bitcoin trading caution

ভার্চুয়াল কারেন্সি বা ক্রিপ্টো কারেন্সি নিয়ে অতি উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে গোটা ভারত জুড়ে। কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে বিনিয়োগের একটাই নাম-বিট কয়েন।  পৃথিবী জুড়ে বললাম না এই কারণেই যে, পৃথিবীর বহু দেশ অনেক দিন আগেই এর তিতকুটে স্বাদ চেখে দেখে বাতিল করে দিয়েছে। অনেকে আবার এই আপদকে বিদায় করার চিন্তাভাবনা করছে। কিন্তু ভারতে যেহেতু এই ব্যবসার ক্রম উত্থান নতুন, সে কারণেই এই অদৃশ্য-অস্তিত্বহীন ব্যবসার ফাঁদটির সঙ্গে যুক্ত দালালগণ নানান ধরনের টোপ দিয়ে চলেছেন। যাঁরা এই ব্যবসা সম্পর্কে  নিজেরাই ১০ শতাংশ জানেন না, তাঁরা এমন একটা ভাব দেখাচ্ছেন যেন আপনার টাকা আপনার কাছে থাকলে শুধু টাকাই, কিন্তু ভার্চুয়াল কারেন্সিতে বিনিয়োগ করলে হয়ে যাবে সোনার ডিম পাড়া হাঁস। রোজ সকালে নিয়ম করে দু-চারটে সোনার ডিম পাড়বে। যদিও নির্দিষ্ট একটা সময়ের পর সোনার ডিম পাড়া হাঁসের মালিক আপনি যখন মুরগিতে পরিণত হবেন, তখন তাঁর টিকির নাগাল মিলবে না।

চিন বিট কয়েন মাইনারদের মূল ঘাঁটি। তবে এই মাইনারের মাইনিং পদ্ধতি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন কথা বলে থাকেন দালালরা। বর্তমানে চিনা সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিট কয়েন মাইনারদের জন্য় বিদ্য়ুতে দেওয়া ভরতুকি তারা বন্ধ করে দেবে। অন্য় দিকে বিট কয়েন মাইনিংয়ের আর এক শক্তপোক্ত জায়গা হল দক্ষিণ কোরিয়া। গত সোমবার সেই দেশে বিট কয়েন ব্য়বসা বন্ধ করে দেওয়ার যাবতীয় উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গ হিসাবে অতর্কিতে হানা দেওয়ার কাজ শুরু করেছে।

সব মিলিয়ে এশিয়ায় বিট কয়েনের জাঁকিয়ে বসার স্বপ্ন অধরা থেকে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। অন্তত এর এক মাসের দামে মহাপতন যখন সামনে চলে এসেছে তখন তো সে কথা জোরের সঙ্গেই বলা যায়। এক মাসে বিনিয়োগকৃত অর্থ প্রায় ৩৮ শতাংশ কমে গিয়েছে। যিনি বিট কয়েনে এক মাস আগে এক লক্ষ টাকা ঢেলেছিলেন তাঁর সেই টাকার পরিমাণ এখন ৬২ হাজার মাত্র। বিশ্বাস না হলে, মিলিয়ে দেখে নিতে পারেন।

বিট কয়েনের দালালরা লাভের পরিমাণ ছাড়া কোনো কথাই বলতে চান না। যুক্তিতে না পেরে উঠে প্রত্যেকেই বলে থাকেন, জানেন অমিতাভও বিট কয়েনে টাকা রাখেন। তিনি কী এতটাই বোকা?

জানি না, অমিতাভ এ খবর শুনে কী করবেন?

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here