modi-economy

ওয়েবডেস্ক: এফডিআই নিয়ে রূপরেখা নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করে গিয়েছিলেন পূর্বসূরি প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ। ২০১৪-এর ভোট প্রচারে বিজেপি প্রার্থী নরেন্দ্র মোদী ভারতকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন এফডিআইয়ের হাত ধরেই দেশে শিল্প বিনিয়োগে বান ডাকানোর। দেশের উৎপাদন শিল্পকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে দিয়ে তিনি সমস্ত প্রচার সভাতেই দাবি করতেন বেকারের হাতে কাজ তুলে দেওয়ার। তিনি বলেছিলেন, এই দু’টি কাজ করতে পারলেই দেশের আর্থিক বৃদ্ধির হার দ্রুত উপরের দিকে উঠবে।

আগামী শনিবার, ২৬ মে মোদী সরকারের চার বছর পূরণ হচ্ছে। খুব বেশি নয়, তাঁর প্রতিশ্রুতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গি জড়িত চারটি বিষয়ে আলোকপাত করলেই স্পষ্ট হবে অর্থিক উন্নতির আংশিক চিত্র।

টাকার দাম

ruppe

ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের হিসাব বলছে, গত চার বছরে টাকার দাম পড়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় ১০ টাকার অবনমন ঘটেছে তুলনামূলক ভাবে। আমেরিকার ডলারের তুলনায় টাকার দাম ৬৮.২১ টাকা। ২০১৪ সালের ২১ মে এই দাম ছিল ৫৮.৫৯ টাকা। অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, ডলারের তুলনায় টাকার দাম গিয়ে ঠেকতে পারে ৭০ টাকায়!

দ্রব্যমূল্যবৃদ্ধি

inflation

রিজার্ভ ব্যাঙ্কেরই আরও একটি পরিসংখ্যান বলছে দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে লাগাম ছাড়া। খুচরা মুদ্রাস্ফীতি হ্রাসের হার চলতি বছরের শেষ মাসে ছিল ৪.৫৮ শতাংশ। পরিসংখ্যানে স্পষ্ট, গত ২০১৪ সালের মে মাসে হ্রাসের পরিমাণ ছিল ৮.৪৮ শতাংশ। ২০১৭ সালের জুন মাসে পড়তে পড়তে যা গিয়ে ঠেকেছিল ১,৪৬ শতাংশে। নিত্যপণ্য বিশেষত, জ্বালানি তেলের দাম থেকেই এই অঙ্ক পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার কথা।

ব্যাঙ্কের অনুৎপাদক সম্পদ

bank

বর্তমানে মোদী সরকারে কাছে সব থেকে দু:স্বপ্নের বিষয়। ব্যাঙ্কের অনুৎপাদক সম্পত্তির পরিমাণ লাফিয়ে বেড়েছে এই চার বছরে। অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ হু-হু করে বাড়তে থাকলেও শিল্পপতিরা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে নিরাশ হচ্ছেন না। সদ্য শেষ হওয়া ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে রাষ্ট‌্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির অনুৎপাদক সম্পদের পরিমাণ ছিল ৭.৮ লক্ষ কোটি টাকা। তুল্যমূল্য ভাবে ২০১৪-র জুন মাসে যা ছিল ২.৪ লক্ষ কোটি টাকা। চলতি আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকের রিপোর্ট প্রকাশ, এই অঙ্ক পৌঁছেছে ৭.৩১ লক্ষ কোটিতে।

শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি 

induatries

শিল্প ক্ষেত্রে উৎপাদনের হার নির্ণয় হয় ইনডেক্স অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রডাকশন বা আইআইপি মারফত। বৃহৎ শিল্প হিসাবে পরিচিত খনিজ উৎপাদন, বিদ্যুৎ এবং অন্যান্য ক্ষেত্র এই চার বছর চরম অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত হয়ে চলেছে। ২০১৫-র অক্টোবরে আইআইপির হার ছিল ৯ শতাংশ। ২০১৬-র জুন মাসে যা নেমে যায় ৮ শতাংশে। তার পর থেকে আর উঠতে পারেনি। অর্থনীতিবিদদের ধারণা এ বছরের এপ্রিলে তা সম্ভবত ঠেকেছে ৬.৫ থেকে ৭.৫ শতাংশে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here