Demonetisation

ওয়েবডেস্ক: নোটবন্দির দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সরকারপক্ষ যখন নিজেদের গুণগানে মগ্ন তখন বিরোধীপক্ষ তাদের বিদ্ধ করতেই ব্যস্ত। তবে আর যাই হোক, পুরনো নোটকে নতুনে বদলে নেওয়ার পর তা আর সিন্দুকে ফিরিয়ে না নিয়ে এসে, সরাসরি চালান করে দেওয়া হয়েছে শেয়ার বাজারে। যে কারণে শেয়ার বাজারে, বিশেষ করে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (বিএসই) নথিভুক্ত সংস্থার বাজার মূলধনে কিন্তু নোট বাতিলের বড়োসড়ো প্রভাব পড়েছে।

পুরনো ৫০০ এবং ১,০০০ টাকা বাতিলের পর বেশকিছুটা সময় দেওয়া হয়েছি নতুন নোটে তা বদলে ফেলার। ব্যাঙ্কের লাইনে দাঁড়িয়ে সেভিংস অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেওয়ার পর সেই বদল হওয়া টাকা বিমা, অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা শেয়ার বাজারে হাত উপুড় করে ঢেলে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায় একাংশের মধ্যে। যে কারণে ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর (যে দিন নোটবন্দি ঘোষিত হয়) থেকে ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর (২ বছর পূরণ হওয়ার দিন) পর্যন্ত যে পরিমাণ টাকা শেয়ার বাজারে সেঁধিয়েছে, তা চোখ কপালের তোলার মতোই।

বিএসই-র একটি পরিসংখ্যান বলছে ৭ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখে তাদের নথিভুক্ত সংস্থাগুলির বাজার মূলধন ১৪১.৬৮ লক্ষ কোটি টাকা। অন্য দিকে ৮ নভেম্বর, ২০১৬ তারিখে ওই মূলধনের পরিমাণ ছিল ১১১.৪৫ লক্ষ কোটি টাকা।

অর্থাৎ খুব সহজেই বোঝা যাচ্ছে, এই ২ বছরের মেয়াদে ৩০.২৩ লক্ষ কোটি টাকা বাড়তি বিনিয়োগ হয়েছে। উল্লেখ্য, বিএসই নথিভুক্ত সংস্থার মোট সংখ্যা ৪,৬৫৩টি। এর মধ্যে ৪,০৭৮টি সংস্থায় টাকা বিনিয়োগ করা যায়।

এ বিষয়ে একটা বিষয় স্মরণে না নিয়ে এলেই নয়, তা হল ৮ নভেম্বর, ২০১৬ প্রধানমন্ত্রী নোটবন্দি ঘোষণা করার ঠিক পর দিন শেয়ার বাজারে চরম আশঙ্কার তৈরি হয়। যে কারণে ওই দিন শেয়ার বাজার খোলার সময় সেনসেক্সের পাহাড়প্রমাণ পতন ঘটতে দেখা যায়। প্রায় ১৩০০ পয়েন্টের সেই ক্ষত যে ভবিষ্যতে এতটাই সুখকর হয়ে উঠবে, তা কিন্তু মোটেই ভাবেননি এক্সচেঞ্জ-কর্তারা!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here