কাগজকে ‘হ্যাঁ’ বলুন, প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতে এর কোনো বিকল্প নেই, জানালেন হাইভ ইন্ডিয়ার সঞ্জীব বাত্রা

0
paperex 2019

নিজস্ব প্রতিনিধি: সম্প্রতি দিল্লিতে কাগজশিল্প সংক্রান্ত সব থেকে বড়ো অনুষ্ঠানটি হয়ে গেল। ‘পেপারেক্স ২০১৯’ নামাঙ্কিত ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল হাইভ ইন্ডিয়া। লন্ডনের হাইভ গ্রুপের অধীনস্থ সংস্থা হাইভ ইন্ডিয়া আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে পূর্ব ভারত থেকে বহু কোম্পানি যোগ দেয়।

কেন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল? কী পাওয়া গেল ওই অনুষ্ঠান থেকে?

এ সম্পর্কে হাইভ ইন্ডিয়ার অধিকর্তা সঞ্জীব বাত্রা বলেন, পরিবেশ বাঁচানোর ব্যাপারে পেপারেক্স ২০১৯–এ মানুষকে আরও বেশি সচেতন করা হয়। কাগজ এবং তার পুনর্ব্যবহার কী করে পরিবেশ বাঁচাতে পারে, সে সম্পর্কেও জানানো হয়েছে। শুধু পরিবেশ বাঁচানোর জন্যই যে কাগজের ব্যবহার বাড়ানো দরকার তা নয়, শিক্ষার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কাগজের। এটা বোঝা দরকার, ডিজিটাল মাধ্যমের তুলনায় যখন কাগজে ছাপা কোনো জিনিস পড়া হয়, তখন সেটা অনেক বেশি মনে থাকে।”

বাত্রা আরও বলেন, “এখন ‌সারা দেশে একটাই কথা শোনা যাচ্ছে – ‘কাগজকে’ হ্যাঁ বলুন। আগে একটা অপপ্রচার চলত, কাগজের ব্যবহার যত বেশি  বাড়বে জঙ্গল তত সাফ হবে। এই ধারণা যে পুরোটাই ভুল এখন তা প্রমাণিত। কাগজশিল্পের জন্য যত গাছ কাটা হয় তার থেকে অনেক বেশি গাছ লাগানো হয়। আর বিজ্ঞানসম্মত ভাবে এটাও সত্যি যে কম বয়সের গাছ বাতাস থেকে বেশি কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে। এবং এটাও জানা দরকার যে মৌলিক এবং প্রযুক্তির দৌলতে এ দেশের ১০০ শতাংশ কাগজই পচনশীল এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য।”

হাইভ ইন্ডিয়ার অধিকর্তা আরও জানান, এফএমসিজি, খাবার ডেলিভারি, ই–বাণিজ্য সংস্থাগুলি পুনর্ব্যবহারযোগ্য কাগজের ওপর জোর দিচ্ছে। সেই সঙ্গে প্লাস্টিকের ব্যবহারও তারা কমিয়ে আনছে। কলকাতা এবং কলকাতার মতো নদীর ধারের শহরগুলিতে এই ব্যবস্থা ইতিমধ্যে তারা চালু করে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: “বাবা-মা বলেছিলেন, ঘাস কাটা ছাড়া এর অন্য কাজ জুটবে না”, ছেলেবেলা হাতড়ালেন ওয়ো কর্ণধার

বাত্রা জানান, পেপারেক্স ২০১৯–এ বাংলার শিল্পোদ্যোগীরাই বেশি আগ্রহ দেখিয়েছেন। খাবার ডেলিভারির ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের মতো পোক্ত এবং প্লাস্টিকের থেকে ভালো বিকল্প হল কাগজ। সে ব্যাপারে মানুষ বেশ খোঁজখবর করেছেন।

ইন্টারন্যাশনাল পেপার্স এপিপিএম লিমিটেডের সিইও সৌরভ বাঙ্গুর বলেন, “এখন কাগজ শিল্প একটা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এখন এই শিল্পে কম বিদ্যুৎ এবং জল লাগে। পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের তুলনায় পুনর্ব্যবহারযোগ্য কাগজ তৈরি করার খরচ অন্তত ৩০–৪০ শতাংশ কম। জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, সংবাদমাধ্যমের সক্রিয়তা, শিক্ষার হারবৃদ্ধির ইত্যাদি কারণগুলির জন্য কাগজের তৈরি পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। সেই সঙ্গে আগামী দিনে ভারতের বাজারে টিস্যু পেপার, ফিল্টার পেপার, টি ব্যাগ, কার্ডবোর্ডের মতো জিনিসের চাহিদা আরও বাড়বে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.