খবর অনলাইন: ‘ব্রেক্সিট’ চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার পর স্কটল্যান্ডে স্বাধীনতার দাবি এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডে ‘এক আয়ারল্যান্ড’-এর দাবি জোরদার হচ্ছে। আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা সংগঠন থেকে সরে যাওয়ার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ব্রিটিশ নেতাদের অনুরোধ করেছেন। উল্লেখ্য, গণভোটে স্কটল্যান্ড এবং উত্তর আয়ারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নে থেকে যাওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছে।

স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টুরগিয়ন বলেছেন, ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্কটল্যান্ডে ফের গণভোট করার সম্ভাবনা খুব বেড়ে গেল। এবং ওই গণভোট হবে স্বাধীনতার জন্য দ্বিতীয় গণভোট। তিনি বলেন, তাঁর দেশ চায়নি। অথচ তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে করে দেওয়া গণতান্ত্রিক ভাবে মেনে নেওয়া যায় না। আরেকটি গণভোট করার জন্য স্কটিশ সরকার আইন প্রণয়নের কাজ শীঘ্রই শুরু করবে। গণভোটে স্কটল্যান্ডের ৬২ শতাংশ মানুষ ইউরোপীয় ইউনিয়নে থেকে যাওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছে।

ও দিকে আইরিশ সীমান্তের দু’ দিকের দু’টি অংশ এক করার ডাক দিয়েছেন উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডেপুটি লিডার মার্টিন ম্যাকগিনেস। উত্তর আয়ারল্যান্ডের সর্ব বৃহৎ আইরিশ জাতীয়তাবাদী দল সিন ফিনের নেতা বলেছেন, ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যাণ্ডের জন্য গণভোট করাটা এখন লন্ডনের পক্ষে অপরিহার্য হয়ে পড়ল। উত্তর আয়ারল্যান্ডের ৫৬ শতাংশ মানুষ ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষে রায় দিয়েছে। ম্যাকগিনেস বলেন, ই ইউ-এর সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনও আলোচনায় উত্তরের প্রতিনিধিত্ব করার কোনও গণতান্ত্রিক অধিকার ব্রিটেনের আর থাকল না।

ইতিমধ্যে ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান জাঁ ক্ল জাঙ্কার জোর দিয়ে বলেছেন, “বাকি ২৭টি দেশের ইউনিয়ন থাকবে।” ‘ব্রেক্সিট’-এর পর যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হল তা নিয়ে জাঙ্কার শুক্রবার সকালেই ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট মার্টিন শুলৎজ্‌, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক এবং নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটের সঙ্গে আলোচনা করেন। আলোচনার পর তাঁরা এক বিবৃতি প্রকাশ করে বলেছেন, ব্রিটেনের সিদ্ধান্তে তাঁরা দুঃখিত। তবে এই সিদ্ধান্তকে তাঁরা সম্মান করেন। তাঁরা বলেছেন, যত কষ্টই হোক না কেন, ব্রিটেন যেন দ্রুত তার সিদ্ধান্ত কার্যকর করে। কারণ এ নিয়ে যত বিলম্ব হবে, ততই অনিশ্চয়তা বাড়বে। তাঁরা জানিয়ে দেন, লন্ডনের আর্থিক বাজার রক্ষা করা, অভিবাসন ঠেকানো ইত্যাদি বিষয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে ক্যামেরনের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছিল, তা আর বহাল থাকছে না এবং এ ব্যাপারে নতুন করে আলোচনা করারও কোনও প্রশ্ন নেই।

আসলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা ব্রিটেনের সঙ্গে দ্রুত ‘ডাইভোর্স’ চান। তাঁরা চান, এই বিচ্ছেদ কার্যকর করতে নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা না করে ব্রিটেন যেন দ্রুত, সম্ভব হলে আগামী সপ্তাহেই, লিসবন চুক্তির ৫০ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়। কী ভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে সরে যাওয়া যায়, সে সম্পর্কে ব্যবস্থার কথা ওই অনুচ্ছেদেই আছে।

মোদ্দা কথা, ‘ব্রেক্সিট’-এর পরে একটা টেনশন ইউরোপের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। মুখে সব পক্ষই সহযোগিতার কথা বলছে বটে, কিন্তু আদতে মহাদেশের অন্যান্য রাজধানী শহরে ব্রিটেনকে কোনও রকম আনুকূল্য করার কথা কেউ ভাবছেই না। এখন ইউরোপের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভাগ্যে কী আছে সে ব্যাপারে কেউই স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না। একই কথা বলা যায় ব্রিটেনের ক্ষেত্রেও।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here