সানি চক্রবর্তী :

আই লিগের মহাগুরুত্বপূর্ণ বেঙ্গালুরু বনাম ইস্টবেঙ্গল লড়াইয়ের আগের দিন। বারাসত বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গনে লাল-হলুদ শিবিরের মরশুমের প্রথম অনুশীলন। কিন্তু সেখানে গরহাজির অবিনাশ, রফিক, ডেভিড, জ্যাকিচাঁদের মতো একঝাঁক ফুটবলার। পরে অবশ্য এলেন রফিক। ঠিক কোন কারণে তাঁরা আসেননি জানা না গেলেও, কোচ মরগ্যান ম্যাচের আগে নিজের ভাবনায় থাকা ফুটবলারদের নিয়েই অনুশীলন করলেন খোঁজ পাওয়া গেল। বিকেলে ক্লাঁবতাঁবুতে হালকা মেজাজে মরগ্যান বললেন, “ডেভিড পারিবারিক কারণে বাড়ি গিয়েছে। জ্যাকিকে আমি বলতে ভুলে গিয়েছি, আর রফিক প্রথমে সেন্ট্রাল পার্কে চলে গিয়েছিল।” পুরো ব্যাপারটা হালকা ছলে ব্রিটিশ কোচ উড়িয়ে দিতে চাইলেও, গত বারের চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগের দিন এ রকম অপেশাদারিত্বের নজির! অবিনাশ সম্পর্কে মরগ্যান শুধু বললেন, “আমার প্রাথমিক ২০ জনের তালিকায় ও নেই। তাই আজ অনুশীলনে আসতে হবে না জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল।”

তাঁর এ হেন কথার পরে বজবজের ফুটবলারটির শৃঙ্খলাভঙ্গের গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছিল। যদিও ক্লাবের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার জানালেন, “কোচ বা ম্যানেজার কেউই অবিনাশের বিরুদ্ধে কোনো রিপোর্ট দেননি। কয়েকটি সংবাদমাধ্যম কোথা থেকে খবর পেয়ে যাবতীয় কথা বলেছে জানি না।” মাঠের বাইরের কোনো ব্যাপার দলের ফোকাসে ব্যাঘাত ঘটাক চাইছেন না ইস্টবেঙ্গল কোচ বা কর্তারা, সেটা অবশ্য গোটা ঘটনার জেরে পরিষ্কার।

বেঙ্গালুরুর জোড়া বিদেশি ডিপ ডিফেন্স লাইনের বিরুদ্ধে তাই মরগ্যানের ভরসা জোড়া বিদেশি স্ট্রাইকার। জন জনসন ও হুয়ানানকে পরাস্ত করতে প্লাজা ও আমিরভকে সামনে রেখে যাবতীয় পরিকল্পনা করছেন তিনি। এখনও পর্যন্ত কোনো গোল হজম করেননি জনসনরা। তাই তাঁদের টেক্কা দিতে বিদেশি জুটিই তুরুপের তাস মরগ্যানের। পরিবর্ত হিসেবে নামতে পারেন হাওকিপ। চার্চিল ম্যাচে জয়ী দলে আর কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা সে ভাবে নেই। দু’টি অ্যাওয়ে ম্যাচে জিতে ফুরফুরে মেজাজে থাকলেও মরগ্যানকে চিন্তায় রাখছে তাঁর দলের ডিফেন্স। চোট থাকায় আনোয়ারের জায়গায় বুকেনার সঙ্গী হিসেবে শুরু করবেন গুরবিন্দর। দু’জনের কেউই এখনও নিজের সেরা ছন্দে নেই। তাঁদের বিকল্প হিসেবে অ্যাকাডেমির অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবলার মেহতাব সিংকে ১৮ জনের দলে রাখছেন মরগ্যান। তবে এ হেন হাইভোল্টেজ ম্যাচে সরাসরি তাঁকে নামিয়ে দেওয়াটা যথেষ্ট ঝুঁকির। কারণে, বিপক্ষে রয়েছেন ভারতের অন্যতম সেরা তিন জন আক্রমণভাগের ফুটবলার। সিকে বিনীথ, সুনীল ছেত্রী ও উদান্তা সিং কী রকম ছন্দে রয়েছেন তা বুঝতে বেঙ্গালুরুর ৩ ম্যাচে ৮ গোল করে ফেলার তথ্যই যথেষ্ট। বিনীথ আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিকও করেছেন। পাশাপাশি মাঝমাঠে মেহতাব, ডিকা, নিখিল, ওয়েডসনদের লড়তে হবে ক্যামেরুন ওয়াটসন, হরমনজোত সিং খাবরাদের সঙ্গে। ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তনী খাবরার এটাই প্রথম ম্যাচ তার লাল-হলুদের বিরুদ্ধে।

মরগ্যানের আবার এই ম্যাচেই অভিষেক হবে বেঙ্গালুরু বিরুদ্ধে লাল-হলুদ কোচ হিসেবে। আই লিগের গত তিন সাক্ষাতে হারের ক্ষতে তিনি প্রলেপ দিতে পারেন কি না সেটাও দেখার। আত্মবিশ্বাসী কন্ঠে অবশ্য বলে গেলেন, “কাগজে-কলমে ওরা শক্তিশালী। তবে মাঠে কঠিন লড়াই হবে দুই দলের। আপাতত দলের পারফরম্যান্সে খুশি। উন্নতির অবকাশ তো সব সময়ই আছে। কালকের ম্যাচে একটু সতর্ক থাকতে হবে। কারণ সামান্য ভুল হলেই তার বড়ো মাশুল দিতে হতে পারে।”

অন্য দিকে বেঙ্গালুরুর কোচ অ্যালবার্ট রোচা অবশ্য সরাসরিই বলে দিলেন, “কালকের ম্যাচে যে দলই জিতবে, তারাই লিগের দৌড়ে এগিয়ে যাবে।” শাপাশি অ্যাস্ট্রোটার্ফে খেলা নিয়ে কোনো অজুহাত নয়, বরং দ্রুত মানিয়ে নিয়ে নিজেদের সেরাটাই দিতে মুখিয়ে বার্সেলোনার প্রাক্তন সহকারী কোচ রোচা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here