নিউ ইয়র্ক: কিছুটা হলেও ধাক্কা খেলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাতটি মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের আমেরিকায় আসা আটকানোর নির্দেশে সই করার পর শনিবার থেকেই সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করায় সচেষ্ট ছিল ট্রাম্প প্রশাসন। বৈধ ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছলেও বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হচ্ছিল। সেই আটক করার ঘটনার ওপর স্থগিতাদেশ দিল এক ফেডেরাল কোর্ট।

উল্লেখ্য, শুক্রবার উদ্বাস্তু নিষেধাজ্ঞার কথা ঘোষণা করার পরই শনিবার কেনেডি বিমানবন্দরে দু’জন ইরাকি নাগরিককে আটক করা হয়। বৈধ মার্কিন ভিসা থাকা সত্ত্বেও তাদের আটক করার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) এবং কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন। ওই দু’জন ব্যক্তির আটকের বিরুদ্ধে মামলা করা হলেও পরে আরও দু’জনকে ওই মামলায় যোগ করা হয়। ওই দুই ব্যক্তি অবশ্য দীর্ঘদিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন এবং তাঁদের কাছে বৈধ মার্কিন গ্রিনকার্ডও রয়েছে। তবুও তাঁদের কেনেডি বিমানবন্দরে আটক করা হয়েছিল।

স্থগিতাদেশের কথা ঘোষণা করা সময় বিচারক আন ডনেলি বলেন, “আমার মনে হচ্ছে সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে ব্যাপারে খুব একটা ভাবেনি।” সেই সঙ্গে তিনি বলেন এরকম ভাবে উদ্বাস্তুদের দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিলে তাঁদের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। এই স্থগিতাদেশের পরেই বিমানবন্দরে আটক চারজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আপাতত ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকছে। বৈধ মার্কিন ভিসা এবং বৈধ গ্রিনকার্ডধারী ব্যক্তির কোনোরকম ভাবে যেন হেনস্থা না হয় সেটাও দেখার কথা বলেছেন বিচারক।

মামলাকারী এসিএলইউ-এর মুখপাত্র অ্যান্থনি রোমেরো বলেন, “এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এই মুহূর্তে শুধু ওই চার জন নয়, দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে প্রায় শ’দুয়েক মানুষকে আটক করা হয়েছে, তাঁরা এ বার মুক্তি পাবেন।”

তবে এই স্থগিতাদেশ শুধুমাত্র যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন এবং রায় ঘোষণার সময় সে দেশে আসার জন্য বিমানে ছিলেন, তাঁদের জন্যই কার্যকর হলেও বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা ভবিষ্যতে বিভিন্ন ইস্যুতে আদালতে ধাক্কা খাবে ট্রাম্প প্রশাসন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here