ছিঁড়ছে জাল, জমছে আবর্জনা! হারিয়ে যাবে না তো?

0

ওয়েবডেস্ক: বছর কয়েক আগেও এই পুকুরে জমিয়ে চলত স্নান, কাপড়কাচা, বাসনমাজা। এখন গ্রীষ্মের কারণে জলস্তর নেমে যাওয়া এবং আবর্জনায় ভরে যাওয়ার কারণে কমেছে ব্যবহারকারীর সংখ্যা। পুরসভার তরফে গত বছর দেড়েক আগে এই পুকুরটির সংস্কার করে রাস্তার দিকের পাড়ে জাল লাগানো হয়েছিল। কী ভাবে সেই জাল এখন ছিন্নভিন্ন।

জাল ছিঁড়ে এখন আবর্জনা ফেলার অবাধ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে এই পুকুর। সঙ্গে জন্মেছে আগাছা। রয়েছে পানা। দূর থেকে দেখলে মনে হতেই পারে এটা হয়তো গ্যালারি সমেত কোনো স্টেডিয়াম। এরই মাঝে পাড় ঘেঁষেই উঠছে বহুতল। তার চাপে পুকুরের পরিধিও খানিকটা যে সংকুচিত হয়েছে, তা খালি চোখেই ধরা পড়ছে।

শুধুমাত্র এ ধরনের একটা ব্যতিক্রমী পুকুরেরই সন্ধান মিলেছে, তেমনটাও নয়। নগরায়নের ঠেলায় অতীতে বুঝেছে হাজার হাজার পুকুর-জলাশয়। এখনও অবহেলায় পড়ে রয়েছে এ ধরনের গুটিকয়েক। পুরসভা এলাকায় পুকুরগুলির রক্ষণাবেক্ষণের একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কিন্তু কোথাও তার অনিয়মিত হয়ে যাওয়া অথবা সাধারণ মানুষের অবিবেচনার শিকার হয়ে ক্রমশ হারিয়ে যাওয়ার পথে পা বাড়াচ্ছে পুকুরগুলি।

সংবাদ মাধ্যমে মাঝেমধ্যেই খবরের শিরোনামে উঠে আসে পুকুর ভরাট। বেশ হইচই হয়। আইন যে হেতু রয়েছে, ভরাট বন্ধ হয়ে যায় তাৎক্ষণিক ভাবেও। বর্তমান আইন অনুযায়ী, পুকুর ভরাটে এফআরআই দায়ের করা যায়। পরিবেশের ভারসাম্যরক্ষাকারী, বাস্তুতন্ত্রের অপরিহার্য পুকুর অথবা জলাশয় ভরাট জামিনঅযোগ্য অপরাধ। তার উপর নতুন আইন অনুযায়ী, ন্যূনতম এক কাঠা আকারের পুকুরও ভরাট করা নিষেধ।

বাড়ছে একশো দিনের কাজ। তাল মিলিয়ে বাড়ছে পুকুর খননের কাজও। কিন্তু সেটার পুরোটাই গ্রাম-কেন্দ্রিক। শহর-শহরতলিতে নতুন করে পুকুর খননের কথা ভারসাম্যহীনেরও চিন্তার অতীত! তবে এই সমস্ত এলাকায় পুকুরের ভরাটের লক্ষণ প্রকট হলেও স্থানীয় স্তরে প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে ওঠে। সরকারি ভাবে দৃষ্টিনন্দন করে তোলার লক্ষ্যে পুকুরের সাজগোজও করা হয়। তবুও পরিবেশ দিবস এলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে জনবহুল স্থানে এ ধরনের হতশ্রী দশার পুকুরগুলো!

যদিও আশার কথা শোনাচ্ছেন পরিবেশরক্ষাকারী একটি অ-সরকারি সংগঠনের সভাপতি পরিবেশকর্মী শ্যামল বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, শহর এলাকায় একটা সময় পুকুরের অকাল-মৃত্যু যে জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল, তা অনেকাংশে আটকানো গিয়েছে। স্থানীয় পুরসভা স্তরে বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে এই কাজ চলছে। তবে এ ব্যাপারে সাধারণ মানুষের নিজের অধিকার এবং কর্তব্য সম্পর্কেও আরও বেশি করে সচেতন হওয়া দরকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here