নয়াদিল্লি: সরকারি বিমান পরিবহণ সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া কিনে নেওয়ার উৎসাহ প্রকাশ করেছে টাটা গোষ্ঠী। এই খবর বিজনেস নিউজ চ্যানেল ইটি নাও-এর। আর্থিক অনটনে জর্জরিত এয়ার ইন্ডিয়া-কে বিক্রি করে দেওয়ার কথা ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ‘ইটি নাও’ জানিয়েছে, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসকে শরিক করে এয়ার ইন্ডিয়ার ৫১ শতাংশ ইকুইটি কিনতে চায় টাটা গোষ্ঠী। এ ব্যাপারে টাটা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন সরকারের সঙ্গে ঘরোয়া আলোচনা করেছেন। ব্যাপারটি বাস্তবায়িত হলে ইতিহাসের একটি বৃত্ত সম্পূর্ণ হবে। ১৯৫৩ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত হওয়ার আগে এয়ার ইন্ডিয়ার মালিকানা টাটা গোষ্ঠীর হাতেই ছিল।

এয়ার ইন্ডিয়া বিগত এক দশক ধরেই আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত। এই বিমানসংস্থার বেসরকারিকরণের কথা বেশ কিছু দিন ধরেই বলে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। এয়ার ইন্ডিয়ার বেসরকারিকরণ কী ভাবে করা যায় তা নিয়ে বিমান পরিবহণ মন্ত্রককে সব দিক খতিয়ে দেখতে হবে বলে জানান কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। এয়ার ইন্ডিয়ার ঘাড়ে ৫২ হাজার কোটি টাকা ঋণের বোঝা। এই বোঝা থেকে কিছুটা বেরিয়ে আসার জন্য এয়ার ইন্ডিয়া এখনও পর্যন্ত ২৪ হাজার কোটি টাকা পেয়েছে।

২০১৩ সালে টাটা গোষ্ঠীর তৎকালীন চেয়ারম্যান রতন টাটা বলেছিলেন, ‘এয়ার ইন্ডিয়ার যখন বেসরকারিকরণ হবে’ তখন তার দিকে ‘নজর দিতে পারলে খুশি হবে টাটা গোষ্ঠী’।

তবে সরকারের সঙ্গে কথোপকথনের সময় টাটা গোষ্ঠী নাকি এয়ার ইন্ডিয়ার ঋণের বোঝা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে সূত্রের খবর, এয়ার ইন্ডিয়ায় টাটা গোষ্ঠীর প্রবেশ যাতে লাভজনক হয় তার জন্য ঋণের বোঝা কমিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে মোদী সরকার টাটাদের আশ্বাস দিয়েছে।

টাটা গোষ্ঠী যদি এয়ার ইন্ডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করার মতো শেয়ারের অধিকারী হয়, তা হলে ইতিহাসের একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ হবে। যাদের হাত ধরে এয়ার ইন্ডিয়ার জন্ম, যাদের হাতে এর পূর্ণতাপ্রাপ্তি, সেই টাটাদের হাতেই ফিরে যাবে এয়ার ইন্ডিয়া।

টাটা সন্স ১৯৩২ সালে টাটা এয়ারলাইনস-এর পত্তন করেছিল। করাচি ও মুম্বইয়ের মধ্যে প্রথম উড়ানটি নিজে চালিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন জে আর ডি টাটা। ১৯৪৬-এ টাটা এয়ারলাইনস পাবলিক কোম্পানি হয়, নাম হয় এয়ার ইন্ডিয়া। ১৯৫৩ সালে সরকার যখন এয়ার ইন্ডিয়ার জাতীয়করণ করে তখন বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিমানসংস্থা ছিল এই সংস্থা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here