Family expenditure and Income

ওয়েবডেস্ক: মাঝ বয়সে এসে পৌঁছানো যে কোনো মানুষেরই দায়িত্বের বহর ক্রমাগত বিস্ফারিত হতে থাকে। এক দিকে সন্তানের পড়াশোনা থেকে শুরু করে অন্য দিকে বয়স্ক পিতামাতার বার্ধক্যজনিত রোগের খরচাপাতি। আয় যাই হোক, এই দু’টি বিষয়কে এড়িয়ে যাওয়া কোনো সুস্থ মানসিকতার মানুষের পক্ষেই সম্ভব নয়। তবুও এমনও কিছু ব্যয় প্রায়শই হয়ে থাকে, যার জন্য ভবিষ্যতের সঞ্চয়ে বড়োসড়ো কোপ পড়তে পারে। যেগুলিকে অর্থনীতি বিশ্লেষকরা ‘ফাঁদ’ হিসাবেই উল্লেখ করছেন।

ফাঁদ-১

পরিবারের সমস্ত চাহিদা মেটানোই কর্তব্য। কিন্তু সব কিছুতেই যদি হ্যাঁ বলার অভ্যেস তৈরি হয়ে যায়, তা কিন্তু বিপজ্জনক। সেটা নিজের সন্তানের হোক বা পিতামাতার। গুরুত্ব বিবেচনা করার দায়িত্ব নিজের। কোনটা প্রয়োজনীয় আর কোনটা অপ্রয়োজনীয়, সেটা কিন্তু অবশ্য বিচার্য বিষয়। অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ ওয়ারেন বাফেট বলেছেন, যে পণ্য আপনার অতিপ্রয়োজন, সেটা কিনতে ঘরের মধ্যে পড়ে থাকা অপ্রয়োজনীয় সেই পণ্যটা বিক্রি করে দিন। তা হলেই ভাবুন, সবার আবদার মেটাতে গিয়ে আপনি কোনো অপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে ফেলছেন কি না?

ফাঁদ-২

ঋণ নিয়ে স্বপ্নপূরণ করা ছাড়া উপায় থাকে না নিম্ন ও মধ্যবিত্তের। বাড়ি/ফ্ল্যাট কিনতে ঋণ, গাড়ি কিনতে ঋণ, ব্যক্তিগত কাজে ঋণ। পাশাপাশি রয়েছে ক্রেডিট কার্ডের আরও এক ধরনের ঋণ। এ ভাবে ঋণের সংখ্যা বা বহর বাড়তে থাকলে সঞ্চয় আর হবে কোথা থেকে। এ ক্ষেত্রে একটা ঋণের অন্তে আর একটা ঋণগ্রহণের কথা চিন্তাভাবনা করাই ভালো। নইলে একাধিক ঋণের ফাঁদে পড়ে ভবিষ্যৎ কিছুতেই ঝকঝকে হতে পারে না, তা বলাই বাহুল্য। ১৬ শতাংশের উপর ঋণের উপর সুদ দিতে গিয়ে, সে সবের বালাই আপনা হতেই চুকে যেতে পারে।

ফাঁদ-৩

সব বিনিয়োগ একই ঝুড়িতে না রাখার পরামর্শটিও ওয়ারেন বাফেটের। যে যেখানেই বিনিয়োগ অথবা সঞ্চয়ের টাকা গচ্ছিত রাখার কথা ভাবুন না কেন, কোনো মতেই তা একই ক্ষেত্রে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। যেমনটা হতে পারে ইক্যুইটি মার্কেটে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে। যতটা বিনিয়োগ করলাম, সবটা দিয়েই নির্দিষ্ট একটি সংস্থার শেয়ার কিনে ফেলা হল-এমন চিন্তা পরবর্তীতে ঘোর দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সেই নির্দিষ্ট স্টকের দাম নীচের দিকে নামতে শুরু করলে, লাভ দুরঅস্ত, মূলধনের টাকাই গায়েব হতে পারে। মিউচুয়াল ফান্ড হোক বা এসআইপি-অংশাকারে বিনিয়োগেই আগ্রহী হওয়া ভালো।

ফাঁদ-৪

আমিই এক মাত্র উপার্জনকারী, ফলে আমি দুর্ঘটনার শিকার হলে আমার পরিবার ভেসে যাবে। অগত্যা, সমস্ত বিমা শুধু আমার নামেই হোক। ঝেড়ে ফেলুন এমন অযৌক্তিক মানসিকতা। বিমা শুধু জীবনের উপর নয়, স্বাস্থ্য, দুর্ঘটনা ইত্যাদি ক্ষেত্রেই করানো যায়। বিমার সঙ্গে জুড়ে গেছে সন্তানের লেখাপড়ার জন্য চাহিদা পূরণের পন্থা। ফলে শুধু জীবনবিমায় আটকে না থেকে একাধিক ক্ষেত্রকে ব্যবহার করতে হবে। আবার পরিবারের একাধিক সদস্যকে বিমার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এবং সেটা অবশ্যই আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই।

ফাঁদ-৫

বিনিয়োগের স্বীকৃত সংস্থার হদিশ খুঁজে না পাওয়াটাও আরও একটা বড়ো ফাঁদ। নিজের কষ্টার্জিত অর্থ কোথায় বিনিয়োগ বা সঞ্চয়ের জন্য গচ্ছিত রাখছি- এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সাম্প্রতিক অতীতে এমন ঘটনার বহুল নজির রয়েছে। কম সময়ে অতিরিক্ত লাভের আশায় জল ঢেলে দেওয়া সংস্থা সর্বস্বান্ত করে ছেড়েছে কয়েক লক্ষ মানুষকে। ফলে সাধু সাবধান!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here