currency

ওয়েবডেস্ক: এই দুনিয়ায় ধনী কে? এমন একটা প্রশ্নের দার্শনিক তত্ত্ব মিলবে অনেক। কিন্তু আর্থিক ভাবে ধনশালী বলতে তাঁকেই বোঝায়, যাঁর ভাণ্ডারে রয়েছে সব থেকে বেশি অর্থ। আয় থাকলে ব্যয়ও হয়। কিন্তু সেই ব্যয়ে স্বাভাবিক লাগাম পরিয়ে যে কোনো উপার্জনশীল মানুষই হয়ে উঠতে পারেন ধনী। এটা শুধু কথার কথা নয়, বাস্তব পরিস্থিতি তাই বলে।

কী সেই স্বাবাবিক লাগাম? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বড়ো মাপের অর্থনীতিবিদের প্রয়োজন নেই। দৈনন্দিন জীবনে খরচাপাতির হ্রাস করা যায় অনেক ক্ষেত্রেই। আবার সেই ব্যয় থেকে বাচাঁনো অর্থের সঠিক সঞ্চয় করতে পারলেই বাজিমাত। এ বিষয়ে চারটি পদ্ধতি অবলম্বন করে দেখা যেতে পারে।

১. সঞ্চয়ের অভ্যাস

আয় করতে শুরু মানেই ব্যয়েরও শুরু। তবে আয়ের উপর লাগাম পরিয়ে সেখান থেকে সঞ্চয়ের পরিকল্পনা নিতে হবে একেবারে গোড়া থেকেই। ধরুন আপনি মাসে পাঁচ হাজার টাকা আয় করেন। তা হলে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে থেকে মাত্র পাঁচশো টাকা বাঁচান। আবার যদি ১০ হাজার টাকা মাসিক আয় করে থাকেন, তা হলে এক হাজার টাকা বাঁচান। এ ভাবে শুরু থেকে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে যদি সঞ্চয়ের দিকে নিজের ঝোঁক বাড়ানো যায়, পরবর্তী কালে প্রতি ১০ হাজারে এক হাজারের সঞ্চয় এমনিতেই আরও বেড়ে যাবে। সেটা হবে নিজের সঞ্চয়ের অভ্যেস তৈরি হয়ে যাওয়ার ফল হিসাবেই।

২. সঞ্চয়ের সদ্ব্যবহার

সঞ্চয় তো হচ্ছে, সেই টাকা কোথায় থাকবে, সিন্দুকে? মোটেই না। বর্তমানে যে কোনো ব্যক্তি ঘরে রাখার থেকে সঞ্চিত অর্থ পৌঁছে দেন ব্যাঙ্কে। তবে সেখানে সেভিংস অ্যাকাউন্টে টাকা রেখে খুব বেশি রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফিক্সড ডিপোজিট, রেকারিং করতে পারেন। তবে এ সবের বাইরে একেবারে আধুনিক সময়ের সময়োপযোগী মিউচুয়াল ফান্ড, এসআইপি, বন্ড অথবা শেয়ার মার্কেটে দীর্ঘকালীন ইক্যুইটিতে বিনিয়োগ অনেক বেশি লাভদায়ী।

৩. অপ্রয়োজনীয় ব্যয় সংকোচন

প্রবাদপ্রতীম বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ ওয়ারেন বাফেটের একটি উক্তি- অপ্রয়োজনীয় কোনো বস্তু কিনে ফেলে রাখা এক দিন কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে প্রয়োজনীয় বস্তু বিক্রি করার। ফলে সেই পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে বা কিনে ফেললেও বিক্রি করে দিতে, যেগুলো আপনার অপ্রয়োজনীয়।

৪. সীমারেখা রচনা

হ্যাঁ, নিজেকেই তৈরি করে নিতে হবে নিজের লক্ষ্য বা গণ্ডি। অর্থ উপার্জনের কোনো বাঁধাধরা সীমারেখা হয় না। কিন্তু তবুও একটা আনুমানিক লক্ষ্য তৈরি করতে হবে। নইলে আরও চাই-এর চক্করে পড়ে সামাজিক জীবন বিপর্যস্ত হতে পারে। আবার শারীরিক এবং মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা এড়ানো যায় না কোনো কোনো ক্ষেত্রে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here