নিজস্ব প্রতিনিধি, পূর্ব বর্ধমান: বাংলা ও বাঙালির রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে ফুটবল মিশে আছে তা আর নতুন করে বলার কিছু নেই । তবে সেই বাঙালির ভালোবাসার ফুটবলকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে এ বার দায়িত্ব পেলেন গ্রাম বাংলার মা-বোনেরা। পশ্চিমবঙ্গের  ছয়টি ফুটবল তৈরির কারখানা আছে। যার ব্র্যান্ড নাম ‘জয়ী ‘ ফুটবল।  যা বাংলা তথা আন্তর্জাতিক মানের সংস্থার তৈরি ফুটবলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লড়তেও সক্ষম হয়েছে।
রাজ্য সরকারের বিশেষ উদ্যোগে যার কারিগর হিসাবে বাছা হয়েছে গ্রাম বাংলার মহিলাদের। যার কাঁচামাল রাজ্য সরকার  সরবরাহ করে। এর মাধ্যমে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন গ্রাম বাংলার মেয়েরা। পূর্ব বর্ধমানের কালনা-১ নম্বর ব্লকের কেশবপুরে রাজ্যের  আরেকটি  ‘জয়ী ‘ ফুটবল তৈরির কারখানা  তৈরি হয়েছে।  সেখানেও কাজ করবেন মহিলারাই।
ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশ-বিদেশের মধ্যে চিন কনসুলেট ৮৫০টি ফুটবল অর্ডার দিয়েছে। ফুটবলের আগ্রহী দেশ জার্মানি বর্তমানে পাকিস্তান ও কোরিয়া থেকে ফুটবল কেনে। জার্মানিও বাংলার ‘জয়ী’ ফুটবলে খেলতে আগ্রহী।  তারা নমুনা নিয়ে গেছে।
প্রসঙ্গত,  বিশিষ্ট জাতীয় দলের প্রাক্তন ফুটবলার বিদেশ বসুর বাড়িও এই কেশবপুর গ্রামে। তিনিও সরকারের এই ফুটবল তৈরি সংস্থার কমিটিতে যুক্ত থেকে এই কাজকে আরও অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছেন বলে দাবি এলাকাবাসীর।
তবে এক সময় অনুন্নত এই কেশবপুরে আজ অনেকটাই পাকা রাস্তা হয়েছে হয়েছে, পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা হয়েছে, হয়েছে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও। তাই পাল্টে গেছে অর্থনৈতিক পরিকাঠামো। ফুটবল তৈরির কারখানা দিয়ে শুরু করে কেশবপুর আগামী দিন একটি ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসাবে গড়ে উঠবে, এই আশায় বুক বেঁধেছেন কালনা মহাকুমাবাসী।
এলাকার বাসিন্দা ভগবতী মজুমদার, অঞ্জলি ভট্টাচার্য, বিপাশা ভট্টাচার্য, অনিতা মজুমদার প্রমুখ জানিয়েছেন যে, সংসারের যাবতীয় কাজ সেরে দিনে যদি তিনটি করে বল তৈরি করতে পারি। তার থেকে আয় হবে প্রতিদিন ১৫০-২০০ টাকা।
সুত্রের খবর,  প্রথমে এই এলাকার ২৩৫ জন মহিলাকে নিয়ে ৭ দিনের প্রশিক্ষণ  শুরু হচ্ছে। কীভাবে ফুটবল বানানো হয় তা সেখানো হবে প্রশিক্ষণে। সেখান থেকে ২০০ জনের মতো মহিলাকে নিয়ে তিন মাসের প্রশিক্ষণ চলবে।  সেখানে কাজ করার সময় মাসে ৭৫০ টাকা করে ভাতা মিলবে। পরে বল পিছু মিলবে ৫০ টাকা। এই কারখানা  চালু হলে এলাকার মহিলারাও স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগ পাবেন এবং কাজ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন। ফুটবল তৈরির কারখানা উদ্বোধন হতেই এলাকায় খুশির হাওয়া।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here