modi prmium

ওয়েবডেস্ক: ‘মোদী প্রিমিয়াম’ কী? বিনিয়োগকারীদের মনে এমন একটা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে বিনিয়োগের সহজ এবং অভিনব কিছু মাধ্যমে যখন এই ধরনের শব্দ বন্ধ ঘুরে বেড়াচ্ছে, তখন প্ৰশ্ন জাগতে বাধ্য। মিউচুয়াল ফান্ড, এসআইপি বা ইক্যুইটিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের নতুন আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে ঠিক যে কারণে, সেখান থেকেই উৎপত্তি ঘটেছে এই ‘মোদী প্রিমিয়াম’-এর।

গত চার বছরে আরও স্পষ্ট করে বললে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সময়কালে দেশের শেয়ার বাজার থেকে শুরু করে মিউচুয়াল ফান্ডে বড়োসড়ো পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে। এক দিকে চিরাচরিত কিছু বিনিয়োগ মাধ্যম অন্য দিকে তারই সঙ্গে সংযোজিত কিছু আনকোরা পদ্ধতি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণে অব্যর্থ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের অর্থ উপার্জনকারীদের কাছে এই মাধ্যমগুলির নির্ভরযোগ্যতা অনেকটাই বেশি। ঠিক কী কারণে, জেনে নেওয়া যাক সংক্ষেপে-

sip

বিনিয়োগের হাল-হকিকত

বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যখন অন্য কোনো ক্ষেত্রের সন্ধান করছেন, তখন মিউচুয়াল ফান্ডে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাস এবং নির্ভরতা কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে তা সাম্প্রতিক প্রকাশিত পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত প্রথম ত্রৈমাসিকে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০,০০০ কোটি টাকা। যেখানে গত বছর এই একই মেয়াদের সময়কালে ছিল ২৯,০০০ কোটি টাকা। একই ভাবে সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা এসআইপি-তে মার্চ ২০১৮-র বিনিয়োগের পরিমাণ ৭,১১৯ কোটি টাকা, যেখানে মার্চ ২০১৭-র হিসাব বলছে ৪,৩৩৫ কোটি টাকা।

ইক্যুইটি বিনিয়োগ

এপ্রিল ২০১৭ পর্যন্ত এসআইপির বৃদ্ধির হার ছিল ৪৫ শতাংশ। এক বছরের মাথায় তা বেড়ে হয়েছে ৫৪ শতাংশ। ফলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের দিকে ঝোঁক বাড়াতে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও সেই প্রবণতা বিশেষ ভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।কারণ এখানে অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে হয় যা পরবর্তীকালে বিনিয়োগকারীর কাছে ফুলেফেঁপে ফেরত আসছে।

লাভদায়ী মেয়াদ

অতীত বলছে, ইক্যুইটিতে বিনিয়োগ সব সময়ই দীর্ঘ মেয়াদি বিনিয়োগের উপর লাভ দিয়ে থাকে। কম করে ৫-৭ বছর বিনিয়োগ অক্ষত রাখতে পারলে তবেই পর্যাপ্ত পরিমাণ লাভের মুখ দেখতে পান বিনিয়োগকারী। কারণ, ইক্যুইটি মার্কেটের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ঘটনাবলির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এনএসডিএলের একটি তথ্য বলছে, এপ্রিল ২০১৮-তে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এদেশের বাজার থেকে তুলে নিয়েছেন প্রায় ৫,৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ। অন্য দিকে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বাজার পেয়েছে প্রায় ৪,৩০০ কোটি টাকা। এখন অবশ্য চাকা ঘুরতে শুরু করেছে। ২০১৯-এর লক্ষ্যকে সামনে রেখে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও ফের এ দেশের বাজার নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন