Indian Currency

ওয়েবডেস্ক: উপার্জন করলেই সব হয়ে যায় না, উপার্জন করা অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং সঞ্চয়ের কাজটা ঠিকঠাক করতে পারলে তবেই ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত হতে পারে। উপার্জিত অর্থের সেই সঠিক ব্য়বহারের মানসিকতা আসতে একটু সময় লাগতে পারে। কর্মক্ষেত্রে যোগ দেওয়ার শুরুতেই আনন্দ উদ্‌যাপনের কেটে যায় অনেকটা সময়। তার পরেই চলে আসে মনের কোণে লালিতপালিত ইচ্ছেগুলো পূরণ করার তাগিদ। ফলে সে সব চুকিয়ে ফেলে সঞ্চয়ে যত তাড়াতাড়ি মন দেওয়া যায় ততই ভালো।

ব্যাঙ্ক ্‌অ্যাকাউন্ট

নিজের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট যে সর্বাগ্রে প্রয়োজন, তা নতুন করে বলার নয়। ছাত্রাবস্থাতেই অনেকে ব্যাঙ্কে একটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট চালু করেন। কিন্তু ব্যবসা হোক বা চাকরি, আয়ের কিছু টাকা সেই সেভিংস অ্যাকাউন্টে জমা করা অতিপ্রয়োজনীয় বিষয়। পাশাপাশি শুধুমাত্র মোবাইলের মিসডকল পরিষেবা থেকে অ্যাকাউন্ট থেকে আদান-প্রদান জেনে নিলেই চলবে না, পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব রাখার জন্য ব্যাঙ্কের পাসবইটি নিয়মিত অপডেট করানো, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রয়োজনে গচ্ছিত অর্থরাশি এবং তুলে নেওয়া টাকার হিসাব খতিয়ে দেখতে হবে।

মাসিক খরচ

মাসিক আয়ের পরিমাণ যাঁর যেমন, খরচের বহরটাও তাঁর কাছে তেমন হতে পারে। ফলে প্রতিমাসের আনুষঙ্গিক খরচের নিয়মিত হিসাব মাথা্য় রাখা জরুরি। প্রতিমাসের পরিবহণ খরচ, বিদ্যুতের বিল, যদি ঘর ভাড়া লাগে, অফিসে লাঞ্চ বা টিফিনের জন্য বরাদ্দ খরচ- এগুলোকে একত্রিত করে নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে বেঁধে রাখা যায়। চাকুরিজীবীদের ক্ষেত্রে তো মাসিক আয় নির্দিষ্ট হওয়াটাই স্বাভাবিক। ব্যবসায়ীদেরও নির্দিষ্ট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকে। ফলে আয়ের ব্যাপারে যতটা সচেতন, ব্যয়ের ব্যাপারে খামতি দিলে চলবে না।

ধারের অভ্যেস

আয়ের টাকা হাতে এলে ইচ্ছে পূরণের তাগিদ বেড়ে যায়। কিন্তু আয়ের সঙ্গে সঙ্গতহীন ইচ্ছেপূরণের জন্য ধারের রাস্তায় যেতে হয় অধিকাংশকেই। সেই ধার যদি কোনো ব্যক্তি (বন্ধুবান্ধব)-র কাছ থেকে নেওয়া হয়, তা হলে হয়তো সুদের ঝক্কি থাকে না। কিন্তু ব্যাঙ্ক বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নিলে ঋণের উপর চেপে বসে সুদের টাকা। ফলে ধার হোক বা ঋণ, কোনো ক্ষেত্রেই মাসে পরিষোধ করা টাকার অঙ্ক যেন, মাসিক আয়ের থেকে এগিয়ে না যায়। সেভিংসের প্রয়োজনীয়তাও এখানেও। ইচ্ছে পূরণ হোক না, কিন্তু সেটা যতটা সম্ভব নিজের সঞ্চিত অর্থের উপর নির্ভর করে মিটিয়ে ফেলা যায়, সে দিকেই বেশি নজর থাকুক।

দ্বিতীয় আয়ের উৎস

একটি নির্দিষ্ট সংস্থায় কাজ করে অথবা ব্যবসা চালিয়ে উপার্জিত অর্থ থেকেও দ্বিতীয় আয়ের রাস্তা খুঁজতে হবে। সেটা অবশ্যই রাতারাতি কোটিপতি হয়ে যাওয়ার কোনো সস্তা রাস্তা নয়। ওই রাস্তা সোজা হলেও শেষ হয়েছে গভীর খাদে। ফলে এমন কিছু জায়গা চিহ্নিত করতে হবে, যেখানে কষ্টার্জিত অর্থ সঞ্চিত রেখে বাজারের নিরিখে একটু বেশি আয় করা সম্ভব। যেমন হাতের কাছে রয়েছে পাবলিক প্রভিডেন্ড ফান্ড। ১৫ বছরের লম্বা বিনিয়োগ। কিন্তু সুবিধার দিক থেকে অন্যকিছুর তুলনায় সহজ এবং এগিয়ে। রয়েছে সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান। ইদানীং এই বিনিয়োগ পদ্ধতির গ্রহণযোগ্যতা আধুনিক প্রজন্মের কাছে অনেকটাই বেশি।

ইএমআই/ প্রিমিয়াম

এমন অনেকগুলো স্বপ্নপূরণের ইচ্ছে থাকে, যার জন্য প্রয়োজন হয়ে পড়ে ঋণের। ঘরবাড়ি-ফ্ল্যাট, গাড়ি-বাইক থেকে শুরু করে এমন অনেক স্বপ্নই থাকে যা পূরণের জন্য ব্যাঙ্ক বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে হাত পাততে হয়। আবার রয়েছে বিভিন্ন বিমা। জীবনবিমা, স্বাস্থ্যবিমা, গাড়িরবিমা ইত্যাদি। ঋণের ক্ষেত্রে ইএমআই আর বিমার ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম। সবসময়ই মাথায় রাখতে হবে এই দুই অতিআবশ্যক বিষয়ের যোগফল। সাধ্যের মধ্যে থাকলে ভালো। মাসিক আয়ের পরিমাণ কিন্তু গার্ডার নয়, যে টানলেই বাড়বে!