ওয়েবডেস্ক: ছিল ১৩০। হল ১০০। বিশ্বব্যাঙ্কের মাপকাঠি অনুযায়ী অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরিতে এগোচ্ছে ভারত। বিশ্বের ১৯০ টি দেশের বিনিয়োগ এবং বিকাশের অনূকুল পরিবেশ বিষয়ে ‘ডুয়িং বিজনেস’ নামক একটি সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাঙ্ক। এই তালিকায় ১০০ নম্বরে রয়েছে ভারত। গতবছর ভারতের স্থান ছিল ১৩০ নম্বরে। ২০২০ সালের মধ্যে এই তালিকার প্রথম ৫০ এর মধ্যে স্থান করে নেওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে ভারত সরকার।

সম্প্রতি নর্মদা বাঁধের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাঙ্ক প্রকল্প রূপায়ণে বাধার সৃষ্টি করেছে বলে হুঙ্কার দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগ টানতে মরিয়া সরকারের কাছে  বিশ্বব্যাঙ্কের র‍্যাঙ্কিং তালিকায় ওপরদিকে ওঠাই আদতে পাখির চোখ।

এবছর অর্থনৈতিক সংস্কারমূলক কাজের নিরিখে প্রথম পাঁচটি দেশের মধ্যে ভারত রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। কর্পোরেট কর্তা এবং অন্যান্য ফলভোগীদের (স্টেকহোল্ডার) সঙ্গে নিয়মিত আলোচনার ভিত্তিতেই মূলত ‘ডুয়িং বিজনেস’ রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়। কর্পোরেট দুনিয়া ভারত সরকারের সংস্কারমূলক কাজে খুশি এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের উপযোগী পরিবেশ আছে বলে মনে করছে, তাঁদের এই ফিডব্যাকের নিরিখেই ৩০ টি দেশকে টপকে এখন ১০০ নম্বরে ভারত।

অগ্রগতির পরিমাপ করার জন্য যে ১০ টি সূচক/মানদণ্ড (প্যারামিটার) নির্দিষ্ট রয়েছে বিশ্ব ব্যাঙ্কের সমীক্ষাটিতে তাঁর মধ্যে ৬ টিতেই উন্নতি হয়েছে অর্থাৎ নম্বর বাড়িয়েছে ভারত। বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতিগুলির মধ্যে একমাত্র ভারতের ক্ষেত্রেই এবছর সংস্কার সূচকের মান এতটা বৃদ্ধি পেয়েছে। সব থেকে বেশি নম্বর উঠেছে ‘সংখ্যালঘু বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা’ দেওয়ার ক্ষেত্রটিতে। এই সূচকটির নিরিখে জগতসভায় চতুর্থস্থানে রয়েছে ভারত।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে জিএসটি যদিও এ বারের সমীক্ষার অন্তর্ভূক্ত ছিল না কিন্তু এটিকে একটি প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক পদক্ষেপ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে বিশ্বব্যাঙ্ক এবং আশা করা হচ্ছে আগামী বছর রিপোর্ট জিএসটি ধরে করা হলে তালিকায় আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে ভারত।

তবে নতুন ব্যবসা শুরুর করার ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত ধাপগুলি পেরোতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় ভারতের ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের। এ বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্টে ডুয়িং বিসনেস বলছে এ ক্ষেত্রে সূচক অনুযায়ী ভারত রয়েছে ১৫৬ নম্বরে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে আরো ১২০টি সংস্কারমূলক কাজের পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে। যেগুলি সমীক্ষার আওতায় আনলে ‘ডুয়িং বিজনেস’-এর ক্ষেত্রে ভারতের র‍্যাঙ্কিং আরো বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here