Rich

ওয়েবডেস্ক: রাতারাতি ‘ধনী’ হওয়ার জন্য নেই কোনো নির্দিষ্ট ফরমুলা। তবে এমন কিছু রীতি রয়েছে, যা মেনে চললে শূন্য থেকে শুরু করেও কোটিপতি হওয়া যায়। আবার সেই সমস্ত রীতিকে এড়িয়ে চলে কোটিপতি থেকে কপর্দকহীন হয়ে যাওয়াও সামান্য সময়ের ব্যবধান মাত্র। ফলে আয় শুরু হোক যেভাবেই (চাকরি বা ব্যবসা) সম্পদের সঠিক ব্যবহারই যে কোনো মানুষকে আর্থিক ভাবে সমৃদ্ধশালী করে তুলতে পারে। নিজের জীবনে সেই সামজ্ঞস্যপূর্ণ রীতির প্রয়োগ করে দেখতে ক্ষতি কি?

১. জীবনযাপন

ব্যবসা হোক চাকরি, হাতে যত টাকাই আসুক না কেন, ব্যয়ের ব্যাপারে সর্বদা সতর্ক থাকাটাই সঠিক পথ। এ ব্যাপারে অর্থনীতিবিদরা বলে থাকেন, যাঁরা নিজেদের তিল তিল করে ধনকুবের তৈরি করেছেন, তাঁদের প্রারম্ভিক দিকটা ছিল নিতান্তই সাদামাটা। কতকটা সন্ন্যাসীর মতোই। এখানে সন্ন্যাস অর্থে আয় বাদে জীবনযাপনের ধারাকেই বোঝানো হচ্ছে। হাতে পর্যাপ্ত অর্থ এলেই কি একটা দামি গাড়ি কিনে ফেলতে হবে? প্রশ্ন করতে হবে নিজের মনকে। হতে পারে কাজের ব্যস্ততায় সময় বাঁচাতে গাড়ির দরকার। কিন্তু অঙ্ক একটা কষতেই হবে- যে টাকা গাড়ির জন্য ব্যয় হচ্ছে তার সমপরিমাণ নয়, তার থেকে বেশি অর্থ কি গাড়িটি থেকে উঠে আসতে পারে? অর্থাৎ সব দিক থেকে অপচয় বন্ধ করতে হবে।

২. ঠকে যাওয়ার ভয়

শুধুমাত্র চাকরি করে সৎ পথে বিশাল সম্পদশালী হয়ে উঠেছেন এমন ব্যক্তির সংখ্যা সারা পৃথিবীতেই নগণ্য। যাঁরা চাকরি করেন, তাঁরা পাশাপাশি কোনো না কোনো ব্যবসাও করেন, এমন ব্যক্তিদের নামই সর্বাগ্রে চলে আসে। কিন্তু ব্যবসা করব বলেই তো আর ব্যবসায় ঝাঁপ দেওয়া যায় না। আগুপিছু হরেক ভাবনা-দুর্ভাবনাই চলে আসে। সব থেকে বড়ো কথা ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা। এই কাজটা করলে ঠকে যেতে পারি- এমন মানসিকতা ত্যাগ করতে হবে। কারণ, ঠকলেও নিজের উপর যদি বিশ্বাস অটুট থাকে, তা হলে আটকানোর কোনো শক্তিই সফল হবে না। কথাতেই আছে- ঠকে শেখা।

৩. কাজের মেয়াদ

দিনে কতটা সময় দেওয়া হয় আর্থিক উপার্জনে? চাকরিজীবীদের অনেকের ক্ষেত্রেই সেটা বাঁধাধরা হতে পারে। আবার নাও হতে পারে। কিন্তু কোনো একটা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যে সর্বাধিক সময় দেওয়া হয়, বিশ্রাম বাদে তার বাইরে পড়ে থাকা বাকি সময়টাকেও কাজে লাগাতে হবে সম্পদ সৃষ্টিতে। সেটা ঘরে বসে হোক বা রাস্তায় বেরিয়ে। দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাজের জন্য বরাদ্দ ৮ ঘণ্টার সূত্র ধরে চললে আর যাই হোক সবার পক্ষে বিপুল সম্পদের অধিকারী হওয়া কোনো মতেই সম্ভব নয়। বিশ্বের ধনী তালিকায় যাঁদের নাম জ্বলজ্বল করে তাঁদের বেশির ভাগই ১২-১৪ ঘণ্টা কাজের জন্য সময় বরাদ্দ করে থাকেন।

৪. ভাগ্যের দোহাই

একবিংশ শতাব্দীতে এসে এ কথা তো নতুন করে বলার নয়, কেউ নিজের ভাগ্য নিয়ে জন্মায় না। অর্থাৎ, নিজের ভাগ্য নিজেকেই তৈরি করে নিতে হয়। এমন সম্পদশালী মানুষের নাম উঠে আসে যিনি ভাগ্যের দোহাই না দিয়ে গুদাম ঘরে আটার বস্তা বইতেন পিঠে করে। সেই ব্যক্তিই পরে বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর কর্ণধারে রূপান্তরিত হয়ে যান। হ্যাঁ, এটা হতে পারে তাঁর ভাগ্যে আগাম লেথা ছিল। কিন্তু তাই বলে তো ওই ব্যক্তি হাত গুটিয়ে শুভক্ষণের জন্য বসে থাকেননি। একই ভাবে ভাগ্যের দোহাই দিলে সুদিনের বার্তা নিয়ে সম্পদ কারও ঘরের কলিংবেলও বাজাবে না। ফলে বাস্তব জগতের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে উদ্যোগী এবং উদ্যোমী হওয়াটাই শ্রেয়।

৫. যখন টাকা নিয়ে আসে টাকা

হাতে কিছু বাড়তি টাকা আছে। ওই টাকায় শখের বস্তুটি না কিনে এমন জায়গায় সেটাকে বিনিয়োগ করতে হবে, যেখান থেকে নিশ্চিত লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যাঙ্কের সেভিংস অ্যাকাউন্টে রাখবেন- কতটা টাকা সুদ দেবে? ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসের ফিক্সড ডিপোজিট, সেখানেও তো নির্দিষ্ট একটা সুদ। তা হলে করা যাবে? বর্তমান সময়ের চাহিদায় উঠে এসেছে এমন কিছু অর্থনৈতিক ক্ষেত্র, যেখানে টাকা রেখে নিশ্চিত লাভের সুযোগ রয়েছে। যার জন্য প্রয়োজন সমায়ানুগ খবরাখবর রাখা। এ ছাড়া হাতের পাঁচে তো সমান্তরাল ভাবে চালিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবসা আছেই। কী ব্যবসা করবেন? বিশিষ্ট ধনী ব্যক্তিরা বলেন, মন যেটা চায় সেটাই।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন