নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : অবশেষে অদম্য জেদের জয়। চিটফান্ডে রাখা টাকা সুদসমেত  ফেরত পেলেন বৃদ্ধ।

বয়স ৬০ পেরিয়েছে। ‘লায়েক’ ছেলেরা নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যস্ত। তাই এই বয়সেও অন্যের জুতো ঝকঝকে চকচকে করে সংসার চালান জলপাইগুড়ির ৪ নং ঘুমটির বাসিন্দা রুমন দাস। প্রায় ২৫ বছর ধরে জলপাইগুড়ি জেলাশাসকের দফতর-চত্বরে জুতোর কাজ করছেন রুমনবাবু। অফিসে আসা বাবুদের জুতো সেলাই করে, পালিশ করে, স্বামীর-স্ত্রীর সংসার চলত। সেই সামান্য উপার্জন থেকেই কিছু টাকা বাঁচিয়ে মাসে মাসে আইকোরে জমিয়ে রাখছিলেন তিনি। আশা ছিল, ভব্যিষতে সুদ সমেত টাকা পেয়ে বাকি জীবনটা স্বাচ্ছন্দ্যে কাটাবেন।

কিন্তু গরিবের মন ভাবে এক, হয় আরেক। আরও অনেকের মতো চিটফান্ডের টাকা ‘চিট’ হল রুমনবাবুরও। টাকার পরিমাণ কম হওয়ায় প্রথমে হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন। পরে তিনি সেই টাকা ফেরত নেবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। কারণ পরিমাণে কম হলেও এ তাঁর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রোজগার।

২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে তিনি দ্বারস্থ হন জলপাইগুড়ি জেলা ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের। কিন্তু ‘টিপছাপ’ দেওয়া মানুষ, স্বাভাবিক ভাবেই আদালতের নথিপত্র সামালানো তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। অর্থের অভাবে কোনো উকিলের কাছেও যেতে পারেননি তিনি। সেই সময় অদম্য জেদ ও লড়াকু মানসিকতা দেখে বৃদ্ধর পাশে এসে দাঁড়ান ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের কর্মীরা। নথিপত্র ঠিক করে দেওয়া থেকে শুরু করে, আদালতে দাঁড়িয়ে কী ভাবে সওয়াল-জবাব করতে হবে তা-ও বাতলে দেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত চেষ্টার জয় হয়। আইকোর-এর তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক কিশোর মুস্তাফিকে একাধিকবার আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন বিচারক। কিন্তু তিনি হাজির না হওয়ায় আদালতের নির্দেশে কিশোর মুস্তাফিকে গ্রেফতার করে শুক্রবার বিচারকের সামনে হাজির করে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিশ। সেখানেই জমা দেওয়া ২৬০০ টাকার পরিবর্তে সুদসমেত ৫৬০৮ টাকা ফেরত পান রুমন দাস। তাঁর এই জয়ে খুশি ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের সেই কর্মীরা, যাঁরা এতদিন বৃদ্ধকে সর্বতো ভাবে সাহায্য করেছেন। তাঁদের এক জন সন্তু ঘোষ জানিয়েছেন, রুমনবাবুর লড়াই ও ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের এই রায় চিটফান্ড-প্রতারিতদের লড়াই করতে এগিয়ে আসার সাহস জোগাবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here