভেবে বলেছিলেন, ওই নিথর দেহটা আর না দেখাই ভালো।

একাধিক সংগঠন এবং ক্লাবের পক্ষ থেকে ওঁদের দেহ উদ্ধারের জন্য আবেদন পাঠানো হয়েছে সরকারের কাছে, জানালেন সোনারপুর আরোহী ক্লাবের সেক্রেটারি রুদ্রপ্রসাদ হালদার। খবর অনলাইনের পক্ষ থেকে সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও ফোনে পাওয়া যায়নি। 

শেষ খবর অনুযায়ী, সাউথ কলের কাছে পড়ে আছে পরেশ নাথের দেহ। গৌতম ঘোষের দেহ শেষ বার দেখা গেছে সাউথ কল আর ব্যালকনির মাঝামাঝি কোথাও। বাংলা থেকে গৌতমবাবুদের সঙ্গে এভারেস্ট অভিযানের এক সঙ্গী জানালেন, “নতুন করে এজেন্সির মাধ্যমে দেহ উদ্ধারের খরচ বিপুল। ওই খরচ বহন করা রাজ্য সরকারের পক্ষে সম্ভব কিনা জানা নেই, তবে পরিবারের লোককে একটা চাকরি জোগাড় করে দেওয়াটা  হয়তো খুব কঠিন নয়। আর যে ক্ষতি হয়ে গেছে, তা পূরণ হওয়ার নয়। তবু যদি কিছু ক্ষতিপূরণ দেওয়া যেত, সমস্যা কমত অনেকটাই।”

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here