সানি চক্রবর্তী :

নাচতে জানলে উঠোনের দোহাই দেওয়ার দরকার হয় না। আর খেলতে জানলে মাঠের।

গুরু নানক স্টেডিয়ামের বেহাল মাঠে যে ভাবে বিজয়রথ ছোটাল ইস্টবেঙ্গল, তাতে কথাগুলো বলতেই পারেন মরগ্যান। ভাঙা-গড়ার খেলার মধ্যে দিয়ে চলা মিনার্ভাকে তাদের মাঠে ৫-০ গোলে গুঁড়িয়ে দিল লাল-হলুদ শিবির। হ্যাটট্রিক করলেন ওয়েডসন আনসেলমে। গোলে ফিরলেন প্লাজা, পর পর দু’ম্যাচে গোল পেলেন রবীনও। সব মিলিয়ে প্রথম ম্যাচের হোঁচট পিছনে ফেলে পঞ্জাব থেকে অশ্বমেধের ঘোড়া হয়ে ওঠার ইঙ্গিতটা দিয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল। রবিবারের জয়ের পরে গোলপার্থক্যে মোহনবাগানকে দ্বিতীয় স্থানে ঠেলে দিয়ে শীর্ষস্থানটাও দখল করে নিল মরগ্যানের দল।

খেলার ৮ মিনিটের মাথায় এ দিন দলের হয়ে গোলের খাতা খোলেন ম্যাচসেরা ওয়েডসন। ডিকার ফ্রি-কিক থেকে অরক্ষিত হাইতিয়ান ফুটবলারটি গোল করে যান। এ দিন আমিরভের স্থানে রবীন সিংকে প্রথম একাদশে সুযোগ দিয়েছিলেন মরগ্যান। তাঁকে আটকাতে গিয়েই ফাউল করেন অসপ্রীত, যা থেকে প্রথম রক্তক্ষরণ মিনার্ভার। হাফটাইমের পাঁচ মিনিট আগে ২-০ করেন প্লাজা। রাহুলের ডান প্রান্ত থেকে উঠে আসা পাসে ফের অসপ্রীতকে টপকে রবীনের মাইনাস। বক্সের মধ্যে যা ধরে হাফটার্নে ঘুরিয়ে নিয়ে অর্ণব দাশশর্মার পায়ের ফাঁক দিয়ে গোল প্লাজার।

প্রথমার্ধের মতো দ্বিতীয়ার্ধেও লাল-হলুদ আক্রমণের সুনামি আছড়ে পড়া জারি তাকে। মাঝে ২ মিনিটের মধ্যে তিনখানা গোল করে কার্যত বিপক্ষকে পথে বসিয়ে দেয় তারা। ৬৩ মিনিটে ওয়েডসনের শট আটকাতে গিয়ে হাত লাগিয়ে ফেলেন অসপ্রীত। ৬৫ মিনিটে পেনাল্টি থেকে দলের তৃতীয় গোল করে যান সনির বন্ধু। ওই মিনিটেই তাঁর পাস ধরে এগিয়ে গোলের খাতায় নাম তোলেন রবীন। আর ঠিক পরের মিনিটেই নিজের হ্যাটট্রিক ও দলের পঞ্চম গোলটি ওয়েডসনের। ম্যাচসেরা হয়ে তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে জানালেন, “সমর্থকরা আমার থেকে অনেক কিছু প্রত্যাশা করেছেন জানি। আজ প্রথ মবার দলের পাশাপাশি নিজেও তাঁদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে তৃপ্ত। নিজের পারফরম্যান্স ও দলের খেলা দু’টোতেই। তবে আরও ভালো খেলে সমর্থকদের হাসিটা বজায় রাখার চেষ্টা করব।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here