Narendra Modi

ওয়েবডেস্ক: পেট্রোল-ডিজেল থেকে লিটারপিছু ২.৫০ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। ওই বৈঠকেই তিনি মন্তব্য করেন, “টাকার দাম পড়ার পিছনে সবটাই ‘বাহ্যিক কারণ’। এর নেপথ্যে আন্তর্জাতিক সংকট”। পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, “দেশের আভ্যন্তরীণ অর্থনীতি মজবুত রয়েছে”। তাঁর এই বক্তব্য কি বর্ণে বর্ণে সঠিক?

জেটলির এ হেন আশ্বাসবাণীতে মোটেই খুশি হতে পারছেন না শেয়ার বাজারের বিশ্লেষকরা। তাঁরা মনে করেন, মার্কিন ডলারের চাহিদা উত্তরোত্তর বাড়ছে। সে ক্ষেত্রে যদি প্রতিদ্বন্দ্বী অর্থনীতির চাহিদা বাড়ত, তা হলে টাকার দাম কমলে কোনো চিন্তা ছিল না। ফলে ডলারের তুলনায় টাকার দামের অবনমন নিয়ে জেটলি যে তথ্য পেশ করছেন তা কতটা গ্রহণযোগ্য, তা সহজেই অনুমেয়।

ওই সাংবাদিক বৈঠকে জেটলির বক্তব্যে উঠে এসেছে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ব্য়ারেলপিছু দাম বাড়ার বিষয় এবং শেয়ার বাজারের পতনের কথাও। কিন্তু শেয়ার বাজারের পতনের নেপথ্যে অন্যতম কারণগুলির মধ্যে একটি আইএল অ্যান্ড এফএস নিয়ে টুঁ শব্দটি করেননি তিনি।

৯১ হাজার কোটি টাকার দেনার দায়ে জর্জরিত ওই সংস্থার পুনরুজ্জীবনে প্রতিটা দিন নিত্যনিতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছে কেন্দ্রীয় সরকার। ওই সংস্থার সঙ্গে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সম্পর্ক কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে। এমন একটি দেউলিয়া সংস্থাকে বাঁচিয়ে তুলতে তাঁর বাড়তি উদ্যোমে হতাশ শেয়ার বাজার। বিনিয়োগকারীদের মনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

সেনসেক্স ৮০০ এবং নিফটি ২৫৯ পয়েন্ট পড়ে যাওয়ার পর ইয়েস সিকিউরিটিজের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তথা হেড অব রিসার্চ নিতাশা শঙ্কর জানিয়েছেন, আইএল অ্যান্ড এফএস নিয়ে সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের মনে নেতিবাচক সেন্টিমেন্ট তৈরি করেছে। লিকুইডিটি ক্রাইসিসের ভয় তাড়া করে বেড়াচ্ছে শেয়ার বাজারকে।

উল্লেখ্য, ওই দিনই শেয়ার বাজার থেকে গায়েব হয়ে গিয়েছে ৩.৩১ লক্ষ কোটি টাকা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন