bitcoin trading caution

ওয়েবডেস্ক: বিটকয়েন-সহ আরও বেশ কিছু ভার্চুয়াল কয়েন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা মাদকতা সৃষ্টি হয়েছে। শুধু এ দেশ নয়, সারা বিশ্বেই সংগঠিত ভাবে এই ভার্চুয়াল কারেন্সি কেনায় মেতে উঠেছে। কিন্তু এই বিনিয়োগকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, এই কয়েনও আগামী দিনে বিনিয়োগকারীর কষ্টার্জিত অর্থের নয়ছয় করবে চিটফান্ডের মতোই।

কেন্দ্রের মতে, ভার্চুয়াল কারেন্সির কোনো অন্তর্নিহিত মূল্য নেই। তেমনই নেই কোনো স্থায়ী সম্পদের ভিত্তি। শুধু মাত্র পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে তাদের মূল্যের ওঠা-নামা। ঝুঁকির পরিমাণ অত্যধিক হওয়া সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীদের কোনো রকম অবগত করানো হয় না। আর যাঁর কয়েনের আকর্ষণের ফাঁদে এক বার পড়েন, তাঁদের মাথায় কিছুতেই ঢুকতে চায় না ওই ঝুঁকি সংক্রান্ত বিষয়গুলি। মূলত বুদবুদ অর্থনীতির পরিচায়ক এই ভার্চুয়াল কয়েন ব্যবসা বহুদিন আগেই ইউপোরীয় দেশগুলিতে জাঁকিয়ে বসেছে। আর এখন থাবা প্রসারিত করছে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলিতেও। এ কথা নতুন করে বলার নয়, বহুকষ্টে অর্জিত টাকা চিটফান্ডে রেখে ইতিমধ্যেই সর্বস্বান্ত হয়েছেন কয়েক লক্ষ মানুষ। এর পরেও যদি শিক্ষা না নিয়ে কয়েনে বিনিয়োগ করেন তা হলে পস্তাতে হতে পারে।

সব থেকে বিপজ্জনক ব্যাপার, ভার্চুয়াল কারেন্সির বিনিয়োগের মাধ্যম ডিজিটাল এবং ইলেকট্রনিক্স। এর জন্য প্রয়োজন পাসওয়ার্ডের। যা যে কোনো সময় হ্যাকিংয়ের শিকার হয়ে যাওয়াও অসম্ভব নয়। তার উপর রয়েছে ম্যালওয়ারের আক্রমণ। ফলে যে কোনো সময় বিনিয়োগের সমস্ত অর্থ শূন্য হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া এনক্রিপ্টের জন্য কয়েন ব্যবসার মাধ্যমে অবৈধ লেনদেন, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ, চোরাচালান, মাদক পাচার অর্থাৎ বে-আইনি অর্থ পাচারের যে কোনো অসৎ কাজে প্রয়োগ করা হচ্ছে।

সরকারি ভাবে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক কয়েনে বিনিয়োগকারীদের ২০১৩ সাল থেকে সতর্ক করে আসছে। যাঁর বিটকয়েন বা অন্যান্য ভার্চুয়াল কয়েনে বিনিয়োগ করেছেন, তাঁদের উদ্দেশে আরবিআই জানায়, অবিলম্বে নিজের বিনিয়োগকৃত অর্থ তুলে নিন। কারণ আরবিআই এখনো পর্যন্ত কয়েন ব্যবসায়ী কোনো সংস্থাকে লাইসেন্স দেয়নি। ভবিষ্যতেও তেমন কোনো ঘটনা ঘটবে বলে মনে হয় না।

কেন্দ্রীয় সরকারও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিল, এ দেশে ভার্চুয়াল কারেন্সির ব্যবসা আইনসিদ্ধ নয়। ফলে তাদের অনুমতি দেওয়া দূরের কথা, নিয়ন্ত্রণের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। বিনিয়োগকারীরা নিজেদের ঝুঁকিতেই বিনিয়োগ করছেন। সর্বস্বান্ত হলে সরকারের কিছু করার থাকবে না।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here