টেক মাহিন্দ্রার কর্মী ছাঁটাইয়ে ক্ষমা প্রার্থনা আনন্দ মাহিন্দ্রার

0
465

বেঙ্গালুরু: টেক মাহিন্দ্রার এক কর্মীকে যে ভাবে সময় না দিয়ে ছাঁটাই করা হয়েছে, তাতে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন মাহিন্দ্রা গ্রুপের একজিকিউটিভ চেয়ারম্যান আনন্দ মাহিন্দ্রা, টেক মাহিন্দ্রার ভাইস চেয়ারম্যান বিনীত নায়ার এবং সিইও সিপি গুরনানি। কোম্পানির এক মানবসম্পদ (এইচআর) আধিকারিকের সঙ্গে বরখাস্ত হওয়া ওই কর্মীর রেকর্ড হওয়া কথাবার্তা অনলাইনে ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর সংস্থার শীর্ষ কর্তারা দুঃখপ্রকাশ করলেন।

আনন্দ মাহিন্দ্রা শুক্রবার টুইট করে বলেন, “আমি ব্যক্তিগত ভাবে ক্ষমা চাইছি। ব্যক্তিবিশেষের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার ব্যাপারটিকে আমরা খুবই মূল্য দিই। ভবিষ্যতে এ রকম যাতে না ঘটে, তা সুনিশ্চিত করব।” এর আগে গুরনানি টুইট করে আধিকারিকের সঙ্গে ওই কর্মীর কথাবার্তার ধরনে দুঃখপ্রকাশ করেন এবং সুনিশ্চিত করেন যে, “ভবিষ্যতে এ রকম যাতে না ঘটে তার জন্য কোম্পানি যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়েছে।”

ছাঁটাই হওয়া কর্মীর নাম জানা যায়নি। কোম্পানির পুনর্গঠন সংক্রান্ত পরিকল্পনা অনুসারে তাঁকে পরের দিন সকাল ১০টার মধ্যে ইস্তফা দিতে বলা হয়। আরও সময় দেওয়ার জন্য ওই কর্মী ওই মানবসম্পদ আধিকারিকের কাছে বার বার মিনতি করতে থাকেন। ওই আধিকারিক রূঢ় ভাবে তাঁকে বলেন, সময় দেওয়া যাবে না। তিনি ওই কর্মীকে বার বার মনে করিয়ে দেন কোম্পানির নিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তিতে বলাই আছে, কোনো কর্মীকে যখনতখন ছেঁটে ফেলার অধিকার নিয়োগকর্তার আছে।

ফোনে ওই আধিকারিককে বলতে শোনা যায়, “খরচা যতটা সম্ভব কমানোর চেষ্টা চলছে কোম্পানিতে। এবং আপনার নামটা তালিকায় আছে। যদি আপনি কাগজে কলমে ইস্তফার আবেদন করেন তা হলে আমরা এটাকে স্বাভাবিক ভাবে চলে যাওয়া বলে ধরে নেব এবং সে ক্ষেত্রে ১৫ জুন আপনার শেষ কাজের দিন হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি তা না করেন, আপনাকে আমরা ছাঁটাইয়ের চিঠি ধরিয়ে দেব এবং সে ক্ষেত্রে আপনি কোম্পানির কাছ থেকে কিছুই আশা করবেন না, এমনকি আপনার মূল বেতন এবং অভিজ্ঞতা সংক্রান্ত কোনো চিঠিও নয়।”

সংশ্লিষ্ট কর্মীকে বলতে শোনা যায়, তিনি তো চলে যাওয়ার জন্য বেঞ্চে বসে নেই এবং গত কয়েক বছরে তাঁর পারফরম্যান্স ভালো। কিন্তু তাঁকে বলা হয়, ছাঁটাইয়ের সঙ্গে পারফরম্যান্সের কোনো সম্পর্ক নেই। এটা কোম্পানির ‘খরচ কমানোর’ পরিকল্পনার অঙ্গ।

মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞরা বলেন, এ ভাবে সময় না দিয়ে কর্মী ছাঁটাই করা কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। তবে এ ক্ষেত্রে কথাবার্তাটা কড়া হয়ে গিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মানবসম্পদ পেশাদার বলেন, “টার্গেট পূরণ করার জন্য মানবসম্পদ কর্মীরাও চাপে থাকেন।”

তবে যে যাই বলুন, এ ভাবে ছাঁটাইয়ের ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না কেউই। ক্ষমা প্রার্থনা করে মাহিন্দ্রার শীর্ষ কর্তাদের টুইট করার ব্যাপারটি সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই স্বাগত জানিয়েছেন। আবার অনেকে মনে করেন, যে ভাবে ভারতের কোম্পানিগুলিতে ছাঁটাই চলছে তাতে ওঁদের ক্ষমাপ্রার্থনায় কিছুই যাবে আসবে না। একটা টুইটে বলা হয়েছে, “এ ভাবে ফোনে ছাঁটাই করা এখন প্যাটার্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।” আরেকটি টুইটে বলা হয়েছে, “এটা কি সত্যিই আমাদের বিশ্বাস করতে বলেন যে কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কোম্পানির এইচআর বিভাগ কীভাবে রূপায়ণ করছে সে সম্পর্কে উচ্চপদস্থ কর্তারা কিছুই জানেন না?”

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here