সানি চক্রবর্তী:

লক্ষ্য ছিল ৬, এল মাত্র ২। তা-ও খুব একটা আপাত ক্ষতি হল না প্রতিপক্ষদেরও ড্র’র ছটায়। আই লিগে বুধবারের চারটি ম্যাচই অমীমাংসিত রইল। ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা লাজংয়ের কাছে ফের আটকে কিছুটা চিন্তায় পড়লেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানও ড্র করায় চাপমুক্ত হলেন। পাশাপাশি লিগের তিন ও পাঁচে থাকা আইজল-বেঙ্গালুরু ম্যাচ ড্র হওয়ায় প্রথম পর্বের শেষে শীর্ষে থাকার সম্ভাবনাটাই জোরালো হল। আপাতত ৯ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে লিগ তালিকার শীর্ষে থাকলেও ইস্টবেঙ্গলের খেলা কিন্তু চিন্তা বাড়াচ্ছে লাল-হলুদ সমর্থকদের। এমনিতেই ডার্বির পরের ম্যাচে হোঁচট খাওয়ার বাজে ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে ইস্টবেঙ্গলের। তার উপরে ছিল লাল-হলুদ শিবিরের বরাবরের গাঁট লাজং। তবে সব কিছুর মাঝেও যেন কোথাও গিয়ে প্রশ্ন উঠছে মরগ্যানের রক্ষণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে।

জ্যাকিচাঁদ, রোমিও, রবিন গুরুং, ডেভিড, অবিনাশ, অর্ণব, রৌলিনের মতো একঝাঁক ফুটবলার হাতে থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজন ছাড়া তাঁদের দলে ঠাঁই দেওয়ার ব্যাপারে ভাবছেন না মরগ্যান। ডার্বির মতো কড়া ধাঁচের ম্যাচে খেলার পরেও পায়েন ছাড়া প্রথম একাদশে কোনো পরিবর্তন করেননি তিনি। মুখে যতই বাকিদের খেলার সুযোগ দেওয়ার জায়গা নেই বলুন মরগ্যান, কানাঘুষো প্রশ্ন কিন্তু উঠতে শুরু করে দিয়েছে তা হলে কি আদৌ কোনো প্ল্যান বি তৈরি নেই মরগ্যানের। এ দিনের ম্যাচের পরে মরগ্যান জানিয়ে দিয়েছেন, ফুটবলারদের পারফরম্যান্সে খুশি নন তিনি।

শিলং লাজংকে প্রয়োজনীয় সম্মান জানিয়েও বলতে হয়, দ্বিতীয়ার্ধে গুরবিন্দরের স্থানে অর্ণব নামার পরে রক্ষণে যে রকম নিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, আর নিখিলের পরিবর্তে রোমিও নামার পরে আক্রমণে যে ঝড় উঠেছিল, সেই পরীক্ষানিরীক্ষাটা কি আগে করা যেত না? দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণের সামনে দেওয়াল তুলে দাঁড়ানো লাজং গোলরক্ষক বিশাল কাইথ বলছিলেন, “রোমিওর জোরালো শটটা আটকানোই সেরা সেভ।”

এ দিনের ম্যাচের প্রথম দিকে তো খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছিল না ইস্টবেঙ্গলকে। লাজংয়ের গতিময় ফুটবলের বিরুদ্ধে ওয়েডসন, প্লাজাদের কয়েকটা প্রয়াস ছাড়া বলার মতো কিছুই নেই এই পর্বে। বরং আক্রমণের গতি বাড়িয়ে ২০ মিনিটের মাথায় গোল তুলে নেয় লাজং। ডিপান্ডার পাস ধরে বিপিনের মাপা ক্রস থেকে হেডে গোল করে যান তরুণ স্যামুয়েল। গোলের ক্ষেত্রে ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের ভুলের পুরো সুযোগ নিয়ে যায় পাহাড়ের দলটি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে প্লাজার গোলে যদিও সমতা ফেরায় লাল-হলুদ শিবির। নারায়ণের ক্রস থেকে লিগে তার ষষ্ঠ গোলটি করে যান ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর ফুটবলারটি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে অফ ফর্মে থাকা গুরবিন্দরকে তুলে বাধ্য হয়ে অর্ণবকে নামান মরগ্যান। পরে পায়েনের পরিবর্তে রবিন সিং ও নিখিলের বদলে রোমিওকে নামানোর পরে আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ালেও গোলমুখ খুলতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। বরং উলটো দিকে, রেহানেশও বেশ কিছু ভালো সেভ করেন।

এই নিয়ে টানা চার ম্যাচে লাজংকে হারাতে ব্যর্থ হল মরগ্যানের প্রশিক্ষণাধীন ইস্টবেঙ্গল। পাশাপাশি ছ’টি জয়ের পরে দু’টি ড্র তাঁর চিন্তা বাড়াবে। আইজলের বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচে খেলতে যাওয়ার আগে তাই অনেক কিছুই মেরামত করতে হবে তাঁকে। কারণ, মিজোরামের অ্যাওয়ে ম্যাচটি মোটেই সহজ হবে না। আর জয়ের রাস্তায় ফিরতে না পারলেই কিন্তু উঁকিঝুঁকি মারা প্রশ্নগুলো সামনে উঠে আসবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here