Home loan

ওয়েবডেস্ক: স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া গৃহঋণে সুদ কমানোর কথা জানানোর পরই রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীরা নড়েচড়ে বসছেন। গত প্রায় এক বছর ধরে নোটবন্দি-পরবর্তী সময়ে আবাসন শিল্পে দুর্দিন নেমে আসে। নির্মীয়মান সারি সারি ফ্ল্যাট এখনও পর্যন্ত অবিক্রিত হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে দেশের সর্ব বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক গৃহ ঋণে সুদের হার কমানোয় সেই ফ্ল্যাট বিক্রির মরা বাজারে কিছুটা হলেও প্রাণের সঞ্চার হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

নতুন বছরের শুরুতেই এসবিআই জানিয়ে দিল, তারা নিজেদের গ্রাহকদের জন্য আকর্ষণীয় হারে গৃহ ঋণ দিতে চলেছে। তাদের বেসিস রেট ৮.৯৫ থেকে কমিয়ে নিয়ে আসা হল ৮.৬৫-এ।

এত দিন পর্যন্ত ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে গ্রহীতার কাছ থেকে ৮.৩৫ শতাংশ হারে সুদ নিত এসবিআই। এবং ঋণের পরিমাণ তার বেশি হলেই ওই সুদের হার পৌঁছতো ৮.৪৫ শতাংশে। কিন্তু নতুন নিয়মে ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত গৃহঋণের জন্য সুদ দিতে হবে ৮.০৫ শতাংশ এবং তার উপরে হলে ৮.১০ শতাংশ।

অর্থাৎ প্রাথমিক ভাবে বোঝা যাচ্ছে, এক ধাক্কায় অনেকটাই সুদের হার লাঘব হল দুটি স্তরেই। এখনকার বাজার অনুযায়ী, নিজস্ব নতুন বাড়ি অথবা ফ্ল্যাটে হাত দিলেই খরচের বহর অনায়াসেই ২৫-৩০ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবেই বেশি পরিমাণ অর্থ ব্যাঙ্ক ঋণের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে গিয়ে চড়া সুদে টাকা ধার নিতে হতো। কিন্তু এসবিআইয়ের নতুন নিয়মে বলছে, আগে ৩০ লক্ষ টাকার জন্য যে হারে সুদের দিতে হতো তার থেকেও অনেক স্বল্প হারে এ বার সুদ দিতে হবে।

স্বভাবতই রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীরা এসবিআইয়ের এই নতুন ঋণ পলিসিকে স্বাগত জানিয়েছেন। এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘একে তো নোটবন্দি, তার পর জিএসটি-একের পর এক ধাক্কায় নাভিশ্বাস উঠে গিয়েছিল রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়। অনেকে ইচ্ছে থাকলেও ইচ্ছে পূরণ করতে পারছিলেন না। এ বার তাঁদের কাছে স্বস্তির হাওয়া নিয়ে এল এই নতুন সুদের হার। দেখুন আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ফের এই ব্যবসা চাঙ্গা হয়ে ওঠে।’  তবে এতটা আত্মবিশ্বাসী হয়ে তাঁর এ কথা বলার কারণ রয়েছে অন্যত্র। তিনি মনে করেন, এসবিআই পথ দেখাল। আগামী দিনে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে অন্যান্য ব্যাঙ্কগুলিও ঋণ কমাতে বাধ্য। তা ছাড়া গৃহ ঋণে সুদ কমার সঙ্গেই প্রশস্ত হল ব্যক্তিগত ও গাড়ি ঋণে সুদ কমার পথ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here