sensex share market nifty2

বিশেষ প্রতিনিধি: সপ্তাহের প্রথম ট্রেডিং ডে-তে ৪০০ পয়েন্টের ধাক্কা খাওয়ার পর একটু অন্যরকম খেলা দেখা গেল মঙ্গলবার। বাজার খুলল ১৪০ পয়েন্ট (সেনসেক্স) উপরে উঠে। তারপর সারাদিন চলল উঠি-নামি খেলা। কিন্তু দিনের শেষে যা হওয়ার তাই হল। আগের চারটি দিনের তুলনায় অনেকটা কম হলেও ৭১ পয়েন্ট নীচে নেমেই ঘুমোতে গেল সেনসেক্স। বিশ্ববাজার যে ভাবে তরতরিয়ে উপরে উঠছে, সেখানে পিএনবি-কাণ্ডের জেরে বাজারের পতন যেন থামতেই চাইছে না। ফলে বিনিয়োগকারীরাও বাজেট পরবর্তী পরিস্থিতি থেকেই লোকসান দরেই স্টক বিক্রি করে দিয়ে টাকা তুলে নিতে চাইছেন।

এমন অবস্থায় স্টক মার্কেটের মুরুব্বিরা বলছেন, খুব বেশি আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। এ দেশের বাজারে সরকারি দুর্নীতির প্রভাব মোটেই দীর্ঘস্থায়ী হয় না। গত কয়েক দশকে এ রকম ছোটো-বড়ো বহু দুর্নীতির শরিক হয়েছে ভারতের শেয়ার বাজার। সাময়িক প্রভাব পড়লেও কিছু দিনের পর আবার যে কে সেই। কে আর বেশি দিন মনে রাখে এই সব ঘটনার কথা।

কে যেন বলেছিলেন, আমাদের স্মৃতি বড়ো ভঙ্গুর। নতুন একটা ঘটনা মস্তিষ্কে সেঁধিয়ে গেলেই পুরনো আমরা গুলে মেরে দিই। ফলে মুরুব্বিদের কথাও একেবারে ফেলনা নয়। কিন্তু বাজারের এখন যা পরিস্থিত তাতে হাত দেবেন কোন স্টকে?

বাস্তব অভিজ্ঞতার নিরিখে, ব্যাঙ্কিং সেক্টরকেই সব থেকে বেশি বিশ্বস্ত মনে করেন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু সেই বিশ্বাসের জায়গাটিতেই আঘাত লেগেছে। বিশেষ করে, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী যে ভাবে সরকারের মাথা থেকে দায় ঝেড়ে ফেলতে অডিটর এবং ম্যানেজারদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়েছেন তাতে আর যাই হোক, বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, ব্যাঙ্কগুলোর কোনো রকমের পাপের ভাগিদার হবে না সরকার। অন্য দিকে ব্যাঙ্কগুলির উপর সরকারের নিয়ন্ত্রণও অনেকটা কমে গিয়েছে। ফলে ব্যাঙ্কিং সেক্টরে অর্থ বিনিয়োগ করে ঈশ্বরের উপর ভরসা করা ছাড়া উপায় নেই। টাকা চোট গেলে, দু-হাত উপরে তুলে-হা ঈশ্বর এ কী করলে গোছের হা-হুতাশ করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।

তবে হ্যাঁ, মুরুব্বিদের কথা মেনে বিনিয়োগও করতে পারেন। কারণ তাঁরা বলছেন, এখন বিনিয়োগ করলে আগামী ২০ বছরের মধ্যে যথোপযুক্ত রিটার্ন পাওয়া নিশ্চিত।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here